দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার তাগিদ মানবাধিকার কমিশনের

জাতীয় ডেস্ক: ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার ঘটনায় পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরোকে (পিবিআই) দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। নুসরাত নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করতে চাইলেও পুলিশ কেন ৫৪ ধারায় মামলা নিয়েছিল তা তদন্ত করতে পিবিআই-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান।

মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে মানবাধিকার কমিশনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তিনি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যার বিচার করতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, একটা নির্যাতিত মেয়ে বা নারীকে নির্যাতন কিভাবে হয়েছিল, কোন ধরনের নির্যাতন হয়েছিল এমন কথা বার বার প্রশ্ন করাটা আইনের দৃষ্টিতে অত্যন্ত অপরাধ বলে গণ্য। নুসরাতের বেলায় যে পুলিশ অফিসার এটি করেছিল তার বিরুদ্ধে যেন দৃষ্টান্ত শান্তির ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি বলেন, নুসরাতের ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কিন্তু গ্রামগঞ্জে এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। এসব ঘটনার দ্রুত বিচার হয় না বলেই নুসরাতের মতো ঘটনা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে।

আইনের হাত অনেক বড় উল্লেখ করে কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, অপরাধী যে দলের, যে মতের কিংবা যে আদর্শেইরই হোক না কেন তাকে শাস্তি পেতেই হবে।

রিয়াজুল হক বলেন, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তার একটা পরিকল্পনা করেছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি ছিল। তাহলে তারা কীভাবে কেন্দ্রে ঢুকলো। শুধু মাদরাসা শিক্ষার্থী নয়, পুরুষরাও সেখানে ছিল এবং হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা চলে যায়। এ অসৎ শিক্ষকের জন্য যারা আন্দোলন করলো তাদের চিহ্নিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘নুসরাত প্রতিবাদী মেয়ে, প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। তাকে যেভাবে কেরোসিন ঢেলে হত্যা করা হয়েছে তা মানবতার ইতিহাসের জঘন্য অপরাধ। এ অপরাধে যারা জড়িত তারা ক্ষমার অযোগ্য। তাদের যদি আইনের মাধ্যমে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করতে না পারি, তাহলে সমাজে এ জাতীয় হত্যা বন্ধ হবে না। আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে পড়ে যাবো।’

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘নুসরাতের আত্মার শান্তির জন্য তার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। অপরাধীদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়। নুসরাতের মতো সব নারী, শিশু হত্যা, নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

তিনি বলেন, ‘নুসরাত হত্যার বিষয়ে যেসব তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, তাতে মনে করতে চাই দ্রুত সময়ের মধ্যেই পিবিআই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। আইনে বলা আছে, হাতেনাতে ধরা পড়লে ১৫ দিনের মধ্যেই পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে হবে।’

‘আমরা দেখেছি শিশু রাজন, রাকিব হত্যার ক্ষেত্রে পুলিশ দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল এবং আদালত দ্রুত সময়ের মধ্যেই অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছিলেন। আমরা নুসরাতের ক্ষেত্রে সেটা দেখতে চাই।’

সিরাজ উদ দৌলাকে মাদরাসার অধ্যক্ষ করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এর আগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এমন জঘন্য চরিত্রের লোককে কীভাবে অধ্যক্ষ হিসেবে চাকরি দেয়া হলো তা বোধগম্য নয়।সূত্র: ব্রেকিংনিউজ/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: জাতীয়