শিরোনাম

নিরামিষ খাবারে মুগ্ধ হতে ঘুরে আসুন জর্জিয়া

জর্জিয়ান খিনকালির কথা কে না জানে৷ অনকটা মোমোর মতো দেখতে, তবে খেতে সম্পূর্ণ আলাদা৷ খিনকালি আসলে বিশ্বের কাছে জর্জিয়ার পরিচয়৷ তবে, জর্জিয়ার নিরামিষ খাবার খিনকালিতেই শেষ নয়৷ টাটকা সব্জির দেশটিতে নিরামিষ খাবারদাবর বেশ খাসা৷ রাজধানী টিবিলিস ঘুরে আসলেই প্রমাণ মিলবে, জর্জিয়ার ভেজ ফুডের রকমারি৷

ত্রয়োদশ শতক, মোঙ্গলিয়া জাতির প্রবেশ জর্জিয়ায়৷ যে পথ দিয়ে মোঙ্গলরা জর্জিয়ায় ঢোকে সেই পথই প্রাচীন সিল্ক রোড৷ যা এখনও অক্ষত, পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা৷ সেই মোঙ্গলদের খাদ্যাভ্যাস জর্জিয়ায় স্থায়ী হয়ে রইল৷ নিরামিষ খাদ্যে পারদর্শী হয়ে উঠল দেশটি৷ যার সূত্রপাত খিনকালি৷ তবে, বরাবরাই মাটি চাষযোগ্য হওয়ায় জর্জিয়া তাজা সব্জি ও ফলের সম্ভারে ভরে থাকে৷ আধুনিকতার মোড়ক এখনও সবুজ এই দেশটাকে ঢাকতে পারেনি৷ অন্তত সব্জির বাজার দেখলে সেই প্রমাণই মেলে৷ থরে থরে সাজান আলু,শাক,কপি সহ নানা সব্জি আবার ফলও৷ শপিং মলের প্যাকেটেড পদ্ধতি জর্জিয়া এখনও আত্মস্থ করেনি৷ দেশটাতে গেলে হোম স্টে পাওয়া যায়৷ এমনকি, যে কোন মানুষও নিজের ঘরে পর্যটকদের থাকার জায়গা দেন৷ জলখাবার থেকে রাতের খাবার সবটাই নিজের দায়িত্ব তাঁরা বানিয়ে ফেলেন৷

সকালে ব্রিটিশ ব্রেকফাস্ট পাবেন ভাবলে ভুল হবে৷ সকালের চা সারার পরই কাঁচের প্লেটে সাজানো ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাই’ বা আলু ভাজা, পাশে পোড়া টম্যাটো, বিভিন্ন সব্জির স্যালাড৷ সবটাই কিন্তু সেদ্ধ করা, বিভিন্ন মশলা মেশোনো৷ টম্যাটোয় কামড় দিলেই বোঝা যাবে কতটা তাজা এখানকার সব্জি৷ পেট ভর্তি সুস্বাদু জলখাবার জর্জিয়ার অন্যতম আকর্ষণ৷ এছাড়াও রয়েছে জর্জিয়ার বিখ্যাত খাবার খাঁচাপরি৷ পরোটার মত দেখতে এই খাবার পুরোপুরি চিজে ভরা৷ জর্জিয়ার বেকারির তৈরি রুটি দিয়েই তৈরি হয় খাঁচাপরি৷ বিশেষত্ব- রুটি ঠান্ডা খাকলেও ভিতরের চিজ গরম থাকে, ভরা থাকে নানারকন সব্জি,মাসরুম৷
জর্জিয়ার বেশিরভাগ বেকারিই ঐতিহাসিক৷

টিবিলিসের বাজার সেই ইতিহাসকে ধরে রেথেছে৷ প্রত্যেকটি বেকারি পনেরো শতকের প্রাচীন৷ ওভেন থেকে গরম ব্রেড বোরেচ্ছে আপনারই সামনে, নেই কোনওরকম রাখ ঢাক৷ নিরামিষ কেক থেকে ডিমের কেক সবই একাধারে সাজানো৷ বললে পর্যটকদের সামনেই লাইভ রান্না করা হয়৷ বিখ্যাত কয়েকটি খাবার যেমন-সালগুনি চিজ, পাখালি,বদরিজানি নিগভিজিট,লোবিও৷ এই সবকটি খাবারের মিল হল প্রত্যেকটি খাবারে ওয়ালনাট রয়েছে৷ খাদ্যগুলিতে সেদ্ধ গাজর, সেদ্ধ কপি, ব্রোকোলি, ক্যাপসিকাম ভরা থাকে৷ এর মধ্যে নিগভিজিট খাদ্যটি পুরোপুরি ঠান্ডা৷ ডিমের সাদা অংশ দিয়ে তৈরি৷

টিবিলিসের সব্জির বাজার ঘুরলে পর্যটকদের মন ভরতে বাধ্য৷ ঐতিহাসিক দেশ জর্জিয়া৷ প্রাচীনত্বের স্বাদ চারিদিকে৷ তার মধ্যেও সবচেয়ে নজর কারে সব্জির বাজার৷ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাস্তায় নেই হট্টগোল৷ পর্যটকরা নিজেরাও রান্না করতে পারেন৷ তবে, জর্জিয়ার সুস্বাদু নিরামিষ খাবার থাকতে রান্না করাটা বোকামোই হবে৷ প্রাচীন ভাবধারার খ্রীষ্টানের বাস জর্জিয়ায়৷ বেশিরভাগই তাই মাছ, মাংস খাননা৷ বছরের ২০০ দিনই তাঁরা নিরামিষ খাবার খান৷ সেই কারণেই নিরামিষ খাবারে এত জোর৷ তবে স্বাদে অপূর্ব সেই খাবারই জর্জিয়ার ইতিহাসকে আরও জীবন্ত করেছে৷

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: লাইফস্টাইল