অতিবর্ষণে রাঙামাটিতে সাড়ে ২৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

রাঙামাটি প্রতিনিধ: অতিবর্ষণে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার মানুষ। এতে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার বরকল উপজেলার ১০ হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্থদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে ১৭ শত ৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ও ২২৫ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহব্যাপী অতিবর্ষণে জেলার দশ উপজেলায় কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জেলার দশ উপজেলার ২৮ হাজার ৪৫২ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানাই সূত্রটি। যার মধ্যে বরকল উপজেলা ১০হাজার জন, নানিয়াচরে ৫ হাজার ১ শত ৩০ জন, বাঘাইছড়িতে ৪ হাজার ৫ শত ৬০ জন, সদরে ২ হাজার ১ শত ৩৬ জন, জুরাছড়িতে ১৮ শত ৫০ জন, কাপ্তাইয়ে ১৫ শত ১৮ জন, বিলাইছড়িতে ১২ শত ৫০ জন, লংগদুতে ১২ শত জন, কাউখালিতে ৪ শত ৮ জন, রাজস্থলীতে ৪ শতজন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলাজুড়ে খোলা হয়েছে দুই শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বৃষ্টি কমা-বাড়ার উপর র্নিভর করে আশ্রয় প্রত্যাশীরা যাওয়া আসার মধ্যে রয়েছে। সপ্তাহব্যাপী বর্ষণের পর বৃষ্টি কমে যাওয়ায় উপজেলাগুলোর ফসলী জমি, বাড়ি ঘর থেকে নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি।

বন্যার পানি নামতে শুরু করায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমানে প্রসারতা বুঝা যাচ্ছে। অতিবৃষ্টির ফলে জেলার কাপ্তাই, নানিয়াচর, কাউখালি, বাঘাইছড়ি, রাজস্থলীসহ বেশ কয়েকটি উপজেলায় আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৌসুমী শাক-সবজি, ফল-ফলাদি এবং জুম ফসলের।

ক্ষতির তালিকায় শুধু ফসল নয় রয়েছে, জেলার বিভিন্ন বাড়িঘর, রাস্তাঘাটসহ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্নস্থানে রাস্তাঘাট ভেঙ্গে ৭ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে রাঙামাটি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি বান্দরবান বাস চলাচল। রাঙামাটি চট্রগ্রাম সড়কে কালাবাগান এলাকায় প্রায় ৩০ ফুট রাস্তা ভাঙন ঝুঁকিতে থাকায় ভারী যানবাহন চলাচলে বেগ পেতে হচ্ছে।

অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে ত্রাণ প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক এস এম শফি কামাল।

তিনি আরও জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবক টিম প্রস্তুত রয়েছে। রাস্তাঘাট সচল করতে যথাযথ কৃর্তপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: চট্টগ্রাম,সারাদেশ