গরুর ‘স্লিপ’ নিতেই লাগে ২০-৩০ হাজার টাকা

রংপুর প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী আঙ্গরপোতা দহগ্রামের পশুর হাট সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে পড়েছে। উৎকোচ ছাড়া স্থানীয়রা তাদের নিজেদের পালিত গরুও বাজারে বিক্রয় করতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিক্রেতা ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ইউনিয়নপরিষদের সদস্যদের নিয়ে সিন্ডিকেট করে গরু বিক্রয়ের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছেন। স্থানীয় ওসমান গণি নামে এক ব্যক্তি কথিত লাইনম্যান নিয়োগ দিয়ে ওই চেয়ারম্যান এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। ফলে সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে পড়েছে এখানকার বিক্রেতারা।

দহগ্রামের ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জনপ্রতিনিধিদের নিকট থেকে একটি গরু বিক্রয়ের স্লিপ নিতে গেলে ২০ হাজার টাকা দিতে হয়। তা না হলে মিলবে না গরু বিক্রয়ের স্লিপ। এর ফলে সুবিধা নিচ্ছে ভারতীয় গরু পাচারকারীরা। তারা ২০ হতে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে গরু বিক্রয়ের স্লিপ নিয়ে ভারতীয় গরু পাচার করছেন।

এদিকে উৎকোচ না দেয়ায় স্লিপের অভাবে নিজেদের পালিত গরু বিক্রয় করতে পারছেনা স্থানীয়রা। ফলে তারা পড়ছে ভোগান্তিতে।

এ ব্যপারে দহগ্রাম ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রামের রহমান বিশ্বাস ও তার স্ত্রী রহিমা খাতুন বলেন, ‘ইউপি সদস্য আমজাদ খাঁর কাছে গরু বিক্রয়ের স্লিপ আনতে গেলে দুইটি গরুর জন্য ৩০ হাজার টাকা উৎকোচ চায়। টাকা দিতে না পারায় ৪ মাসেও মিলেনি পালিত গরু বিক্রয়ের স্লিপ।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গরু বিক্রয় করতে না পারায় অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় তাদের মেয়ে শাহিনুর খাতুন।’

একই গ্রামের ইছাহকের পুত্র সাইদুল ইসলামেরও একই অভিযোগ। তিনি জানান, নিজের পালিত গরু নিজের ইচ্ছায় বিক্রি করতে না পারার যন্ত্রণার কথা।

তবে দহগ্রাম ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেন খাঁ টাকার বিনিময়ে গরু বিক্রয়ের স্লিপ দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আব্দুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন শুধুমাত্র একদিন এসেছিল গরু বিক্রয়ের স্লিপের জন্য। এরপরে আর কোনো দিনও আসেনি।’

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে কিছু কিছু ক্রুটি তো আছেই।’

এ ব্যাপারে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ. করিম বলেন, ‘দহগ্রামে গরু বিক্রয়ের স্লিপের সিন্ডিকেটের বিষয়টি শুনেছি। তবে যতদ্রুত সম্ভব তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রংপুর,সারাদেশ