‘উন্নয়ন বিবেচনায় জনগণ নৌকায় ভোট দিবে’

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট: বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেক বলেছেন, ‘দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে আজ উন্নয়নের বন্যা। যে দিকে তাকানো যায় সেদিকেই উন্নয়ন। কি ঘরে, কি বাইরে। এমন কি বিদেশও বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে।’

মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু পরিষদ উদ্যোগে ‘কেন জনগণ নৌকায় ভোট দিবে’-শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

এস এ মালেক বলেন, ‘দেশের গরিব,বিধবা এবং তরুণ-যুবকদের দিতে তাকালে কোথাও উন্নয়নের ঘাটতি পাবেন না। এ সব বিবেচনা করেই জনগণ নৌকায় ভোট দেবে। আর নৌকায় ভোট দেয়া মানে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করা। তাকে ক্ষমতায় বসানো।’

তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনে এবং তার আগের নির্বাচনে তাকে ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আনার ফলে তিনি বাংলাদেশের মূল চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। চারিদিকে শুধু উন্নয়ন আর উন্নয়ন।’

তিনি আরও বলেন, ‘৭৫ এর প্রতিবিপ্লবের মহা বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশ সবকিছু যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ বিরোধী, সেই মহাসংকটে বঙ্গবন্ধুর স্থলে অভিষিক্ত হন তাঁরই কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি স্বাধীনতা বিরোধী ধারা থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফেরানোর জন্য মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। দেশকে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যান।’

এস এ মালেক বলেন, ‘এদেশের জনগণ বুঝে গেছে শেখ হাসিনা মানেই উন্নয়ন, সমৃদ্ধি, পরিবর্তন ও শান্তি।’

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সষ্ট্রা আর তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা দেশের চরম মূহুর্তে ত্রাণকর্তা এমনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইতিহাস এই সত্যকে ধারণ করে অগ্রসর হবে। নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জঙ্গীগোষ্ঠি এবং তাদের সাথে যোগ দেয়া নব্য গোষ্ঠি তাদের পরাজয় সুনিশ্চিত ভেবে নির্বাচনের রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের যড়যন্ত্রের জাল কতদূর বিস্তৃত তা বলা যাবে না। তবে সতর্ক থাকতে হবে।’

সাবেক ভিসি আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘গত দশ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভাবে প্রশাসন চালিয়েছেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন করেছেন, দেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার লাঘব করেছেন। গণতন্ত্রের সুফল বয়ে এনেছেন, দেশে আইনের শাসন কায়েম করেছেন। দেশপ্রেমের স্বাক্ষর রেখেছেন এসব উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতেই জনগণ তাকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাবে। নৌকা মার্কায় ভোট দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সততা। সততা না থাকলে রাজনীতিতে কেউ বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। দেশপ্রেম না থাকলে রাজনীতিতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়াতে পারে। দেশপ্রেম না থাকায় বিএনপির নেতারা ওই ভাবেই জড়িয়েছে। তাই নির্বাচনে তাদের পরিহার করুন এবং আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করুন।’

ঢাবি ভিসি আখতারুজ্জামান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন হলো দৃশ্যমান। সারাবিশ্ব জানে বাংলাদেশ কোন পথে এগিয়ে যাচ্ছে। অতীতে বিএনপিকে ভোট দিয়ে জনগণ বুঝতে পেরেছে তাদের ভুল হয়েছিল। কারণ বিএনপির সময় দেশ দুর্নীতিতে হ্যাট্রিক করেছিল। আজ তারা জোট বেধেছে জামায়াত-রাজাকার আলবদরদের সঙ্গে।’

তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে আমরা কখনই ঐক্যমত পোষণ করবো না। নির্বাচনে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনার ব্যবস্থা করে নৌকা প্রতীকে সীল মারার বিষয়টি তাদের মাথায় ঢুকাতে হবে। কেননা বিএনপি-জামায়াত গোষ্ঠি ক্ষমতায় এলে দেশে আগুন সন্ত্রাস কায়েম করবে।’

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেক সভাপ‌তি‌ত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জগন্নাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মীজানুর রহমান, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. আলাউদ্দিন প্রমুখ।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: জাতীয়