শিরোনাম

পুঠিয়ায় কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন প্রদর্শনী জমি নির্ধারনে ও কৃষক প্রশিক্ষণে প্রকৃত কৃষক ছাড়াই অন্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কৃষকদের সাথে কম যোগাযোগ করে সারের ডিলার ও দলীয় নেতাদের দেখা সাক্ষাত করে চা খেয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রদর্শনী জমি নির্ধারনের জন্য অবশ্যয় রাস্তার পার্শ্বে জমি হতে হবে। ৩ বিঘার জমির প্লট হতে হবে। সেই কৃষককে উৎপাদিত ফসল থেকে বীজ সংরক্ষণ সহ বিভিন্ন নিয়ম মানলে তাকে প্রদর্শনীর জন্য মনোনীত করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার ১ নং পুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রহমান কর্মরত আছেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী একটি ব্লকে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদ শূন্য থাকায় তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। রহমানের বাড়ি চারঘাট উপজেলায়। তিনি তার কর্মরত উপজেলায় না থেকে বাড়ি থেকে ইচ্ছামত আসা যাওয়া করে। কোন দিন ১১ বা ১২ টার দিকে কর্মরত এলাকায় নামমাত্র এসে মাঠে না গিয়ে সারের ডিলার ও দলীয় নেতাদের দেখা সাক্ষাত করে চা খেয়ে দুপুর ১ টা বাজতেই তিনি বাড়ি চলে যায়। এছাড়া দলীয় নেতাদের মনোনীত কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী সহ বিভিন্ন সুবাধি প্রদান করেন।
এলাকাবাসী আরো জানান, তেমনি চলতি মৌসুমে পুঠিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের কান্দ্রা এলাকায় মৃত মোজ্জামেল হকের পুত্র মিলনের ৫০ শতক জমিতে প্রদর্শনী দেওয়া হয়ে। সেই জমিটি রাস্ত থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দুরে মাঠের মধ্যে। নিয়ম বর্হিরভূত ভাতে প্রদর্শনী দেয়। কিন্তু সেখানে কোন মসুরের ফলন হয়নি। কৃষি কর্মকর্তা অনিয়ম করে নেতাদের সুপারিশে সেই প্রদর্শনী নির্ধারণ করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রকৃত কৃষক ছাড়াই দলীয় লোকজনদের নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণ ও তার ভাতা ২ শত টাকা প্রদান করে। সকালে তাদের একটি রুটি, কলা এবং একটি সিঙ্গারা ও দুপুরে নাম মাত্র খাবার দেওয়ায় হয় বলে জানা যায়।
এছাড়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলায় তিনি তার বাড়ি থেকে আসা যাওয়া করেন। এছাড়া সরকারী নিয়ম মোতাবেক ৩ বছর এক স্টেশনে থাকার নিয়ম থাকলেও তিনি দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর থেকে একই স্টেশনে চাকুরী করে আসছেন। এরই সুবাদে আধিপত্য বিস্তার করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অনিয়ম করে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুঠিয়া ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, এই অভিযোগ সত্য নয়। আমরা সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সাথেই কৃষক মিলনের জমিতে মসুরের একটি প্রদর্শনী ছিল। সেই জমিটা রাস্তা ঘাট থেকে মাঠের ভিতরে। সে ফসল ভাল না হওয়ায় বীজ রাখতে পারেনি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনজুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি প্রদশর্নীর তথ্য দিতে অপারগত স্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন তথ্য অধিকার আইন মোতাবেক আবেদন করেন। তাও দিতে পারবো না।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ