পাসপোর্ট আটকা, শেষ ইচ্ছে পূরণ হলো না খোকার

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম: ২০১৭ সালে নবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দিয়েছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। এখনও পর্যন্ত ‘ওপর মহলের’ অযুহাতে খোকা ও তার স্ত্রীর পাসপোর্ট দেয়নি দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

দেশের জন্য যুদ্ধ করা এই বীর মুক্তিযোদ্ধার শেষ ইচ্ছে ছিল দেশের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস নেয়া। কিন্তু পাসপোর্ট আটকে থাকায় সেই ইচ্ছে আর পূরণ হলো না রাজধানীর প্রভাবশালী এই রাজনীতিবিদের!

কয়েকদিন আগে শারীরিক অবস্থা বুঝে আফসোস করে তিনি পরিচিত ও পরিবারকে বলেছেন যে, ‘আমার দুর্ভাগ্য দেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে পারবো না।’

ঢাকার সফল এই মেয়রের পাশে ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু আহমেদ হাসান মিন্টু। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘খোকা ও তার স্ত্রী ইসমত হোসেন নতুন পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর, নবায়নের জন্যে নিয়ম মেনে ফি দিয়ে দুই বছর আগে নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেটে জমা দেয়া হয়। কিন্তু, আজ পর্যন্ত পাসপোর্ট পাননি। কনস্যুলেট থেকে কোনও কিছু জানানোও হয়নি। তারা সর্বশেষ ৬ মাস আগে কনস্যুলেটে যোগাযোগ করে জানতে পারেন যে সরকারের উচ্চমহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পাসপোর্টের বিষয়টি জানতে হবে।’ব্রেকিংনিউজ

সেদিন মিন্টু আক্ষেপ করে বলেন, ‘ এখন খোকার যা অবস্থা এমন পরিস্থিতিতে যদি দুঃসংবাদও আসে তাহলে খোকাকে কীভাবে দেশে নেয়া হবে? তার স্ত্রীই বা কীভাবে ফিরবেন? অনিশ্চিত-অস্থির সময় পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।’

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মানবিক দিক বিবেচনায় খোকার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে অনুরোধ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও খোকার পরিবার।

তবে খোকার পরিবার ‘ট্রাভেল পারমিট’ এর জন্য আবেদন করলে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শেষ মুহূর্তের এমন বক্তব্যের একদিন পরেই শেষ আক্ষেপ নিয়ে চলে গেলেন সাদেক হোসেন খোকা।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি