পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউপি অনিয়ম ও দূর্নীতির আখড়া

পুঠিয়া প্রতিনিধি : রাজশাহীর পুঠিয়ার জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বার, সচিব ও তথ্য সেবাকেন্দ্রর অনিয়মের কারণে দূর্নীতির আখড়াই পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ইউনিয়নে চুক্তির মাধ্যমে ভূয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরি। সেই ভূয়া নিবন্ধন দিয়ে সরকারী সুবিধা ভিজিডি, মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং বাল্য বিবাহের মত ঘটনা অহরহ ঘটে চলেছে।

এমনি একটি ঘটনা ঘটেছে, মোছাঃ সোনিয়া বেগম ২০১৭ সালে মাতৃত্বকালীন ভাতা পায়। তখন স্কুলের দেওয়া তথ্য মতে তার বয়স ছিলো ১৮। সেই তথ্যমতে সনিয়ার যখন বিয়ে হয় তখন সে না বালিকা ছিলেন। সে সময় ভূয়া জন্ম নিবন্ধন দিয়ে তার বয়স দেখানো হয় ২১ বছর।

উপজেলা পরিষদের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিস থেকে প্রাপ্ত তালিকা সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে দেওয়া ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে মাতৃত্বকালীন ভাতা সিরিয়াল নং-০৯ নাম মোছাঃ সোনিয়া বেগম, স্বামীঃ মিজানুর, স্থায়ী ঠিকানা বিলমাড়িয়া, ওয়ার্ড নং-১ তার জন্ম তারিখ ৫ আগষ্ট ১৯৯৫ বয়স ২১ বছর।

তালিকা প্রাপ্ত হয়ে প্রথমে উল্লেখিত ঠিকানা বিলমাড়িয়া গিয়ে, খোঁজ করে তাদের পাওয়া যায়নি। পরবর্তিতে জানা যায় মিজানুরের বাড়ি জিউপাড়া। শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিলে মিজানুরের স্ত্রী সোনিয়া জানান, আমার পরিবারের দ্বন্দ্বের কারণে আমি বিলমাড়িয়াতে থাকি। আমি প্রথমে মাতৃত্বকালীন ভাতা সুবিধা পাওয়ার জন্য মমতাজ খাতুন মনি নিকট যায় কিন্তু তিনি কার্ড করে দেয়নি। পরবর্তীতে জেসমিন আরা আলেয়া মেম্বর আমার আইডি কার্ডে সিলিপ দিয়ে মাতৃত্বকালীন ভাতার বহি হিসাব নং-৯২৯৬ করে দেয়। সেই অনুযায়ী ১২ হাজার টাকা ভাতা পেয়েছি। আমি শিক্ষিত মেয়ে কার্ড করার বিষয়ে আমি কাউকে কোন টাকা দেয়নি। কেউ টাকা চাইলে আমি অফিসে চলে যাবো।

এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা তার বিষয়ে তথ্য নিতে যাওয়ায় তার স্বামী মিজানুর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করে।

উল্লেখ্য, একই তালিকায় ২৩ নং সিরিয়ালের ফাতেমা বেগম, স্বামী মাসুদ রানার ঘটনাও একই রকম ভূয়া নিবন্ধন দিয়ে বয়স কমিয়ে মাতৃত্বকালী ভাতা ভোগের অভিযোগ রয়েছে।
বিলামাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রহলাদ চন্দ্র জানান, আমাদের স্কুলের ভর্তি রেজিষ্টার অনুযায়ী সোনিয়া খাতুন তার জন্ম তারিখ ৫ আগষ্ট ১৯৯৮ সাল।

ততকালী ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান ছায়েদুর রহমান জামালের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহাবুবা সুলতানা সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি বাইরে আছি। আপনাদের কোন তথ্য দিতে পারবোনা। সোনিয়া বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ওলিউজ্জামান জানান, বিষয়টি আমার জানা নাই। তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ