অভিযোগ ‘বানোয়াট-ভিত্তিহীন-ষড়যন্ত্রমূলক’: ছাত্রলীগ নেতা তুষার

রাজনীতি ডেস্ক: সংগঠনের গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং নবগঠিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সভাপতি পদপ্রাপ্ত মাহমুদুল হাসান তুষার। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতারাও।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বেঁধে দেয়া নির্ধারিত সময়ের আগেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে মাহমুদুল হাসান তুষার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে এগুলো ষড়যন্ত্রের অংশ। এটি একটি মীমাংসিত বিষয়। এর আগেও আমার বিরুদ্ধে এসব বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু কেউ কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করতে পারেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের ষড়যন্ত্র আগেও করা হয়েছিল। তখন সব তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন থেকে শুরু করে সাংগঠনিক যাচাই বাছাই এরপর আমাকে হল কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয়।’

এদিকে মাহমুদুল হাসান তুষারের বিরুদ্ধে পদবঞ্চিতদের অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তার নিজ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতারা। এ বিষয়ে তুষার বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ সবাই আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দাও জানিয়েছে।’ কোনও তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে কেউ এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে সেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে তুষারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তুষার যে কলেজে পড়াকালীন শিবিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছে সেই কলেজ শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তুষারের নিজ এলাকার ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তার ফেসবুক একাউন্টে লিখেন, (হবহু) আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে চট্টগ্রাম কলেজের গর্ব, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নব নির্বাচিত সহ-সভাপতি Mahmudul Hasan Tushar এর বিরুদ্ধে। যারা এখনো ওর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন তাদের বিনয়ের সাথে বলছি শুনুন, তুষারকে আমি ২০১০ সাল থেকে চিনি। সেই সময়ে শিবির যখন বারবার আমার উপর আক্রমণ করতেছিল তখন যে কজন আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছে, পাশে দাড়িয়েছে তার মধ্যে তুষার একজন।

আপনারা যারা তুষারকে নিয়ে নোংরা খেলায় মত্ত, আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ প্লিজ একজন আপাদমস্তক মুজিবপ্রেমীককে নিয়ে এভাবে আর নোংরামি করবেন না। এতে করে জাতির পিতার আদর্শ কষ্ট পাবে। এনএসআই, ডিজিএফআই সহ সব রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কে দিয়ে তুষারকে ভেরিফাই করেছেন। তারপরও কেন অযথা একজন প্রকৃত মুজিবপ্রেমীকে একাত্তরের প্রেতাত্মা বানানোর চেষ্টা করছেন??? ভয় নেই তুষার তোমার আদর্শ কি তা আমরা চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ জানি। জাতির পিতার আদর্শ, প্রেরণা, তোমায় নিয়ে যাবে বহুদূর,,,,, তোমার চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ তোমার সাথে আছে তোমায় প্রেরণা জোগাতে,,,!!!

চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ লিখেন, (হুবহু) একজন মুজিব সৈনিক বনাম একটি ম্যাগাজিনের গল্প ছেলেটির নাম মাহামুদুল হাসান তুষার, সহ-সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কার্যনির্বাহী সংসদ। ২০১০ সালের ম্যাগাজিনে ছবি সংবলিত যে লেখা সেটা ছিল দীর্ঘ ২৭ বছরের ধারাবাহিক কলেজ প্রশাসনিক ম্যাগাজিন।

যেটা মূলত ছাত্র শিবিরের ম্যাগাজিন নয়, যে ইসুটাকে পুঁজি করে একজন মুজিব সৈনিককে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় তারা আধো কতটুকু মুজিব আদর্শ ধারণ করে সেই বিষয়ে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ আদৌ সন্ধিহান। মাহামুদুর হাসান তুষার আমার চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্রলীগের ছোট ভাই। তাই এই বিষয়ে কোন ধরনের ষড়যন্ত্র চট্টগ্রাম কলেজ মেনে নেবে না।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ফেসবুকে লিখেন, মাহমুদুল হাসান তুষার। ষড়যন্ত্রকারীরা আবারো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তুষার চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের দুঃসময়ের কর্মী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়নে সে ছিল অবিচল।ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়ে আপনি এগিয়ে যাবেন সামনের দিকে এই প্রত্যশা করি। একজন বিনয়ী, ভদ্র, নিবেদিত প্রাণ কর্মীকে ব্ল্যাম দিয়ে সংগঠনের ক্ষতি করবেন না…..।

একই পোস্ট নিজের ওয়ালে লিখেন সন্দ্বীপ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান সুমন।

সূত্র: ব্রেকিংনিউজ/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি