নির্বাচিত খবর

করোনা রোধে ইতালিতে দেড় কোটি মানুষ অবরুদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। এ অবস্থায় দেশটির সরকার দেশের উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকাকে লকডাউন (অবরুদ্ধ) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উত্তর ইতালির লম্বার্দি অঞ্চলসহ এবং ১৪ প্রদেশে অন্তত এক কোটি ৬০ লাখ মানুষকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

এপ্রিল মাসের প্রথম দিক পর্যন্ত এ অবস্থা বিদ্যমান থাকবে। দেশটিতে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দ্রুত বাড়তে থাকায় জিম, পুল, মিউজিয়াম এবং স্কি রিসোর্টও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

উত্তর ইতালির লম্বার্দি অঞ্চল, যেখানে এক কোটি মানুষের বাস, দেশটির অর্থনৈতিক কেন্দ্র মিলান এবং পর্যটন নগরী ভেনিস, পার্মা, রিমিনি ও মোদেনাসহ ১৪টি প্রদেশে জরুরি কারণ ছাড়া প্রবেশ বন্ধ থাকবে। এতে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ।

এই ভাইরাসে ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নিহত হয়েছে ৩৬ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৪৭ জন। এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৮৮৩।

এছাড়া করোনা ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ জন। শুধু চীনেই মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৯৭ জন। চীনের বাইরে নিহত হয়েছে ৫০৩ জন।

এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬ হাজার ১৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৬৯৬ জন। চীনের বাইরে ২৫ হাজার ৪৭১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ হাজার ৩৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এখন পর্যন্ত মোট ৬০ হাজার ১৯০ জন সুস্থ হয়েছে।

রবিবার সকালে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, চীনে নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৫ জন এবং মারা গেছে ২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৮০ হাজার ৬৯৬ জন এবং মারা গেছে ৩ হাজার ৯৭ জন।

হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান, সেখানাকার একটি জীবন্ত প্রাণী বিক্রির বাজার থেকে ভাইরাসটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীন হুবেই প্রদেশকে পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ওই অঞ্চলের সাথে সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ আক্রান্তের খবর আসছে, তাতে আক্রান্তের আসল খবর জানা যাচ্ছে না।কারণ, ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, শুধু তাদের হিসেব পরিসংখ্যানে ধরা হচ্ছে। তাই এর প্রকৃত হিসেব বের করা বা জানা খুবই কঠিন ব্যাপার, যা আরেকটি আশঙ্কার কারণ।

চীনের সবগুলো প্রদেশসহ বিশ্বের ১০৩টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। চীনের বাইরে এ পর্যন্ত ২৫ হাজার ৪৭১ জন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭ হাজার ১৩৪ জন। যা চীনের বাইরে সর্বোচ্চ।

ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীন ভ্রমণে সতর্কতা, নিষেধাজ্ঞা জারি এবং কড়াকড়ি আরোপ করেছে অনেক দেশ। ভারত, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশ চীন থেকে আগত যাত্রীদের ভিসা বাতিল করেছে।ভাইরাসের কারণে, বিশ্বের অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। চীনে অধিকাংশ বিমান সংস্থার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্সসহ আরও অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের চীন থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।

এছাড়া, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে (কোভিড-১৯) চীনে ৮ স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চীনে ৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এ তথ্য জানিয়েছেন।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের সহকারী পরিচালক জেং ইজিন জানান, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এরইমধ্যে ৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৩ হাজার জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। যা ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্ত রোগীদের ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। এর মধ্যে হুবেই প্রদেশে রয়েছে ২ হাজার ৫০২।

গত ডিসেম্বরে চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা।এখন পর্যন্ত চীনের বাইরে বিশ্বের ১০৩টি দেশে ২৫ হাজার ৪৭১ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুধু চীনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৬৯৬ জন।

যেসব দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে-

নিহত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে ইটালিতে ২৩৩, ইরানে ১৪৫, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৫০, যুক্তরাষ্ট্র ১৯, ফ্রান্স ১৬, স্পেন ১০, জাপান ৬, ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজে ৬, ইরাক ৪, হংকং ২, অস্ট্রেলিয়া ৩, যুক্তরাজ্য ২, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, সান ম্যারিনো, আর্জেন্টিনা ও তাইওয়ানে ১ জন করে।

যেসব দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে-

চীনে ৮০ হাজার ৬৯৬ জন, দক্ষিণ কোরিয়া ৭ হাজার ১৩৪, ইটালি ৫ হাজার ৮৮৩, ইরান ৫ হাজার ৮২৩, ফ্রান্স ৯৪৯, জার্মানি ৮০০, স্পেন ৫২৫, জাপান ৪৬১, যুক্তরাষ্ট্র ৪৩৮, সুইজারল্যান্ড ২৬৮, যুক্তরাজ্য ২০৯, নেদারল্যান্ড ১৮৮, বেলজিয়াম- ১৬৯, সুইডেন ১৬১, নরওয়ে ১৫৬, সিঙ্গাপুর ১৩৮, হংকং ১০৮, মালয়েশিয়া ৯৩, বাহরাইন ৮৫, অস্ট্রিয়া ৮১, অস্ট্রেলিয়া ৭৫, গ্রীস ৬৬, কুয়েত ৬১, কানাডা- ৬০, ইরাক ৫৪, থাইল্যান্ড- ৫০, আইসল্যান্ড ৫০, মিশর ৪৮, তাইওয়ান ৪৫, আরব আমিরাত ৪৫, ভারত ৩৪, লেবানন ২৮, ডেনমার্ক ২৭, সান ম্যারিনো ২৬, চেক রিপাবলিক ২৬, ইজরাইল ২৫, পর্তুগাল ২১, ভিয়েতনাম- ২০, আলজেরিয়া- ১৯, ব্রাজিল ১৯, ফিনল্যান্ড ১৯, আয়ারল্যান্ড ১৯, প্যালেস্টাইন ১৯, ওমান- ১৬, রাশিয়া ১৫, ইকুয়েডর ১৪, জর্জিয়া ১৩, রোমানিয়া ১৩, ক্রোয়েশিয়া ১২, কাতার ১২, স্লোভেনিয়া ১২, ম্যাকাও ১০, এস্তোনিয়া ১০, আজারবাইজান ৯, আর্জেন্টিনা ৯, সৌদি আরব ৮, চিলি ৮, বেলারুশ ৬, মেক্সিকো ৬, পাকিস্তান ৬, ফিলিপাইন ৬, পেরু ৬, পোল্যান্ড ৬, নিউজজিল্যান্ড ৫, হাঙ্গেরি ৫, ফ্রেন্স গায়ানা ৫, আফগানিস্তান ৪, ইন্দোনেশিয়া ৪, সেনেগাল ৪, লুক্সেমবার্গ ৩, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া ৩, বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা ৩, মাল্টা ৩, স্লোভাকিয়া ৩, কম্বোডিয়া ২, ডমিনিকান রিপাবলিক ২, মরোক্কো ২, বুলগেরিয়া ২, ক্যামেরুন ২, ফারো আইল্যান্ড ২, মালদ্বীপ ২, দক্ষিণ আফ্রিকা ২, অ্যান্ডোরা, আর্মেনিয়া, জর্ডান, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, মোনাকো, নেপাল, নাইজেরিয়া, শ্রীলঙ্কা, তিউনিশিয়া, ইউক্রেন, ভুটান, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, জিব্রাল্টার, ভ্যাটিকান সিটি, লিচেনস্টেইন, মালদোভা, প্যারাগুয়ে, সার্বিয়া ও টোগোতে ১ জন করে। এর বাইরে ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজে ৬৯৬ জন।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: আন্তর্জাতিক