আপনি কি কিছুই জানতেন না, মানুষ কি নাটক-তামাশা বোঝে না?: প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম : সরকারের লাগামহীন অনিয়ম-দুর্নীতি, লুটপাট-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আপনার (শেখ হাসিনা) চারপাশে এতসব ঘটে যাচ্ছে, আপনি কি কোনদিন তাকিয়েও দেখেননি কি ঘটছে? আপনার কি কোনও কিছুই জানা ছিল না এতদিন? আপনি কি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন? আপনাদের এসব নাটক-তামাশা মানুষ কি বোঝে না?’

বর্তমান সরকারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একটা সাদা পাঞ্জাবির মধ্যে যদি একটি দাগ থাকে তাহলে সেটা বোঝা যাবে, কিন্তু পুরো কাপড় যদি দাগে ভরা থাকে তাহলে সেটা তো আর বোঝা যাবে না- এটা কাপড়ের রং কি না। আওয়ামী লীগের পুরো কাপড়টা ময়লা-দুর্নীতিতে ভিজে আছে।’

সভা-সমাবেশকে গণতন্ত্রের অন্যতম দিক উল্লেখ করে রিজভী বলেছেন, ‘মধ্যরাতের সরকার এখন জনতার ভিড় দেখলেই ভয় পায়, আতঙ্কিত হয়ে উঠে। কারণ তারা তো জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি, তাই জনগণ একত্রিত হলেই ভাবে- ‘কি জানি, লোকজন আমাদের দিকে ধেয়ে আসে কিনা’! তাইতো মিছিল সমাবেশে তারা অনুমতি দিতে চায় না। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গলাটিপে হত্যা করতে চায়।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘লোক দেখানো দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়ে আপনাদের (সরকার) অপকর্ম মধ্যরাতের নির্বাচন, ভোট ডাকাতি ধামাচাপা দিতে পারবেন না। কারণ, আপনারা অবৈধ সত্তা নিয়ে ক্ষমতায় বসে আছেন, মধ্যরাতের নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় আছেন।’

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ওলামা দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘এদেশের কোটি মানুষের শ্রদ্ধার পাত্র যিনি, কোটি মানুষের পক্ষের মুখপাত্র যিনি সেই মহীয়সী নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার ভয়ে বন্দি করে রেখেছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলে মিছিল হবে জনসমাবেশ হবে। কিন্তু সরকার অনেক লোক একত্রিত হলেই এখন ভয় পায়।’

সম্প্রতি বিএনপির একাধিক বিভাগীয় সমাবেশে অনুমতি দেয়া নিয়ে প্রশাসনের টালবাহানার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর জনসভায় নেতাকর্মীরা নাটোর থেকে আসবে, বগুড়া থেকে আসবে, সিরাজগঞ্জ থেকে আসবে, পাবনা থেকে আসবে। অথচ সরকার মনে মনে ব্যথা দিয়ে জনসভাকে দুর্বল করতে চেয়েছে। কিন্তু জনতার সেই স্রোত মাটি কিংবা লোহার বাঁধ দিয়েও আটকে রাখতে পারেনি সরকার। পথে পথে বাধা গ্রেফতার অতিক্রম করে জনগণ জনসভা সফল করেছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কত খেলা কত গল্প? তাদের হাতে পুলিশ তাদের হাতে র‌্যাব। কিন্তু তাও নাকি একটি লোককে খুঁজে পাচ্ছে না। সম্রাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, এই করা হচ্ছে সেই করা হচ্ছে এই তামাশা কেন? এটা কি মানুষ বোঝে না? এতগুলো ক্যাসিনোর ভাগ কাদের পকেটের যেতো? এখন রাষ্ট্র ক্ষমতা জোর করে ধরে রেখে গণমাধ্যমের ওপর চাপ প্রয়োগ করে অনেক কথা বলতে পারেন। আরে বিএনপিকে তো হামলা-মামলা, খুন-গুম নির্যাতন ভিটেমাটি বিক্রি করে সরকারের এই নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে।’

শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, ‘আপনি প্রধানমন্ত্রী এখন আমেরিকা থেকে বলছেন দুর্নীতির জন্য উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আপনি কেমন প্রধানমন্ত্রী- গরিব মানুষের হকের টাকা যায় ত্রাণের তহবিলে। সেখানে মাত্র চার টাকা ভাগে পড়ে গরিবের, আর আপনার থানার লোক দলের ওয়ার্ড লেভেল একেকটা নেতাকর্মীর চার-পাঁচটা করে বাড়ি। আপনি কি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন? আপনি কি কোনদিন তাকিয়ে দেখেননি কি ঘটছে চারপাশে? মানুষ কি এসব বোঝে না?’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, ‘আজকে বেগম পল্লী কার? নাম ধরে কি বলব এরকম পল্লী কার? আপনি কি এটা শুনেন নি? আপনি কি এটা জানতেন না? অথচ বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দের টাকা দিয়ে মন্ত্রীরা ভোগবিলাস করছেন, পরিদর্শনে-ভ্রমণে যাচ্ছে, বড় বড় পুটি মাছ খাচ্ছেন।’

রিজভী আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি কি জানতেন না- পার্লামেন্টে আপনার এক এমপি বললেন ওই মিরপুরে বাড়ি বিক্রি করে নির্বাচন করেছেন ২০০৮ এ। আবার সেই এমপি বললেন যদি সরকারি টাকা না থাকে তবে আমি নয়াবাজার থেকে গাবতলী পর্যন্ত আমার টাকা দিয়ে ফ্লাইওভার করে দিবো। সেদিন তো আপনি বললেন না, ‘আপনি বাড়ি বিক্রি করে নির্বাচন করছেন এত টাকা কোথা থেকে এলো?’ আপনি তাদেরকে পালন করছেন, আপনি তাদেরকে ভরণপোষণ করেছেন। আপনি তাদের ফুলেফেঁপে ওঠার সুযোগ দিয়েছেন, আর এখন মাছ দিয়ে শাক ঢাকার চেষ্টা করছেন। শাকের ফাঁকফোকর দিয়ে জনগণ কিন্তু ঠিকই সেই মাছ দেখতে পাচ্ছে। মৃগেল মাছের টুকরা ইলিশ মাছের টুকরা কিন্তু জনগণ দেখে ফেলেছে।’

আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা নেসারুলহকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মিলাদ মাহফিলে বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, ওলামা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজা, তাঁতীদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, ওলামা দল নেতা মো: মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।-ব্রেকিংনিউজ

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি