‘ঢাকায় বসে সিলেটে হামলা’ চালিয়েছে বিএনপির নেতারা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: গত ৩-৪ দিনে সিলেটে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ৩টি মামলা দেয়া হয়েছে। এসব মামলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কের পর এক মামলায় দিশাহারা হয়ে পড়ছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ- নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হয়রানি করতেই এসব ‘গায়েবি’ মামলা দেওয়া হচ্ছে। অথচ মামলায় যেসব ঘটনা ও দিন উল্লেখ্য করা হয়েছে। সেসব দিনে অনেক নেতাই সিলেটে ছিলেন না। তারা সাংগঠনিক কাজে ঢাকায় ছিলেন।

সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত চৌধুরী সাদেক বলেন, ‘১৭ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানার মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। অথচ ঘটনার দিন আমিসহ দলের আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা ঢাকায় ছিলাম।’

সিলেট জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘যেসব ঘটনা আদৌ ঘটেনি, সেসব ঘটনায় পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। সামনে নির্বাচন, আমাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে, সাংগঠনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে, হয়রানি করতে গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর নগরীর জালালাবাদ থানায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৫৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। একইদিন শাহপরান থানায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুরমা থানায় ৫২ ও ১৭ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় ৫৫ জনকে আসামি করে মামলা দিয়েছে পুলিশ। এসব মামলায় পুলিশের ওপর হামলা, নাশকতার চেষ্টা প্রভৃতি অভিযোগ আনা হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

বিএনপির অভিযোগ, ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপি সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের বাসার সামনে ‘পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ’ এনে করা মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তার মধ্যে কয়েকজন নেতা ঘটনার দিন ঢাকায় ছিলেন। অন্য মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও পুলিশ মনগড়া তথ্য দিয়ে গায়েবি মামলা করেছে বলে তাদের অভিযোগ।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। সিলেট নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে নয়, যেখানে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে মামলা দেয়া হয়েছে।’

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: সারাদেশ,সিলেট