ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প-সুনামি: গির্জায় মিলল ৩৪ শিক্ষার্থীর লাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভূমিকম্প এবং তা থেকে সৃষ্ট সুনামিতে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপ রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া। দেশটির সুলাওয়েসি দ্বীপে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের পরেই আছড়ে পড়ে ৩ মিটার উচু (১০ ফুট) সুনামি। এতে বহু বাড়ি-ঘর, ভবন, মসজিদ, হাসপাতাল মাটির সাথে মিশে গেছে। ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনও কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

এদিকে, মঙ্গলবার (২ অক্টোবর) পালু শহরের একটি গির্জার ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে ৩৪ শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভূমিকম্প থেকে ভূমিধসের কারণে ওই শিক্ষার্থীরা গির্জার নিচে চাপা পড়েছিলেন।

ইন্দোনেশিয়ার রেডক্রসের নারী মুখপাত্র আউলিয়া আরিয়ানি মঙ্গলবার জানান, একটি উদ্ধারকারী দল মোট ৩৪টি লাশ পেয়েছে। বার্তা সংস্থা ‘এএফপি’ এ খবর প্রকাশ করেছে।

আরিয়ানি জানান, ভূমিকম্পের পর সিজি বিরোমারু জেলার জোনুজ চার্চ ট্রেনিং সেন্টারের একটি বাইবেল প্রশিক্ষণ শিবিরের ৮৬ শিক্ষার্থী নিখোঁজ ছিল। উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত কঠিন ও দুরূহ বাধা অতিক্রম করে লাশগুলোর কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন কাজটি ছিল কর্দমাক্ত পথে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় পায়ে হেঁটে লাশগুলো বহন করে অ্যাম্বুলেন্সের কাছে নিয়ে আসা।’

গত ২৮ সেপ্টেম্বর( শুক্রবার) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার একটু আগে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। মার্কিন ভূতাত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এ তথ্য জানিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় অবস্থিত। বলা হয়, এটি ‘রিং অব ফায়ার’ এর ওপর অবস্থিত। ‘রিং অব ফায়ার’ হলো ঘন ঘন ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের লাইন যাকে কেন্দ্র করে পুরো প্রশান্ত বৃত্ত ঘূর্ণায়মান।

২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছে সাগরে ভূমিকম্পের পর এক সুনামিতে ভারতীয় মহাসাগরের আশপাশের দেশে প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার লোক নিহত হয়। এর মধ্যে শুধু ইন্দোনেশিয়াই মারা যায় ১ লাখ ২০ হাজার লোক।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: আন্তর্জাতিক