পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি

‘সংস্কৃতি’ শব্দটি পরিবৃত থাকে কোনও ব্যাক্তির বা সমাজের রীতিনীতি, প্রথা লোক-আচার, দস্তুর ও সামাজিক চরিত্র। এর মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠির ভাষা, ধর্ম, খাদ্যাভাস, দেশাচার, সঙ্গীত, সাহিত্য, চারুকলা এবং ললিতকলা ইত্যাদির বৈশিষ্ঠ্য এবং ক্রমসঞ্চিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, লোকবিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গী এবং পরম্পরাগত ঐতিহ্য বোঝায়। দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় বিষয়, আমরা কীভাবে ভাবছি ও অনুভব করি, শিখি এবং শেখাই, সুন্দর কিম্বা অসুন্দর ভাবি, মানুষ কীভাবে তাদের প্রকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত ভাবেন, এই সম্পর্কগুলীকে তারা কীভাবে প্রকাশ করেন- এসব কিছুর সমাহার কেই ‘সংস্কৃতি’ বলা যায়। এক্ষেত্রে আমরা বহূদর্শী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথায় বলতে পারি ‘আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়া’, অর্থাৎ অবগুন্ঠনের উন্মোচন করলেই সাংস্কৃতিক প্রজ্ঞা সম্পুর্ন হবে।

gallery history

ভারতে আমরা পুর্বজদের থেকে পেয়েছি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরম্পরা। উত্তরের পর্বতমালা থেকে দক্ষিনের সমুদ্র আমাদের দেশে বিবিধ সংস্কৃতির সমাহার। আমাদের ভাষা, ধর্ম, নৃত্য, সঙ্গীত, স্থাপত্যকলা, খাদ্যাভাস ও লোকাচার নানা অঞ্চলে নানা রকম। এই উপমহাদেশে কয়েক হাজার বছরের ঐতিহাসিক উত্থান পত্তনের প্রভাবে এই বিবিধ সংস্কৃতির মিলনে যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তাকেই সাধারনতঃ ভারতীয় সংস্কৃতি আখ্যা দেওয়া হয়।

পশ্চিমবঙ্গে আমরা উত্তরবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চল থেকে শুরু করে সুন্দরবনের বাদা অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত নানা অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির ঐতিহ্য ধারন করি। এ রাজ্যের প্রতিটি জেলাই সেখানকার মানুষদের কিছু বৈশিষ্ঠে স্বতন্ত্র।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই সাংস্কৃতিক বৈচিত্রগুলিকে চিহ্নিত করে, সংস্কৃতি চর্চাকে উৎসাহদানের মাধ্যমে বিকশিত করতে চায়।

ভারতের সাংস্কৃতিক দিগন্তে পশ্চিমবঙ্গ সব থেকে এগিয়ে। সঙ্গীত কিংবা নাটক, চিত্রকলা কিংবা সাহিত্য, সকল ক্ষেত্রেই পশ্চিমবঙ্গ তার কৃতীদের জন্যে গর্ব অনুভব করতে পারে। আমাদের এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যর উৎকর্ষ প্রচারে রাজ্য সরকারের সংস্কৃতি অধিকার বিগত ১৯৭৯-৮০ থেকে কাজ শুরু করে ইতিমধ্যেই এই চর্চাকে ধর্মনিরপেক্ষ ভাবধারায় আরও সম্রদ্ধশালী করে তুলেছে। আমাদের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে লোকসংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা আছে। লোকসঙ্গীত ও লোকনাট্য বেশ শক্তিশালী মাধ্যম। সংস্কৃতি অধিকার সমাজের বিভিন্ন অংশের নিজস্ব শিল্পধারার বিকাশকে প্রোৎসাহিত করে। মাটির কাছাকাছি থাকা শিল্পীদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে রাজ্য সরকার তাদের একটি নিবন্ধীকরন পদ্ধতির মাধ্যমে যথাযথ ভাবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লোকশিল্পীদের জীবন যাপনে বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করতে তাদেরকে তালিকাভূক্ত করার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেজন্যে সরকার একটি সুরক্ষিত পৃষ্ঠপোষকতার ছাতার তলায় দরবেশি, টুসু, মানবপুতুল, জারিগান, বাহা, করম, কালিকা, পাটারি ইত্যাদি চর্চাকে প্রোৎসাহিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেছে।

সংস্কৃতি অধিকার বিভিন্ন আকাদেমি, বোর্ড ও সেন্টারের মাধ্যমে এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করে। সেগুলি হলঃ

আদিবাসী ও লোক সংস্কৃতি কেন্দ্র (ফোক অ্যন্ড ট্রাইবাল কালচারাল সেন্টার)

আমাদের রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিকাশ ও উৎকর্ষসাধনে আদিবাসী ও লোক সংস্কৃতি কেন্দ্র গূরুতবপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৯৪ এর ডিসেম্বর থেকে এই সংস্থা কাজ শুরু করে। এটি একটি স্বায়ত্বশাসনাধীন অলাভজনক সংস্থা যা পশ্চিমবঙ্গ সরকারর অর্থানুকুল্যে লোক-শিল্পী ও লোকগবেষকদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের নিয়মানুবর্তী পরিপ্রেক্ষিতে নির্মানের নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। অতিসংক্ষেপে এই সংস্থার কার্যকলাপগুলি নিম্নরুপ :

আদিবাসী ও লোক সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক নিয়ে এই কেন্দ্র অনেক বই ও গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে। গবেষণাপত্র, বক্তৃতা এবং তত্বালোচনা নির্ভর নিবন্ধ গ্রন্থ ছাড়াও প্রতিবছর এই কেন্দ্র থেকে পাঁচ ধরনের অনুদান দেওয়া হয়। যেগুলি হল: (ক) বৃদ্ধ ও দুর্দশাগ্রস্থ লোকশিল্পীদের এককালিন অনুদান, (খ)লোক সংস্কৃতি সংস্থাগুলিকে এককালিন অনুদান (গ)দরিদ্র লোকশিল্পীদের চিকিৎসার্থে এককালিন অনুদান, (ঘ)শিশুশিল্পীদের শিক্ষা ক্ষেত্রে দু বছরের জন্য মাসিক অনুদান।

তাছাড়া প্রতি বছর চল্লিশ বছরের কমবয়েসী নবীন, মেধাবী এবং প্রতিশ্রুতিবান লোক-শিল্পীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিল্পীকে ‘সুধী প্রধান স্মারক পুরস্কার’ দেওয়া হয়। প্রতি এই কেন্দ্র থেকে ‘লালন পুরস্কার’ এবং ‘ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা পুরস্কার’ দেওয়া হয়।তা ছাড়া এই কেন্দ্রের উদ্যোগে প্রতিবছর ছিট কালিকাপুর, লালন উৎসব, লোকনাট্য উৎসব, হূল দিবস উদযাপন করা হয়।

লোক বিনোদন শাখা (ফোক এন্টারটেনমেন্ট সেকশন)

সরকারের নানা নীতি ও প্রকল্পের প্রচার ও প্রসারের স্বার্থে লোক শিল্পীদের চাহিদা অনুসারে সারা বছর ধরে রাজ্যের প্রাই সমস্ত্য জেলায় এবং রাজ্যের বাইরেও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পশ্চিমবঙ্গ  বাংলা আকাদেমি

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের অন্তর্গত পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। রাজ্যের সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বিদ্দজন ও সাহিত্যঅনুরাগীদের প্রতনিধিত্বমূলক এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য হল বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি বিষয়ে গবেষণা, আলোচনা, গ্রন্থ প্রকাশ ও সংরক্ষন। প্রবাহমান সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সারস্বতচর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আকাদেমির দুটি ভবনে রয়েছে তিনটি সভাগৃহ – আকাদেমি সভাঘর, জীবানন্দ সভাঘর এবং রবীন্দ্র-ওকাকুরা প্রেক্ষাগৃহ । পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি কর্মসূচি রুপায়ণে যেমন বিভিন্ন স্মারক বক্তৃতা ও আলোচনা উপস্থাপনের জন্য আমন্ত্রণ করে। রাজ্যের প্রবীন সাহিত্যিকদের সম্মাননা ও শ্রদ্বাজ্ঞাপনের পাশাপাশি তরুণ ও প্রতভাসম্পন্ন কবি – লেখকদের প্রতি বছর বিভিন্ন স্মারক পুরস্কার প্রদান করা হয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত অসংখ্য ম্যাগাজিনকে সংহত করে প্রতি বছর আয়োজন করা হয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বৃহত্তম ‘ সাহিত্য উৎসব ও লিটল ম্যাগাজিন মেলা’। বর্তমানে ‘কবির সাথে দেখা’ ও ‘গদ্যের গল্পসল্প’ শীর্ষক নিয়মিত অনুষ্ঠান দুটি জনপ্রিয়তায় ও উৎকর্ষে বিশেষভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। বৈচিত্র ও উৎকর্ষে সাধারন পাঠক থেকে গুণিজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে আকাদমির প্রকাশনার বিবিধ সম্ভার। রবিন্দ্র রচনাবলি, বঙ্কিম রচনাবলি – প্রকাশ প্রকল্প দুটি বর্তমানে বিশেষ পাঠক – সমাদর অর্জন করেছে। অবিলম্বে প্রকাশিত হতে চলেছে একটি চতুর্ভাষিক(বাংলা – হিন্দি – উর্দু – ইংরেজি) অভিধান এবং মহাভারতের সঠীক বঙ্গানুবাদ। বিধাননগরে আকাদেমির দ্বিতীয় কেন্দ্র রবীন্দ্র-ওকাকুরা ভবনে রয়েছে ভারত-জাপান সংস্কৃতি কেন্দ্র। জাপানি ভাষাশিক্ষা ও ভারত – জাপান সাংস্কৃতিক বিনিময়ে এই রাজ্যের অন্যতম কেন্দ্র এই ভবন। আকাদেমি অভিলেখাগারে (আর্কাইভ) সংরক্ষিত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ সহ বহু স্বনামখ্যাত লেখকের পাণ্ডুলিপি ও সাহিত্য নথি। আকাদেমি গ্রন্থাগারে ত্রিশ সহস্রাধিক বাংলা ও ইংরেজি গ্রন্থ আকাদেমির প্রাত্যহিক সারস্বত ও কর্মপরিচালনার অন্যতম সহায়ক সম্পদ।

পশ্চিমবঙ্গ টেলি আকাদেমি

টেলিভিশন শিল্পের উন্নয়ন এবং এই শিল্পের সাথে যুক্ত অভিনেতা/ অভিনেত্রী , কলাকুশলীদের সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গ টেলি আকাদেমি গঠিত হয়েছে । এই আকাদেমির উদ্যোগে টেলিভিশন শিল্পের পরিকাঠামো ও উন্নয়নের জন্যে বারুইপুরে প্রায় ১০ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে । পরবর্তী পর্যায়ে এখানে টেলিভিশন শিল্পের শুটিং ফ্লোর ও অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে । এই শিল্পের সাথে যুক্ত বহু শিল্পী , কলাকুশলি ও অন্যান্য কর্মীদের স্বাস্থ্য বীমার ব্যবস্থ্যা করা হয়েছে । প্রতি বছর আকাদেমির উদ্যোগে টেলি-সম্মানে সম্মানিত করা হয় । এখনও পর্যন্ত টেলিভিশন শিল্পের সাথে যুক্ত ১৮৮ জন অভিনেতা/ অভিনেত্রী , কলাকুশলীদের টেলি-সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে । টেলি-সম্মান প্রদানের পর একটি বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে।

পশ্চিমবঙ্গ  নাট্য আকাদেমি

রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি অধিকার বাংলা থিয়েটারের উন্নতিসাধন ও প্রচারের স্বার্থে ১৯৮৭ সালে ২৬ সেপ্টেম্বর, পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি স্থাপন করে। নিয়মিত নাট্য কর্মশালা, স্মৃতি বক্তৃতার ইত্যাদির আয়োজন ছাড়াও এই সংস্থা কলকাতা, হাওড়া ও অন্যান্য স্থানে নাট্যমেলার আয়োজন করে। প্রতিবছর সারা রাজ্যে নানা গোষ্টী আয়োজিত বিবিধ আঙ্গিক ও প্রকরনের নাটক প্রদর্শিত হয়। প্রসিদ্ধ নাটক, নাট্যকার এবং অভিনেতাদের সাক্ষাতগুলি সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং সম্প্রতি সি ডি ও ভি ডি ও ক্যাসেটে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজ্য চারুকলা পর্ষদ

প্রথম দিন থেকেই রাজ্য চারুকলা পর্ষদ সৃষ্টিশীল চারুকলা বিভাগে উৎকর্ষের অন্বেষনের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের সাধারন মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পেরেছে। শিল্পী ও শিল্প সমালোচকদের সক্রীয় সহযোগীতার মাধ্যমে পর্ষদ চারুকলা উন্নতি কেন্দ্রে নিরন্তর কাজ করে চলেছে। প্রতিবছর নিয়মিতভাবে রবীন্দ্র সদন – নন্দন চত্বরে এবং গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শনশালায় রাজ্য চারুকলা উৎসবের আয়োজন করা হয়। রাজ্যের সমস্ত প্রান্ত থেকে আসা বিশিষ্ট শিল্পী ও শিল্পদলগুলি এই উৎসবে অংশগ্রহন করে। এই পর্ষদ প্রতিবছর চারুকলায় শ্রেষ্ঠত্বের অভিজ্ঞান স্বরুপ অবনীন্দ্র পুরস্কার প্রদান এবং বিভিন্ন কর্মশালা ও পাঠক্রম আয়োজন করে।

তাছাড়া প্রতিবছর দরিদ্র অথচ উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় শিল্পী এবং বয়স্ক শিল্পীদের অর্থনৈতিক সাহায্যপ্রদান করা হয়। বিখ্যাত শিল্পীদের আঁকা চিত্রকৃতি যথাযথ সংরক্ষণের মাধ্যমে শিল্পীদের পুনরুজ্জীবিত করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত আকাদেমি

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর ঐকান্তিক অনুপ্রেরণায় রাজ্য সঙ্গীত আকাদেমি ভবন ও সংলগ্ন বাগানের আমুল সংস্কার করা হয়েছে । রাজ্য সঙ্গীত আকাদেমির উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নতুন প্রতিভার অন্বেষণের লক্ষে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, লঘু- শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, নৃত্যের উপর স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষাক্রম , কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ শিবির বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। রাজ্য সঙ্গীত আকাদেমির উদ্যোগে ‘উদয়শঙ্কর নৃত্য উৎসব’ , ‘বার্ষিক শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সম্মেলন’, ‘নৃতনাট্য উৎসব’ প্রখ্যাত শিল্পীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষদের কাছে গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠেছে। রাজ্য সঙ্গীত আকাদেমির আর্কাইভে অসংখ্য ও অমুল্য গ্রামাফোন , রেকর্ড , স্পুল, অডিও ক্যাসেত, সিডি এবং ভি এইচ এস সংরক্ষিত রয়েছে। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে এই আর্কাইভকে অত্যাধুনিক করার কাজে হাত দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ কাজী নজরুল আকাদেমি

কবি কাজী নজরুল ইসলামের বহুমুখী সৃষ্টির চর্চা , তাঁর চিন্তা ও ভাবনার প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে গত ২০১১ সালের জুন মাসে পশ্চিমবঙ্গ কাজী নজরুল আকাদেমি গঠিত হয়েছে । কবির প্রতি শ্রদ্বাজ্ঞাপনের জন্য এই আকাদেমির উদ্যোগে নজরুল – জন্মোৎসব এবং তাঁর প্রয়াণকে স্মরন করে নজরুল – প্রয়ানদিবস পালন করা হয় । এছাড়া আকাদেমির অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রকাশনা ও গবেষনাধর্মী কাজকর্ম, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ২/৩ দিনের নজরুলগীতির কর্মশালা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন , বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের নজরুল- গবেষকদের নিয়ে আলোচনাসভা ইত্যাদি।

রাজবংশী ভাষা আকাদেমি

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশের এক বৃহৎ জনগোষ্ঠী রাজবংশী ভাষাভাষী মানুষের বাস। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে রাজবংশী ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়ন, প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে ২০১১ সালে রাজবংশী ভাষা আকাদেমি গঠিত হয়েছে। কোচবিহারের ভিক্টর প্যালাসে এই আকাদেমির কার্যালয়। আকাদেমির উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে যার মধ্যে রাজবংশী ভাষার ওপর কর্মশালা, আলোচনাসভা, আকাদেমির ‘ভোগা’ নামক মুখপত্রের নিয়মিত প্রকাশনা প্রভৃতি। এছাড়া রাজবংশী ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে যেসকল মনিষীদের বিশেষ অবদান রয়েছে তাঁদের জন্মদিন পালন ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্বাজ্ঞাপন রাজবংশী ভাষা আকাদেমির এক নিয়মিত কর্মসূচি । প্রতি বছর ২৮ অক্টোবার এই আকাদেমির উদ্যোগে ‘রাজবংশী ভাষা সম্মাননা দিবস’ পালন করা হয়ে থাকে।

বীরসা মুন্ডা আকাদেমি

রাজ্যের অরণ্যচারী মানুষের আর্থ–সামাজিক ও অর্থনৈতিক ও সাংস্কৄতিক জীবনের উন্নয়নের লক্ষ্যে গত ২০১২ সালের জানুয়ারী মাসে বীরসা মুন্ডা আকাদেমি গঠিত হয়েছে।ঝাড়গ্রাম স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এই আকাদেমির অফিস চালু করা হয়েছে ।এই আকাদেমির উদ্যোগে ‘সাড়ে সাকাম’ নামে মুন্ডারি ভাষার একটি সিডি তৈরি করা হয়েছে এবং মুন্ডারি ভাষায় একটি অডিও অ্যালবাম প্রকাশের কাজ চলছে।

পশ্চিমবঙ্গ হিন্দি আকাদেমি

পশ্চিমবঙ্গ হিন্দি আকাদেমি ২০১১ সালে শিক্ষা দপ্তর থেকে তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগে আনা হয়। মাননীয় সাংসদ শ্রী বিবেক গুপ্তা এই আকাদেমির সভাপতি। সংস্কৃত কলেজের দুটি ঘর নিয়ে এই আকাদেমির অফিস চালু করা হয়েছে। এই আকাদেমির একটি গ্রন্থাগার রয়েছে। এই গ্রন্থাগারে মহামূল্যবান বই , গবেষণামূলক পত্রপত্রিকা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ যাত্রা আকাদেমি

পশ্চিমবঙ্গ যাত্রা আকাদেমির সন্মানিত সদস্যদের উদ্যোগ ও অংশগ্রহনে প্রতিবছর উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হওয়া পশ্চিমবঙ্গ যাত্রা উৎসবের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এ বছর বারাসতের কাছারি ময়দানে বিপুল জনসমাগমে এই উৎসবের উদ্বো্ধন করেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া ২০১২-১৩ সালে ফনিভূষণ বিদ্যাবিনোদ যাত্রা মঞ্চকে খোলনলচে পালটে নতুনের মত করে গড়ে তোলার পর থেকে সেখানেও নিয়মিত যাত্রা উৎসব পালিত হয়। এভাবে যাত্রা উৎসবের পরিসরকে অনেকটাই বাড়িয়ে তুলতে পেরেছে পশ্চিমবঙ্গ যাত্রা আকাদেমি।

শিশু কিশোর আকাদেমি

শিশু কিশোরদের সুকোমল বৃত্তি এবং শিল্পমনস্কতাকে প্রোৎসাহিত করতে শিশু কিশোর আকাদেমি স্থাপিত হয়েছিল। এ বছর শিশু কিশোর আকাদেমি আয়োজিত শিশু-কিশোর উৎসবে অগনিত শিশু কিশোর উৎসাহ ও উদ্দিপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে। শিশু কিশোর আকাদেমি প্রতি বছর আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনও করে।

তাছাড়া কাজি নজরুল ইসলামের নানা শিল্প কীর্তি সংরক্ষণ, প্রচার ও নজরুলচর্চা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে উদ্যোগ নিতে রাজ্য সরকার কাজি নজরুল ইসলাম আকাদেমি স্থাপন করেছে। সাঁওতালি, রাজবংশী এবং নেপালি ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চাকে প্রোৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে যথাক্রমে বিরসা মুণ্ডা আকাদেমি, রাজবংশী আকাদেমি এবং নেপালি আকাদেমি স্থাপন করেছে।সম্প্রতি সরকার একটি টেলি আকাদেমিও স্থাপন করেছে।

বড় প্রেক্ষাগৃহ সংস্কার

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডে জনসাধারণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কলকাতা এবং বিভিন্ন জেলায় বড় প্রেক্ষাগৃহগুলির সংস্কার করে সেগুলির আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ঐতিহাসিক মহাজাতি সদন, রবীন্দ্র সদন এবং কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইন্সটিটউট হল রাজ্যের সাংস্কৃতিক মানচিত্রের গর্ব। শিলিগুড়ির দিনবন্ধু মঞ্চ রাজ্যের সুন্দরতম প্রেক্ষাগৃহগুলির অন্যতম।

রবীন্দ্র সদন

সরকারি প্রেক্ষাগৃহগুলির মধ্যে রবীন্দ্র সদন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।রাজধানী প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই প্রেক্ষাগৃহে যাতায়াতের সুবিধা সর্বাধিক। গ্রাউন্ড ফ্লোরে ৭৩৪ এবং ব্যালকনিতে ৩৬৭ বসার সিট মিলিয়ে মোট ১১০১ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। ১৯৬১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জহরলাল নেহরু এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রায় ১২০০০ বর্গ ফুট এলাকার উপর গড়ে ওঠা এই প্রেক্ষাগৃহর উদ্বোধন হয় ১৯৬৬ সালে।

মহানগরের সাংস্কৃতিক প্রানকেন্দ্র রবীন্দ্র সদন- নন্দন চত্বর। সংস্কৃতি প্রেমী মানুষ প্রতিদিন রবীন্দ্র সদন ও শিশির মঞ্চে বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখতে ভিড় জমান, বাংলা আকাদেমিতে কবিতা পাঠ শোনেন, গগণেন্দ্র শিল্পপ্রদর্শনশালায় চারুশিল্পের প্রদর্শন করেন, ‘নন্দন’ এ ব্যতিক্রমী কোনও সিনেমা দেখেন অথবা নিছকই ঘুরে বেড়ান, গল্প করেন, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিল্প সংস্কৃতি নিয়ে আড্ডা মারেন, স্বাস্থকর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে অবকাশ যাপন করেন। এই নির্মল আনন্দের চিত্র বর্তমান শান্তি ও সামাজিক সুস্থিতির প্রকৃষ্ট অভিজ্ঞান। এছাড়া অনেকেই উত্তর কলকাতার গিরীশ মঞ্চ বা দক্ষিণ কলকাতার মধুসূদন মঞ্চে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ করতে যান।

শিশির মঞ্চ

১৯৭৮ সালে স্থাপিত ৪০০ সিট বিশিষ্ট এই প্রেক্ষাগৃহটি বাংলার প্রবাদ প্রতিম অভিনেতা এবং নির্দেশক শিশির ভাদুড়ির নামে  নামাঙ্কিত। রাজ্য সরকার এখানে নিয়মিত নানা স্বাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করে।তাছাড়া এখানে প্রায়ই বিভিন্ন নাট্যদলের গ্রুপ-থিয়েটার গুলি মঞ্চস্থ হয়।

মধুসূদন মঞ্চ

দক্ষিণাপন শপিং কমপ্লেক্সের পাশে গড়ে ওঠা মধুসূদন মঞ্চে ৮৪৬ জন দর্শকের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা তাদের আলোচনাসভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্যে নিয়মিত এই প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া নেন। ১৯৯৫ সালে এই প্রেক্ষাগৃহটি নির্মিত হয়েছিল।

গিরীশ মঞ্চ

১৯৪৬ সালে উত্তর কলকাতায় স্থাপিত গিরীশ মঞ্চ প্রেক্ষাগৃহে ৯১০ জন দর্শকের বসার যায়গা আছে।  বিভিন্ন সংস্থা তাদের আলোচনাসভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্যে নিয়মিত এই প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া নেন।তাছাড়া মঞ্চ এবং তথ্য সংস্কৃ্তি অধিকারের যৌথ উদ্যোগে দুটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

মহাজাতি সদন

১৯৩৯ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই প্রেক্ষাগৃহের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী এই মহাজাতি সদন।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের নাম এর সাথে জড়িয়ে আছে। প্রেক্ষাগৃহে ১৩০৯ জন এবং সেমিনার হলে ১৬০ জন দর্শকের বসার ব্যবস্থ্যা রয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা তাদের আলোচনাসভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্যে নিয়মিত এই প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া নেন।

কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয় ইন্সটিটউট হল

১৯৮৫ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কতৃক অধিগ্রহনের পর থেকে এই প্রেক্ষাগৃহের ব্যবস্থ্যাপনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার ১০ সদস্যবিশিষ্ঠ কমিটি গঠন গড়ে দিয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা তাদের আলোচনাসভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্যে নিয়মিত এই প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া নেন।এই প্রেক্ষাগৃহের আসন সংখ্যা ৯১০।

দীনবন্ধু মঞ্চ, শিলিগুড়ি

প্রখ্যাত নাট্যকার দীনবন্ধু মিত্রের স্মৃতিতে নির্মিত এই সরকারী প্রেক্ষাগৃহের আসন সংখ্যা ৯১৩। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন সংস্থা তাদের আলোচনাসভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্যে নিয়মিত এই প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া নেন।

মিনার্ভা নাট্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র

পশ্চিমবঙ্গ সরকার কতৃক অধিগ্রহনের পর থেকে মিনার্ভা থিয়েটারের নামকরণ করা হয় মিনার্ভা নাট্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র।বিভিন্ন সংস্থা তাদের আলোচনাসভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্যে নিয়মিত এই প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া নেন।বাংলা নাটকের ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এখানে একটি সেন্টার অব্ এক্সসেলেন্স অন হিস্ট্রিঅনিক আর্ট সংরক্ষণাগার তোলা হয়েছে।

পুরস্কার

রাজ্যের সমৃদ্ধ  সাংস্কৃতিক পরম্পরার পৃষ্টপোষকতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রাজ্য সরকার সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্রের কৃতীদের নিম্নলিখিত ২১ পুরস্কার প্রদান করেঃ

রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার (৩ টে ক্যাটাগরি), নজরুল স্মৃতি পুরস্কার, বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার, বিদ্যাসাগর স্মৃতি পুরস্কার (২ টে ক্যাটাগরি), গিরীশ পুরস্কার, অবনীন্দ্র পুরস্কার, রামকিঙ্কর বেইজ পুরস্কার, বিনোদবিহারী পুরস্কার, আলাউদ্দিন পুরস্কার, উদয়শঙ্কর পুরস্কার, গিরিজাশঙ্কর পুরস্কার, জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ পুরস্কার, ঠাকুর পঞ্চানন বর্মা পুরস্কার, পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু পুরস্কার, সুধী প্রধান পুরস্কার, লালন পুরস্কার এবং বীনা দাশগুপ্ত পুরস্কার।

এগুলি ছাড়াও সঙ্গীত মহাসম্মান, সঙ্গীত সম্মান, মহানায়ক সম্মাননা, শিল্পী মহাসম্মান, শিল্পী সম্মান, লাইফটাইম আ্যচিভমেন্ট, ঐতিহাসিক কলা সমলোচক পুরস্কার, শান্তিগোপাল ও তপন কুমার পুরস্কার এবং টেলি অ্যাকাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এগুলির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হল বঙ্গবিভুষণ ও বঙ্গভূষণ পুরস্কার- যা শিল্প, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে উৎকর্ষতার জন্য প্রদান করা হয়।

সর্বোপরি, পশ্চিমবঙ্গ কে তার সহস্র বছরের ঐতিহ্য প্রাকৃ্তিক সম্পদ এবং শিল্পকর্মের মাধ্যমে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরতে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবিধ প্রচেষ্টার অঙ্গ হিসাবে বিশ্ব বাংলা-কে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সমস্ত হস্তশিল্প, তাঁতশিল্প এবং পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য MSME পণ্যের ব্র্যান্ড হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে।বিশ্ব বাংলা কর্পোরেশান স্থাপনের আগে পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার- ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট এক্সপোর্ট প্রমোশান সোসাইটি (Wbseps)কে বিশ্ব বাংলা ব্র্যান্ডের মালিকানা প্রদান করে এই প্রকল্পের রুপায়নের দায়িত্ব অর্পন করা হয়েছে।বিশ্ব বাংলা আউটলেটগুলিকে রাজ্যের উৎকৃষ্ট হস্তশিল্প ও তাঁতশিল্পের আদর্শ প্রদর্শন ও বিক্রয় কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হবে। ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট এক্সপোর্ট প্রমোশান সোসাইটি (Wbseps)৫ টি বিশ্ব বাংলা আউটলেটকে সবুজক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব রেখেছে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ও ভারতের বিভিন্ন শহরে বিশ্ব বাংলা আউটলেট গড়ে তোলার প্রস্তাব রেখেছে।২০১৪ সালে কলকাতা বিমানবন্দর এবং দক্ষিনাপনে দুটি বিশ্ব বাংলা আউটলেট খোলা হয়েছে।

সাহিত্য

gallery historygallery history

বাংলা পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ভাষা। এক গভীর ঐতিহ্যের উত্তারাধিকার মন্ডিত এই ভাষা এযাবৎ সৃষ্ট সমস্ত ভাষাগুলির মধ্যে অন্যতম গভীর ও জটিল। এই ভাষায় যথার্থ বুৎপত্তি অর্জন করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। তারপরেও ভাষা শিক্ষা যখন শেষ হয় তখন মনে হয় সেটা বিশাল মহাসমুদ্রের কয়েক বিন্দু জলকণার মত। এই হল বাংলা ভাষা! শৈশব থেকে বাঙালিরা চর্যাপদ থেকে শুরু করে মঙ্গল কাব্য, ঠাকুরমার ঝুলি ও আরও অনেক মহত্তম সাহিত্যকর্মের সঙ্গে পরিচিত হয়। অতি শৈশবেই সুত্রপাত ঘটে ভাষার সঙ্গে প্রনয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম, মাইকেল মধুসুদন দত্ত এবং শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ অসামান্য সাহিত্যস্রষ্টার জন্মস্থান হল এই পশ্চিমবঙ্গ। ঔপনিবেশিকতার যুগ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত বাংলার সাহিত্য কীর্তির মধ্য দিয়ে সমাজ সংকারের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ ও রাজা রামমোহন রায় – এর রচনা এক্ষেত্রে প্রকৃষ্ঠ দৃষ্টান্ত। বাংলার নবজাগরণের পুরোধা ব্যক্তি বর্গের মধ্যে এঁরা অগ্রগণ্য। বিংশ শতাব্দির উত্তরপর্বে বাংলা সাহিত্যের জগতে উত্তর-আধুনিক ভাবনার বিচ্ছুরণ ঘটে যেসব লেখকের রচনার হাত ধরে তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মানিক বন্দোপাধ্যায়, মহাশ্বেতা দেবী, সমরেশ মজুমদার প্রমুখ।

নাটক ও চলচিত্র 

gallery history

চলচ্চিত্রের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের ভালবাসা দীর্ঘদিনের। অনেক বরেণ্য চলচ্চিত্র নির্মাতার উত্থান এখানে দেখা গিয়েছে। বহু উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র সৃষ্টির জন্যে আ্যকাডেমি পুরষ্কারে ভূষিত সত্যজিত রায় এবং তপন সিংহ, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেনের মত নির্দেশক বাংলার চলচ্চিত্র জগৎকে আলোকিত করেছে। কলকাতার টালিগঞ্জ ক্ষেত্র যা টলিউড নামে খ্যাত, সেখানে প্রধান প্রধান ফিল্ম স্টুডিয়ো গুলি অবস্থিত। একে অন্যতম ব্যস্ত বানিজ্য কেন্দ্র বলা হয়। বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, অপর্ণা সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ প্রমুখ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃষ্টি সারা বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়।

সঙ্গীত ও নৃত্য 

gallery history

সঙ্গীত প্রসঙ্গে বলা যায় যে পশ্চিমবঙ্গ রবীন্দ্রসঙ্গীতের জন্মভুমি। সঙ্গীতের এই ধারাটিকে জনপ্রিয় করেছেন স্বয়ং কবি ও গীতিকার- রবীন্দ্রনাথ। সাহিত্যের জগৎ এ তাঁর সুবিশাল অবদানের জন্যে তিনি নোবেল প্রাইজ লাভ করেন। কিন্তু অন্য স্থানের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের স্বকীয়তা এইখানেই যে, অজস্র লোক সঙ্গীত ও লোক নৃত্য শৈলীর উপস্থিতি। উদাহরন হিসেবে বীরভুম জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বাউল গানের সংস্কৃতির উল্লেখ করা যায়; বাউল- ফকিররা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে যৎসামান্য বাদ্য যন্ত্রের অনুষঙ্গে প্রকৃতি ও অন্যান্য বিষয় অবলম্বন করে গান করে বেড়ায়। এছাড়া আছে কির্তন কিংবা গাজনের গানের ধারা। নৃত্যের কথা বলতে গেলে পুরুলিয়ার ছৌ- নৃত্যের কথা বলতে হবে যা সকলের ক্ষেত্রেই অবশ্য দর্শনীয় তালিকায় পড়বে।ছৌ- শিল্পীরা বর্ণময় মুখোশে আবৃত হয়ে নানাবিধ সাবেকী ঐতিহ্য মেনে নৃত্য পরিবেশন করেন। কিন্তু জনসাধারনের রুচির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতিতে অনুপ্রবিষ্ট হয়েছে। বিশেষ বিশেষ শহরের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে রক ও পপ সঙ্গীতের অনুষ্ঠান জনপ্রিয় হয়েছে।

কলা

gallery history

শিল্পকলার কথায় আসা যাক। বাংলার নিজস্ব একটি চিত্রশিল্প ও ভাস্কর্যশিল্পের ধারা আছে। ঔপনিবেশিক শাসনাধীন থাকার সময় এর উৎপত্তি। কলকাতা ও শান্তিনিকেতনে এর উৎপত্তির শিকড় নিহিত আছে। শিল্পের এই ধারা বা আন্দোলন, যে নামেই একে অভিহিত করা হোক না কেন, তা ছিল স্বদেশী আন্দলেনের ফলশ্রুতি। এর পথিকৃৎ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পরবর্তীকালে অনেক শিল্পীর আগমন ও নির্গমন ঘটেছে। প্রত্যেকেই তাঁর নিজস্ব শিল্পধারাটিকে বাংলার সুবিশাল শিল্পকলা ও ভাস্কর্যের ভান্ডারে যুক্ত করেছেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কালিপদ ঘোষাল, নন্দলাল বসু, যামিনী রায়, রামকিঙ্কর বেজ প্রমুখ উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক।

উৎসব

gallery history

বাংলার ইতিহাস জানতে হলে দুর্গাপূজার উল্লেখ অবশ্যই করতে হবে। এটি বাংলার বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব এবং পালিত হয় সপ্তাহ জুড়ে। এই উৎসবটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ এবং সকলে এর দিকে এতটাই ঔৎসুক্য নিয়ে তাকিয়ে থাকে যে, বছরের দুর্গাপূজার সময়তাটে গোটা রাজ্যই ছুটির আবহে ঢেকে থাকে। কিন্তু দুর্গা পুজা ছাড়াও পৌষ মেলা ঈদ, দোলযাত্রা ইত্যাদি উৎসব, নবান্ন, বুদ্ধ পূর্ণিমা এবং বাঙ্গালির নববর্ষ পয়লা বৈশাখ—এর মতো অন্যান্য অনেক উৎসব এখানে পালন করা হয়।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: ইতিহাস