গুলশানে জঙ্গি হামলা মামলার রায় ২৭ নভেম্বর

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম: দেশের বহুল আলোচিত রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার ঘটনার দায়ের করা মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। শুনানি শেষে আগামী ২৭ নভেম্বর (বুধবার) রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছে আদালত।

আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রবিবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ দিন ধার্য করেন।

৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানির পর আজ (১৭ নভেম্বর) আসামিপক্ষের শুনানি হয়। এদিন সকালে এই মামলায় গ্রেফতার ৮ আসামিকে হাজির করা হয়। আসামিদের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।

৮ আসামি হলেন- হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে রাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। তাদের সকলেই কারাগারে রয়েছে।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। গত বছরের ৮ আগস্ট আট জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত। গত বছরের ২৩ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির সিএমএম আদালতের জিআর শাখায় মামলাটির অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে আসামি ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। নিহত ১৩ জনের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানে এবং ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে দেশি-বিদেশি অনেককে জিম্মি করে জঙ্গিরা। পরের দিন সকালে সেনা কমান্ডো অভিযানে জিম্মিদশার অবসান হয়। তার আগেই ১৭ বিদেশি নাগরিক ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। আহত হন অনেকে। ভোরে সেনা কমান্ডো অভিযানে সন্দেহভাজন ৫ জঙ্গি ও রেস্তোরাঁর এক কর্মী নিহত হন।

এই ঘটনায় ওই বছরের ৪ জুলাই নিহত ৫ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে গুলশান থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে পুলিশের ঢাকা মহানগর কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: আইন-আদালত