নির্বাচিত খবর

চোরের ভয় গৃহস্থে, আওয়ামী লীগের ভয় খালেদা জিয়াকে: রিজভী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে। দেশের সর্বস্তরের মানুষের অব্যাহত দাবির পরও সম্পূর্ণ নিরপরাধ দেশনেত্রীকে প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে কারারুদ্ধ করে রেখেছে সরকার। তাদের (আওয়ামী লীগ) আতঙ্ক খালেদা জিয়া। চোর যেমন গৃহস্থের ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকে এই অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারও খালেদা জিয়াকে নিয়ে ভয়ে আতঙ্কে আছে। তাই তাঁকে কারাগারে আটকে রেখেছে।’

বুধবার (২১ আগস্ট) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আতঙ্কে মিডনাইট সরকার প্রহর পার করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের আজ ৫৬০তম কালিমালিপ্ত দিবস। সুচিকিৎসার অভাবে চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রকাশ্যে স্বগর্বে ঘোষণা দিয়ে দেশনেত্রীর জামিনে বাধা দিচ্ছেন স্বয়ং সরকারপ্রধান নিজেই। দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে উপহাস করে নিজেরাই চিকিৎসার জন্য বিদেশে দৌড়াচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী চোখের চিকিৎসার কথা বলে দুই দফায় দীর্ঘদিন লন্ডনে থেকে এসেছেন। শুধুমাত্র চোখের অপারেশনে এতো দিন সময় লাগে কি না তা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। রোগ-ব্যাধি-জরা বলেকয়ে আসে না। ৭৫ বছর বয়স্কা দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে অবজ্ঞা-উপহাস না করে দ্রুত তাঁকে মুক্তি দিন। তাঁকে ফিরে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে দুখিনি বাংলাদেশ।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আর বাড়বে না’। কিন্তু পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রোগীর সংখ্যা ও লাশের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এখন ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির যে সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে সেটি প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। অনেকে প্রাইভেট হাসপাতা কিংবা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি না হতে পেরে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘বাস্তব ঘটনা হচ্ছে সরকার ডেঙ্গু মহামারিতে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রতিদিন দেশের কোনও না কোনও অঞ্চলে বা হাসপাতালে অকাল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে মানুষ। রোগীতে ঠাসা দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলো। এমনকি সরকারি হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করেও ঠেকানো যাচ্ছে না ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ঢল।’

রিজভী বলেন, ‘ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়ালেও সরকার এ নিয়ে এখনও গুজব আবিষ্কারের মধ্যেই আছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র বলেছেন- ‘এডিস মশা মারার জন্য কার্যকর ওষুধ আনা হয়েছে’। অথচ প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে- এই ছিটানো ওষুধে এডিস মশা আরও উৎসাহিত হয়ে সন্তান-সন্ততি ব্যাপকভাবে উৎপাদন করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছে তা রীতিমত ‘বাকওয়াস’। ডেঙ্গু মরণের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে দেশে। ডেঙ্গু আক্রমণের পূর্বেই প্রস্তুতির অভাব এবং ডেঙ্গু রোগে মহামারিতে সারা দেশ আক্রান্ত হওয়ার পরও সরকারের উচ্ছ্বাস ও তামাশারও কোনও কমতি নেই। তাই আওয়ামী নেতা-মন্ত্রীদের ফটোসেশনে কাজ হবে না, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।’

রিজভী বলেন, ‘দেশব্যাপী হত্যা, গুম, গলাকাটাকে পরম যত্নে লালন করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় বেআইনি কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার জন্যই মানুষ এখন পণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই শিশু, কিশোর, যুবক, ব্যবসায়ী, ছাত্র, মানবাধিকার কর্মী হয় গুম হচ্ছে, না হয় তাদের গলাকাটা লাশ পাওয়া যাচ্ছে। ফেনীতে নিখোঁজের ৭ দিন পর স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার, লক্ষীপুরে আলমগীর হোসেন নামে ব্যবসায়ীকে গলাকেটে হত্যা, হবিগঞ্জে কিশোর সুমন মিয়ার এক মাস দশ দিন পার হয়ে গেলেও কোনও সন্ধান মেলেনি। এগুলিই এখন সংবাদমাধ্যমের নিত্যদিনের শিরোনাম।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘গুম, ক্রসফায়ারের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। দেশজুড়ে যেন এক অন্ধকার শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ। সামাজিক অস্থিরতা, অসহিঞ্চুতা, হানাহানি, রক্তপাত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। খুন, ধর্ষণ, পিটিয়ে হত্যা, সারা দেশে ডেঙ্গুর মতোই ছড়িয়ে পড়েছে। ছেলে ধরা সন্দেহে দেশে বেধড়ক গণপিটুনি চলছে। ছেলে ধরা গুজব, হত্যার ঘটনা পরিস্থিতি এমনই ঘোলাটে করে তুলেছে যে, অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে। বাংলাদেশে এখন ঘাতক ও মৃত্যুরই সহাবস্থান। ঊর্ধ্বতন আদালতও বলেছেন বিচার না হওয়ার কারণে অধরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ন্যায়বিচারও এদেশ থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে।’

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি