ধামাচাপা দিতে মরিয়া কুচক্রী মহল \ বগুড়ার শেরপুরে বিয়ের দাবীতে যুবলীগ নেতার বাড়িতে তিন সন্তানের জননী প্রেমিকার অবস্থান

বগুড়া প্রতিনিধি: ৪ বছরের প্রেমের ঘটনায় বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি’র আরিফ মাহমুদের বাড়িতে অবস্থান নেয় তিন সন্তানের জননী প্রেমিকা বিউটি খাতুন(৩৫)। ঘটনাটি ২৩ জুন শনিবার বেলা ১১টায় বগুড়ার শেরপুরের গাড়িদহ ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামে ঘটেছে। এঘটনায় প্রেমিক আরিফের স্ত্রী ও আত্মীয়স্বজনরা ওই প্রেমিকাকে বেদম মারধর করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে বিউটিকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রেখেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে একটি কুচক্রী মহল।
জানা যায়, উপজেলার গাড়িদহ মডেল ইউনিয়নের মোমিনপুর গ্রামের মৃত মাহতাব মহুরী মেয়ে সাদিয়া আফরোজ বিউটি’র একই গ্রামের জনৈক আব্দুর রশিদের সাথে ১৭ বছর আগে বিয়ে হয়। সে ঘরে তার ৩টি সন্তানও হয়। এদিকে বিগত ৪ বছর পূর্বে হঠাৎ করে একই ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামের মৃত মহির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে সংশিøষ্ট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আরিফ মাহমুদের সাথে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে পূর্বের স্বামী আব্দুর রশিদ গত কয়েক মাস আগে বিউটিকে তালাক দেয়। তারপর থেকেই আরিফ মাহমুদ বিউটিকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতে থাকে। প্রেমিক আরিফ ওই প্রেমিকাকে বিভিন্ন প্রলোভন ও তাদের সাংসারিক জীবনে অনেক অর্থের প্রয়োজন হবে মর্মে কৌশলে বিউটি’র কাছ থেকে প্রায় ১০/১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করে। এদিকে বিউটি প্রেমিক আরিফকে কয়েকমাস ধরে বিয়ের প্র¯Íাব দিয়ে আসলে আরিফ মাহমুদ ÿমতার দাপটে বিউটিকে বিয়ের করার অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপ্রেÿিতে স্বামী পরিত্যক্তা প্রেমিকা সাদিয়া আফরোজ বিউটি ২৩ জুন বেলা ১১টার দিকে বিয়ের দাবীতে প্রেমিক আরিফ মাহমুদের বাড়িতে অবস্থান নেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে আরিফ কৌশলে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায়। এসময় আরিফের স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয় স্বজনেরা উপস্থিত কতিপয় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতেই বিউটিকে লাঠিশোটা দিয়ে মারধর করতে থাকে। খবর পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক এবাদ আলী মোলøা ও শামীম হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল অবস্থানরত বিউটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। আরিফ মাহমুদ গাড়িদহ মডেল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও শেরপুর দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রেমিকা বিউটি’র দাবী ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ও ধামাচাপা দিতে একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে আরিফের স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনেরা তার নিজ বাড়ীর একটি ঘরে তাৎÿনিক আগুন লাগিয়ে দিয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় বলেও নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সাদিয়া আফরোজ বিউটি বলেন, আরিফ মাহমুদ ৪ বছর যাবত আমার সাথে প্রেম নিবেদনসহ বিয়ের প্রলোভন দিয়ে দৈহিক সম্পর্ক করে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত রোজার ঈদের ২দিন পর শেরপুরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত আরিফ মাহমুদের মালিকানাধীন আবাসিক হোটেল তামিম বোর্ডিং এ বিকালের দিকে শেষ দৈহিক মিলন করেছে। তাই আমি আরিফের সাথে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে তার বাড়ীতে অবস্থান নিয়েছিলাম। কিন্তু তার বাড়ীর লোকজনরা আমাকে বেদম মারধর করলে পুলিশ উদ্ধার করে বাচিয়েছেন। তবে আরিফ যদি তাকে স্ত্রী মর্যাদা না দেয় তাহলে তার সামনেই গাঁয়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করবেন বলেও তিনি কাঁদতে কাঁদতে জানান।
এ ব্যাপারে আরিফ মাহমুদের মুঠোফোন ০১৭১৬ ৮৩১৫০৯ নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,এ ঘটনাটি আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) বুলবুল ইসলাম জানান, প্রেমিকা বিউটি’র বিয়ের দাবী কিনা জানিনা, তবে বিউটিকে কেন্দ্র করে আরিফের বাড়িতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি’র তৈরী হওয়াতে তাকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোন অভিযোগ পায়নি বলেও ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ