খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আ.লীগের অপরাজনীতির খপ্পরে পড়বে না বিএনপি

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম: কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাঁর সুচিকিৎসা নিয়ে আওয়ামী লীগের অপরাজনীতির খপ্পরে বিএনপি পড়বে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হােসেন আলাল।

তিনি বলেন, ‘আমরা কর্মসূচির মাধ্যমে সব জায়গায় সমান্তরাল অবস্থান করতে পারলেই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবো। কারণ তিনি হচ্ছেন গণতন্ত্রের প্রতীক। তাঁকে মুক্ত করতে পারলেই গোটা বাংলাদেশ কারাগার থেকে মুক্তি পাবে।’

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম নামক একটি সংগঠনের আয়োজনে ‘প্রতিহিংসার বিচারে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অনতিবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে’ প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আজকে অনেক কিছু বাদানুবাদ হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে সাংবাদিকরা গেলে ওবায়দুল কাদেরের কাছ গেলে একরকম, এইচটি ইমামের কাছে গেলে একরকম আর হাছান মাহমুদের কাছে গেলে আরেক রকম কথা। তাহলে বিএনপির মধ্যে দুই-তিন রকম হলে অসুবিধা কোথায়। কৌশলকে পরাস্ত করতে হলে আগে ওই কৌশলকে আয়ত্ত করতে হবে। তারপরে নতুন কৌশল ঠিক করতে হবে, এটাই হচ্ছে নিয়ম। বিএনপি সেই দিকে আছে কিনা সেটাই হচ্ছে দেখার বিষয়।’

যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘এখানে সব কিছুই চাইতে হয়, চাওয়ার কাজও চলবে আইনি লড়াইও চলবে। যেই দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ না পেলে একটা চোরও ধরে না; চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী সামনে দিয়ে চলে যায়, আর পুলিশ অপেক্ষায় থাকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেন কি-না। যেই দেশে সিটি করপোরেশন মশার ওষুধ ছিটাবে কি-না সেটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় থাকতে হয়। যেই দেশে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসা দেশে হবে না বিদেশে হবে সেটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দরকার হয়, সেই দেশে চাইতেও হবে আইনি লড়াইও করতে হবে।’

আলাল বলেন, ‘বিভ্রান্ত হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। আমাদের মনে আবেগ যতো কিছুই থাকুক না কেন বাস্তবতা হচ্ছে এই একজনের (প্রধানমন্ত্রী) কাছে সকল নির্দেশনা গিয়ে আটকা পড়েছে। ক্যাসিনো নিয়ে আজকে পুলিশ সংস্থার লোকেরা বলছে আমরা তথ্য দিয়েছি, গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা বলছে আমরা তথ্য দিয়েছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। গোয়েন্দা সংস্থা বলে আমরা ২০১৭ সালে রিপোর্ট দিয়েছি, তারপরও ক্যাসিনো সরঞ্জাম ধরা পরে নাই। যেদিন প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেন তার পর ধরা পড়েছে।’

আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম. জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হােসেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ওলামা দলের আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল শাহ মোহাম্মদ নেসারুল হক, তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ বক্তব্য দেন।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি