শিরোনাম

পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাসের পথ ধরে

ইতিহাসের পথ ধরে:

প্রাক-ঔপনিবেশিক কাল থেকেই, পশ্চিমবঙ্গ বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক পীঠস্থান।স্মরণাতিত কাল থেকেই এখানে বহু মহৎ কীর্তি জন্মলাভ করেছে- তা সে গীতিকাব্য, গদ্য, কবিতা, শিল্পকলা যাই হোক না কেন।আর এই সাংস্কৃতিক সাফল্যের পেছনে থাকা কারণ গুলির মধ্যে একটা কারণ হল এই রাজ্যের ভূসংস্থান (টোপোগ্রাফি)।সবকিছুই আছে এখানে- সাগর, নদী, অরণ্য, পাহাড়, পর্বত-সবকিছু। এত প্রেরনার উৎস পশ্চিমবঙ্গ-কে তো পরম প্রেরনাদাতা বলাই যায়- কত কাব্যেরই না জন্ম দিয়েছে সে।

west bengal tourism

যদিও ১৯০৫ সালের দেশভাগের মধ্য দিয়েই মূলত এই রাজ্যের গঠন সম্পূর্ণ হয়েছে তথাপি সেই প্রথম থেকেই পশ্চিমবঙ্গ ঐতিহ্য ও পরম্পরায় সিঞ্চিত হয়ে আছে।সারা রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে স্মৃতিসৌধ- যা স্থাপত্যবিদ্যার চমৎকার নিদর্শন।পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাকে- তো এখনও ‘সিটি অব প্যালেসেস’ বলা হয়। এইরকম বলার কারণ এটাই যে এখনও বর্তমানের কলকাতার কংক্রিটের জঙ্গলের মধ্যে বহু প্রজন্মের পুরনো চমৎকার স্থাপত্যশৈলীর সন্ধান পাওয়া যায়- তা সে মন্দির, অট্টালিকা, উত্তর কলকাতার প্রাচীন বনেদি বাড়ি বা সেই কোন কালে ব্রিটিশদের করা অজস্র ঔপনিবেশিক স্থাপত্যকীর্তির ধংস্বস্তুপ যাই হোক না কেন। সেইসময় থেকে কলকাতা বা তখনকার ‘ক্যালকাটা’- ‘সিটি অব প্যালেসেস’ । একসময় এই শহর সারা ভারতের রাজধানী ছিল।

আর মন্দির আর প্রাসাদের কথায় বলা যায় যে আপনি বিষ্ণুপুরে গেলে অজস্র পোড়ামাটির মন্দির দেখতে পাবেন। আর ১৮২৪-১৮৩৮ এর মধ্যে মুর্শিদাবাদে গড়ে ওঠা হাজারদুয়ারী অন্যতম সেরা শিল্পকর্ম।এটি স্থপতি ডানকান ম্যাকলিয়ড নবাব নাজিম হুমায়ুন ঝাঁ-র জন্য বানিয়ে দিয়েছিলেন।নামেতেই বোঝা যাচ্ছে এই প্রাসাদে হাজারখানেক দরজা আছে। আর তার সাথে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঝাড়বাতি। এই রাজ্যের অন্যতম সেরা বিস্ময়কর স্থাপত্য কীর্তি মধ্যে রয়েছে ১৮৮৭ সালে তৈরি হওয়া কুচবিহার প্রাসাদ, সেন্ট পলিস ক্যাথিড্রাল, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, দক্ষিণেশ্বরের মন্দির, রবীন্দ্র সেতু বা হাওড়া ব্রিজ। কিন্তু এইসব বি-গতকালের জৌলুশের কথা বাদ দিলেও পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত উৎকর্ষতা রয়েছে তার ভৌগলিক বৈচিত্রতার মধ্যে। পশ্চিমবঙ্গের বুক চিরে যাওয়া স্রোতস্বিনী গঙ্গা নদীতে নৌকাবিহার করলে দুপারের দৃশ্যাবলী আপনাকে মনে করিয়ে দেবে সেই যাত্রাপথের কথা – যে পথ ধরে গঙ্গাপারের ক্ষুদ্র সামান্য বসতি বর্তমানের সমৃদ্ধশালী পশ্চিমবঙ্গে পরিণত হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ দক্ষিণে, গাঙ্গেয় সমতলভূমি থেকে উত্তরে সেই হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল অব্ধি বিস্তৃত হওয়ার কারণে এর বহু-সং-স্থানগত বৈচিত্র্যের মধ্যে ম্যানগ্রোভ অরণ্য ও বঙ্গোপসাগর রয়েছে।

গিরি:

gallery history

পশ্চিমবঙ্গ হিমালয় পর্বতসারির কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ার কারণে, এর মধ্যে রয়েছে বহূ উল্লেখযোগ্য ছোটো ছোটো পাহাড় ও উঁচু পর্বতচূড়ো যার মধ্যে অনেকগুলী পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে জনপ্রিয়। দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিক-এরকমই কিছু জায়গা যা বছরের যে কোনো সময়ে গেলেই পাহাড়ী নিস্তরঙ্গ শান্তির মধ্যে আপনি ঢুকে পড়তে পারবেন। পৌঁছাতে পারবেন প্রকৃতির কাছাকাছি। দুঃসাহসিক মনোভাবাপন্নেরা সান্দাকফু যেতে পারেন। সেখানে সংগঠিত ভাবে পাহাড়ে চড়ার অভিযান চালাতে পারেন।সান্দাকফু ৩৬৩৬ মিটার উঁচু ও পশ্চিমবঙ্গের উচ্চতম চুড়া। এ রাজ্যের বহু অংশেই শীতকালে ভারী তুষারপাত হয়।ফলে শীতকালে এইসব পার্বত্য এলাকায় ঘুরতে গেলে বেশ আনন্দেই কাটানো যাওয়া যায়।

ম্যানগ্রোভ অরণ্য:

Royal bengal Tiger

সুন্দরবন এলাকা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং রাজকীয় অথচ বিপন্ন রয়াল বেঙ্গল টাইগারের জন্য বিখ্যাত। এই এলাকা মূলত জলা-প্রকৃতির। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য অসাধারন। আর ভাগ্য সহায় হলে তো রয়াল বেঙ্গল টাইগারের দূর্লভ দর্শনও মিলে যেতেও পারে।সপ্তাহের শেষটা কাটাতে  দলে দলে পর্যটক এই এলাকায় বেড়াতে আসেন এখানকার গাছপালা ও জীববৈচিত্র উপভোগ করতে।এখানে আপনি নৌকাবিহার করতে পারেন বা পূর্বনির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত সূচী অনুযায়ী দর্শনীয় স্থান দেখে বেড়াতে পারেন।

ডুয়ার্স:

gallery history

পূর্ব হিমালয়ে ছড়িয়ে থাকা অজস্র বানভাসী সমলভূমি ও কিছু টিলায় বহূ বনাঞ্চল ছড়িয়ে আছে।পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে এগুলিও চমৎকার।এখানকার অধিকাংশ স্থানীয়রাও মঙ্গোলীয় ধারার উত্তরসুরী। আর যে ব্যাপারটা সবচাইতে কৌতুহল জাগায় তা হল এখানকার টিলাগুলির যেদিকে সম্ভব সেদিকেই বিশাল বিশাল চা বাগান ছড়িয়ে আছে।আর আপনি যদি বন্যপ্রানীতে আগ্রহী হন তা হলে তো জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান, গরুমারা জাতীয় উদ্যান ও বক্সার জাতীয় উদ্যান- এ যেতে পারেন। এদের প্রতেকেরই নিজস্ব অদ্বিতীয় অরন্যকুল ও জীবকুল রয়েছে। এরা নানারকম কার্যক্রম ও পর্যটনের ব্যবস্থা করে থাকে যার মাধ্যমে আপনি সারাদিন ধরে এইসব অভয়ারণ্যর মধ্যে ঘুড়ে বেড়াতে পারেন।

সাগর থেকে তীরে:

sea to shore

পশ্চিমবঙ্গ বঙ্গোপসাগর অবধি বিস্তৃত থাকার কারণে সমুদ্রপ্রান্ত বরাবর অজস্র্র সমুদ্রসৈকত ছড়িয়ে আছে যা উডিশার সীমা অবধি পৌঁছে গেছে।শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে মুক্তির স্থান হিসাবে এইসব জনপ্রিয় সৈকতগুলী একেবারে আদর্শ।এদেরমধ্যে কয়েকটি হল দীঘা, শংকরপুর, বকখালী, তাজপুর ও মন্দারমণি।এইসব জায়গায় বিভিন্ন ধরনের থাকার বাসস্থান পাওয়া যায়। কাজেই বাজেট যাই হোক না কেন, আপনার পরিবার ও বন্ধুবান্ধব সমেত থাকবার আদর্শ জায়গা সপ্তাহ শেষে আপনি ঠিকই পেয়ে যাবেন।এখনে প্রচুর স্থানীয় রেস্তোঁরা ও খাওয়ার দোকান পাবেন যেখানে পছন্দমতো সেরা সামুদ্রিক খাবার পাওয়া যায়।এখানে নানা সস্তা জিনিসের বাজার আছে যেখানে অনেক স্থানীয় কুটিরশিল্প জাত জিনিসপত্র পাওয়া যায়।

শান্তিনিকেতন:

 

gallery history

নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরর অসংখ্য কীর্তির মাধ্যমে বীরভূম জেলার এই ছোট্ট শহরটি বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। সাধারণত শান্ত এই শহরটি পৌষমেলার সময় জেগে ওঠে। চারিদিক থেকে দলে দলে লোক সময় কাটানোর উদ্দেশ্যে এখানে আসে।এই উপলক্ষ্যে বহু জায়গা থেকেই মানুষের আগমন ঘটে এখানে- একসাথে জড়ো হন লোকগীতি-গায়ক, নৃত্যশিল্পী, শিল্পী, কবি ও লেখকেরাও।এই ছোট্ট শহরটিতে বিশ্বভারতীর মত বিশ্ববিখ্যাত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গনও রয়েছে যেখান থেকে আপনার পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করা সম্ভব।

তবে শান্তিনিকেতনের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য বিষয়টা হল এটাই যে এখানে আপনি প্রাণ ভরে বাউল সুর উপভোগ করতে পারেন। বাউল একধরনের লোক-গীতিমূলক সুর।এই সুর বাউল ফকির ও সাধু-সন্ন্যাসীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত। যে কেউই এই সুরে সুর মেলাতে পারে।


প্রিন্ট করুন

বিভাগ: ইতিহাস