ডালিমের ৯ গুণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক : আমাদের হাতের নাগালে এমন সব ফলমূল প্রতিদিনই পাওয়া যায় যেগুলোর দিকে আমাদের নজরই যায় না। অথচ এসব ফলের গুণাগুন জানলে আপনিও আগামীকাল থেকে প্রতিদিন কমবেশি খাওয়ার চেষ্টা করবেন। তেমনই একটি ভাইরাস ও টিউমার-রোধী উপাদানযুক্ত ফলের নাম ডালিম। এই ফলটি নানা রোগ প্রতিরোধের পাশাপাশি মানুষকে চিরযৌবন দান করে। হৃদরোগীদের জন্য ডালিমের রস বিশেষ উপকারী। এই ফল নিয়মিত খেলে চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে না। ত্বক থাকে নরম, কোমল, মসৃণ।

এছাড়াও ডালিমে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীর সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন এ, সি এবং ই’সহ ফলিক অ্যাসিডের ভালো উৎস। ডালিমে বিউটেলিক এসিড, আরসোলিক এসিড এবং কিছু আ্যলকালীয় দ্রব্য যেমন- সিডোপেরেটাইরিন, পেপরেটাইরিন, আইসোপেরেটাইরিন, মিথাইলপেরেটাইরিন প্রভৃতি মূল উপাদান থাকায় ইহা বিভিন্ন রোগ উপশমে ব্যবহৃত হয়। কবিরাজী মতে ডালিম হচ্ছে হৃদয়ের শ্রেষ্ঠতম হিতকর ফল।

ডালিমের পুষ্টিগুণ: এক কাপ ডালিমের বীজে ২৪ গ্রাম শর্করা এবং ১৪৪ ক্যালরি থাকে। প্রতি এক কাপ ডালিমের বীজ থেকে- ৭ গ্রাম আঁশ, ৩ গ্রাম প্রোটিন, ১২ শতাংশ পটাশিয়াম, ৩০ শতাংশ ভিটামিন সি এবং ৩৬ শতাংশ ভিটামিন কে’ পাওয়া যায়।

এই প্রতিবেদনে ডালিমের নানা উপকারী দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
তারুণ্য ধরে রাখে: ডালিম উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে বাধা দেয়। সূর্যের তাপ ও পরিবেশের ক্ষতিকারক পদার্থ ত্বকের ক্ষতি করে। যা থেকে রক্ষা করতে ডালিম সাহায্য করে।

রক্তের তারল্য ভারসাম্য: ডালিমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তের ঘনত্ব ঠিক রাখে এবং এর বীজ রক্তের প্লাটিলেট জমাট বাঁধতে ও ঘন হতে বাধা দেয়। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

রক্ত জমাট বাঁধা দুই ধরনের। প্রথমটা হল, কোথাও কাটে গেলে, সেই ক্ষত স্থানে রক্ত জমাট বাঁধা যা শরীরের জন্য ভালো। অন্যদিকে, শরীরের অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধা যেমন- ধমনী বা হৃদপিণ্ডে। এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। যা রক্ষা করে ডালিমের দানা।

রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ায় এই ফল। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার কারণে ‘ফ্রি রেডিক্যাল’, কোলেস্টেরল এবং রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

দূরে থাকে আর্থ্রাইটিস: ডালিম তরুণাস্থির ক্ষয় ঘটায় এমন এনজাইমের সঙ্গে যুদ্ধ করে হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

হৃদরোগ ও ক্যান্সার প্রতিরোধ সহায়ক: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ডালিমের রস ‘প্রস্টেইট ক্যানসার’ প্রতিরোধে সাহায্য করে, ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমায় এমনকি ধ্বংসও করতে পারে। রক্তের ঘনত্ব ঠিক রাখায় এটা হৃদরোগ প্রতিহত করে।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়: মনে রাখায় সমস্যা আছে এমন কিছু ব্যক্তিদের প্রতিদিন ২৩৭ মি.লি ডালিমের রস খাওয়ানো হয়। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট সময় পর তাদের স্মৃতিশক্তির উন্নতি হয়েছে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: ডালিমের রসে ‘পিউনিসিক অ্যাসিড’ রয়েছে যা কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

হজম ক্ষমতা বাড়ায়: আঁশ হজমে সাহায্য করে। আমরা প্রতিদিন সবজি ও ফলমূল না খেয়ে নানান ‘জাঙ্ক ফুড’ খেয়ে থাকি যা শরীরের ক্ষতি করে। প্রতিদিন আঁশের চাহিদা মেটানোর জন্য খাদ্যতালিকায় ডালিম যোগ করুন। একটি ডালিমে ৪৫ শতাংশ আঁশ থাকে যা প্রতিদিনের চাহিদা পূরণ করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: ডালিমে অ্যান্টি-ইনফ্লামাটরি যৌগ থাকায় তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন সি বেশি থাকায় শরীরে অ্যান্টিবডি বৃদ্ধি করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত ডালিম খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ফলে সাধারণ রোগবালাই ও সংক্রমণ থেকে সুস্থ থাকা যাবে।

প্লাক থেকে রক্ষা: ডালিমে এমন কিছু উপাদান আছে যা মুখে ‘প্লাক’ তৈরি হওয়া থেকে রক্ষা করে। বাজারের অ্যালকোহল সমৃদ্ধ মাউথওয়াশের চাইতে এটা অনেক বেশি কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, ডালিমের হাইড্রোঅ্যালকহলিক উপাদান দাঁতে অণুজীবের কারণে সৃষ্টি হওয়া প্রায় ৮৪ শতাংশ প্লাক থেকে রক্ষা পেতে সাহায্য করে।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: স্বাস্থ্য