দুর্গাপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগ নেতার জমি দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ

দুর্গাপুর প্রতিনিধি:: রাজশাহীর দুর্গাপুরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার ধানী জমি দখল করে জোরপূর্বক অবৈধভাবে পুকুর খননের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মাস্টার উপজেলার কিসমত গণৈকড় ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতির পদে রয়েছেন। তবে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসলে রাতারাতি ভোল পাল্টে তিনি আওয়ামী লীগের লেবাস পরেছেন। আওয়ামী লীগের কোন পদ পদবী না থাকলেও তিনি এখন আওয়ামী লীগের বিশাল নেতা। এই তকমা দিয়েই তিনি এখন খাসপুকুর দখল থেকে শুরু করে জমি দখল অনেক কিছুই করছেন। অন্যদিকে তিনি আড়ইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও বটে। এ ঘটনায় ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আড়ইল পূর্ব পাড়ার উত্তর বিলের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে অবৈধভাবে পুকুর খনন করছে বিএনপি নেতা রফিক মাস্টার। ওই বিলেই জমি রয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের। রফিক মাস্টার তার সাথে কোন কথা না বলেই জোর পূর্বক আবুল কালাম আজাদের জমি দখল করে রাতারাতি সেখানে পুকুর খনন করছেন। আবুল কালাম আজাদ তাতে বাধা দিলে উল্টো আবুল কালামের বিরুদ্ধে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়। এমনকি পুঠিয়ার সাধনপুর ফাঁড়ির পুলিশকে দিয়ে তার বাড়িতে তল্লাশী চালানো হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে আড়ইল বিলে গিয়ে দেখা গেছে, রফিক মাস্টার ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করছেন। কিছু কিছু জমিতে এখনো ধান রয়েছে। ধানী জমিতে এভাবে পুকুর খনন করার কারনে নাখোশ ওই এলাকার সাধারণ কৃষকরা। ভুক্তভোগী আওয়ামীলীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই রফিক মাস্টার ইউনিয়ন বিএনপি’র সহ-সভাপতি পদে ছিলেন। এই আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফার ডানহাত হিসেবে কাজ করেছেন রফিক মাস্টার। অনেকের জমি দখল করেছেন। অনেকের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছেন। এমনকি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হওয়ার সুবাদে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগের নামে লাখ লাখ টাকা হাতে নিয়েছেন তিনি। এখন আবার আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদেরই জমি দখল করছেন এটা খুব দুঃখজনক। এ ব্যাপারে রফিক মাস্টারের সাথে ফোনে কথা বলা হলে তিনি পুকুর খননের কথা স্বীকার করেছেন। এমনকি ভুক্তভোগীদের সাথে কথা না বলেই তিনি জমি গুলো দখল করেছেন বলেও আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে নিউজ করে লাভ হবে না। আমি সাংবাদিকদের হেড অফিসে যোগাযোগ করেছি। কোন হেড অফিসে যোগাযোগ করেছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন রাজশাহী হেড অফিসে।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ