নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কৃষি জমিতে পুকুর খনন প্রশাসনের পদক্ষেপ প্রশ্নবিদ্ধ

নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবে সুনাম রয়েছে অনেক পূর্বে থেকেই। উপজেলার ৮০% লোকের আয়ের উৎস্য এবং জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন কৃষি। উপজেলাটি পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত । এই উপজেলার সকল মৌজার জমি অনেক উর্বর ও সমতল। এখানে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য ও রবিশস্য যেমন- আমন ধান, গম, ভুট্টা, আলু, শরিষা, মরিচ ও পেয়াজ, আক এর চাষসহ ব্যাপক হারে শাকÑশবজি এবং লিচু, আম, কাঠাল প্রচুর পরিমানে উৎপাদন হয়। এগুলো এলাকার চাহিদা মিটিয়ে নিজ জেলাসহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী করা হয়। তাই আমাদের উর্বর কৃষি জমির ব্যবহারের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।

কয়েক বছর পূর্বে এলাকার কিছু মানুষ ফসলী জমি নষ্ট করে স্বল্প পরিসরে পুকুর খননের মাধ্যমে বানিজ্যিকভাবে মৎস চাষ করলেও বর্তমানে তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতিমালা লংঘন করে এলাকার শিক্ষিত ব্যাক্তিরা স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবাধে ও নির্বিঘেœ ফসলী উর্বর কৃষি জমি নষ্ট করে ব্যাপক হারে পুকুর খনন করছে। তাতেকরে এলাকার সাধারণ জমির মালিক চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ। ফসলী জমি থেকে মাটি কাটার পর তা পরিবহনের জন্য অবৈধভাবে পাকা ও কাঁচা সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে।

মাটিবোঝাই ভারী যানবাহন চলাচল করায় রাস্তাগুলো ভেঙ্গে গিয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আর সড়কগুলো নষ্ট হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার হরিরামপুর, কোয়ালীপাড়া ও বিলগোপালহাটীসহ বেশ কয়েকটি মাঠে কৃষি জমিতে জমিতে পুকুর খনন চলছে। কোয়ালীপাড়া দশ বিঘা ফসলী জমিতে রাতে মাটি কাটা হচ্ছে। দিনের বেলায় মাটি কাটা এস্কেভেটর ঝোপের আড়ালে রাখতে দেখা যায়। সেখানে দিনে বন্ধ রেখে রাতে মাটি কাটা হয়। অজানা কারণে এমন অবৈধ কর্মকান্ড প্রশাসন দেখেও দেখছেন না বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জনপ্রতিনিধি ও সচেতন এলাকাবাসী অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

পুকুর খননে অনুমতি আছে কি না এমন প্রশ্নে নূরপুর মালি গ্রামের আনিছুর রহমান (শিল্পপতি) দাবি করেন, হরিরামপুর মাঠের সবগুলো পুকুর পুরাতন আমি বর্তমানে শুধুমাত্র সংস্কার করছি। অনুমতি আছে কি না আপনি কেন জানতে চাইছেন?’ তিনি বিরেক্তিবোধ করেই মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

স্থানীয় কৃষক চাঁদ মোহাম্মদ দাবি করেন, হরিরামপুর মাঠে যেখানে পুকুরগুলো খনন করা হচ্ছে, পাশেই আমার জমি। বছরে তিনটি করে ফসল হয়। কিন্তু আবাদি জমিতে পুকুরগুলো কেটে যেভাবে উচু পাড় বাঁধাই করা হচ্ছে তাতে আগামীতে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।’
কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, আইনের লোকজন এসে পুকুর খনন দেখে যাচ্ছে, তাদের সাথে কথা বলছে কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না। সরকারি অনুমতি নাই অথচ পুকুর খনন চলছে। পুকুর খননকারীরা কি তাহলে প্রশাসনের চাইতে বেশী প্রভাবশালী ?

কর্দমাক্ত পাকা রাস্তায় পড়ে আহত এনজিও কর্মী উপজেলার নূরপুর গ্রামের কাজল হোসেন জানান, অবৈধভাবে পুকুর খনন করে সেই মাটি তারা বিক্রি করছে। আর ওই মাঠি বহনকারী ভারি ট্রাকগুলো গ্রামের রাস্তা নষ্ট করছে। আমি নিজেই পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে আহত হই।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাদী বলেন, এভাবে ফসলী জমিতে পুকুর খনন করায় চিরস্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে। সরকারও এটা চাচ্ছে না। তারপরেও প্রকাশ্যে কিভাবে এমন অবৈধ পুকুর খনন চলছে সেটাই প্রশ্ন? পাকা রাস্তায় কাদা থাকায় আমিও আহত হয়েছি। দ্রুত এমন অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার দাবি জানান তিনি।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র প্রামানিক দাবি করেন, অবৈধভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খননের খবর পেয়ে পরিদর্শন করি এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেছি। আমার যতটুকু করনীয় করি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোমরেজ আলী দাবি করেন, ‘পুকুর খননের জমি আবাদি কি না, ইউএনও স্যার এমন প্রতিবেদন চাওয়া সাপেক্ষে আমি তা প্রদান করি।’

কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি অনুমতি ছাড়াই আবাদি জমিতে পুকুর খনন করছেন কিভাবে এমন প্রশ্নে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিঃ দাঃ) উম্মুল বানীন দ্যুতি বলেন, ‘ বিষয়টি আমার জানা নেই। অনুমতি ছাড়া পুকুর খনন করা হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ