নির্বাচিত খবর

অনশনরত পাটকল শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার আহবান

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম: অনশনরত রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ, ঘোষিত মজুরি বাস্তবায়ন ও পাটকলের আধুনিকায়ন করে পাটশিল্প রক্ষার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট।

বুধবার (১ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল এ দাবি জানায়।

সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্বাধীনতাপূর্ব ৭৫টি পাটকল থেকে সরকারের বেসরকারি নীতির ফলে বর্তমানে ২৫টি কারখানা কোন মতে টিকে আছে। যে পাটকল এক সময় দেশের রফতানি আয়ের প্রধান খাত ছিল, দেশের গৌরব ছিল; আজকে তা সরকারের ভূলনীতি ও দুর্নীতির কারণে ধ্বংস হতে চলেছে।’

বক্তারা বলেন, ‘পাটকলগুলো চলছে শত বছরের পুরনো মেশিন দিয়ে। যার উৎপাদন ক্ষমতাও অনেক কম। শ্রমিক আন্দোলনের পক্ষ থেকে পাটকল আধুনিকায়ন করে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পাটের বহুমুখী উৎপাদনের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু সরকারের বেসরকারিকরণ নীতির ফলে তা করা যাচ্ছে না। রাষ্ট্রায়ত্ব পাটখাতকে অলাভজনক ও দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুকিপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করার জন্যই সরকার ধীরে চলনীতি গ্রহণ করছে। সরকারের এই চক্রান্তমূলক নীতির কারণে পাটকল শ্রমিকদের মজুরি মাসের পর মাস আটকে রাখা হচ্ছে। ২০১৫ সালে ঘোষিত মজুরি আজও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। সরকার পাটকল শ্রমিকদের সাথে চুক্তি করেও তা বাস্তবায়ন করছে না।’

তারা আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে বকেয়া মজুরি ও মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে অনশনে ২ জন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেছে। কিন্তু সরকার এক দেশে দুই নীতি নিয়ে চলছে। সরকারি কমকর্তা-কর্মচারিরা দেশে সরকারি কোন উৎপাদন কর্ম না করেও ২০১৫ সাল থেকে পে-স্কেলে নতুন বেতন পাচ্ছেন, কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ব খাতের শ্রমিকরা উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড করেও ২০১৫ সালে ঘোষিত মজুরি কাঠামো পাচ্ছে না।’

বক্তারা অবিলম্বে পাটকল শ্রমিকদের ১১ দফা বাস্তবায়ন, বকেয়া মজুরি পরিশোধ, ২০১৫ সালে ঘোষিত মজুরি বাস্তবায়ন এবং পাটকল আধুনিকায়ন করে পাটশিল্পকে দুর্নীতি-লুটপাটের হাত থেকে রক্ষা করার দাবিতে দেশের সকল শ্রমজীবী মেহনতী মানুষের প্রতি আহবান জানান।

সমাবেশে উপস্থিতি ছিলেন সংগঠনের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, বজলুর রশীদ ফিরোজ, শ্রমিক ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, কোষাধ্যক্ষ জুলফিকার আলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু নাঈম খান বিপ্লব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস প্রমুখ।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি