নির্বাচিত খবর

আলবদর কমান্ডার আজহারুলের মৃত্যুদণ্ড বহাল

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রংপুরের আলবদর কমান্ডার এটিএম আজহারুল ইসলামের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি নুরুজ্জামানের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর আসামিপক্ষে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এর আগে গত ১০ জুলাই প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষামান (সিএভি) করেন।

ওইদিনও এটিএম আজহারুলের পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন আপিলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তির জবাব দেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাত্তরে রংপুর জেলা আলবদর বাহিনীর কমান্ডার এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ৯ ধরনের ৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে ৫টি ও পরিকল্পনা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) প্রমাণিত হয় তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা চালিয়ে অন্তত ১৪০০ লোককে হত্যা ও ১৪ জনকে খুনের অপরাধে তার বিরদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে।ব্রেকিংনিউজ

এছাড়াও ওই অঞ্চলের বহু নারীকে রংপুর টাউন হলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্রে ধর্ষণের জন্য তুলে দেয়ার অভিযোগে এই আলবদর কমান্ডারকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপহরণ ও আটক রেখে নির্যাতনের আরেকটি ঘটনায় ৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১৩ যুক্তিতে এটিএম আজহারকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে আপিল করেন তার আইনজীবীরা।

আজহারুল ইসলাম ১৯৬৮ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে মেট্রিক পাস করে রংপুর  কারমাইকেল কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন জামায়াতের তৎকালীন ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে আলবদর বাহিনীর রংপুর শাখা কমান্ডারের দায়িত্ব পান আজহার। একাত্তরে পাকসেনাদের সহায়তা করতে শীর্ষ জামায়াত নেতাদের তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলা হয়েছিল সশস্ত্র আলবদর বাহিনী।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: জাতীয়