পুঠিয়ায় জিউপাড়া ইউপির মেম্বারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর পুঠিয়ায় জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য (মেম্বার) জেসমিন আরা খাতুন ওরফে আলেয়া’র কান্ড। তিনি নিজে মেম্বার হওয়ার সুবাদে চেয়ারম্যান ও সচিব এবং উপজেলার কিছু কর্মকর্তা সহযোগীতায় অনিয়মের মাধ্যমে নিজের পরিবার ও আতœীয় স্বজনদের নামে ভিজিডি, ভিজিএফ, কর্মসূচি, প্রতিবন্ধি, বয়স্কভাতা, বিধাবাভাতা ও ফেয়ার প্রাইজসহ বিভিন্ন রকম প্রায় ৩১ টি সুবিধা ভোগ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু প্রশাসন অজ্ঞাত করণে নিরব ভূমিকা পালন করছে।

উপজেলা পরিষদ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রকল্পের তালিকা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার ৬ নং জিউপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ১, ২ এবং ৩ আসনের সদস্য (মেম্বার) জেসমিন আরা খাতুন আলেয়া অনিয়মের মাধ্যমে তার স্বামী সরিষাবাড়ী গ্রামের মোঃ হাবিবুর রহমানের নামে কর্মসূচি তালিকা নং ১, ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩৩১ এবং মেয়ে আলজান্নাতুল সুমি প্রতিবন্ধি তালিকা নং ৭৬। তার ছোট বোন রেহেনা নামে ভিজিডি তালিকা নং ৭৩ ও ফেয়ার তালিকা নং ৩১০ এবং তার স্বামী সেলিম এর নামে কর্মসূচি তালিকা নং ১৯, ভিডিএফ এর তালিকা নং ৪৩০। তার ভাগ্নে আল-মারুফ এর নামে ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩১৪, ভিজিএফ তালিকা নং ৬২৬ এবং ভিজিডি তালিকা তার বৌ রতœা নং ৭১। তার ভাই রবিউল এর নামে কর্মসূচী তালিকা নং ২২, ভিজিএফ তালিকা নং ৪৩৭ এবং তার স্ত্রী স্বর্ণা, পিতাঃ আঃ খালেক নাম দিয়ে ভিজিডি তালিকা নং ৭২। রবিউল এর ১ম স্ত্রী রুকসানা কর্মসূচী তালিকা নং ২০ এবং ভিজিএফ তালিকা নং ৪৪০।

আরেক ভাই ইলিয়াস এর নামে কর্মসূচি তালিকা নং ৬, ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩১৬ এবং তার ছেলে প্রতিবন্ধি- ইয়াসিন ১৮৯। আরেক ভাই আসাদুল ওরফে মকলেছ এর বৌ পপি ভিজিএফ তালিকা নং ৪৫৯, ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩১৭। তার ভাগ্নে মাজদান ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩০২ এবং তার স্ত্রী জরিনা ভিজিডি তালিকা নং ৭৮। ভাসুরের বৌ হনুফা ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩১৮ (তিনি ১ বছর পূর্বে মারাগেছে)। চাচাতো ভাই নাসির ফেয়ার প্রাইজ তালিকা নং ৩০৬ এবং বোন নূরজাহান তালিকা নং ২৯৯।
অপরদিকে ফেয়ার প্রাইজ তালিকায় ৩০৮ ভাষান (মেম্বরের স্বামীর বোনের স্বামী), ৩১১ সৈয়দ (মেম্বরের স্বামীর বোনের স্বামী), ৩০৯ রমজান (ভাসুরের ছেলে), ৩১৩ রজব (ভাসুরের ছেলে) এবং ৩১৫ দেলবার ভাগ্নে (এলাকায় থাকেনা) এবং ভিজিএফ তালিকা নং ৪৩৫ সুবিধা ভোগ করে।

আরেকটি সূত্র জানায়, ২০১৩-১৪ সালে মেম্বার জেসমিন নিজে ভিজিডি তালিকায় সুবিধা ভোগ করেন। এছাড়া তার আতœীয় স্বজন প্রতি অর্থ বছরেই নামে, বে-নামে সরকারের বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করে থাকেন।

এলাকাবাসীর দাবী মেম্বার হওয়ায় তিনি তার আতœীয় সজনদের নামে বে-নামে একাধিক প্রায় ৩১ টি সুবিধা ভোগ করছে। তাহলে এলাকায় কি তারাই শুধু গরীব আর কেউ নেই? তাই তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান প্রশাসনকে।

সদস্য (মেম্বর) জেসমিন আরা আলেয়া’র ফোনে যোগযোগ করে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল আমিন সরকার জানান, আমি নির্বাচনে জয়লাভের পর বিভিন্ন সময় আমি বাইরে ছিলাম তাই বিষয়গুলি আমার জানা নাই। আর মেম্বরা যাকে মনোনীত করে তার নামই তালিকায় দেওয়া হয়। তবে কেউ একাধিক থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করবো।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহাবুবা সুলতানা জানান, ভিজিডি প্রকল্পের উপজেলার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। তিনি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। তবে কেউ একাধিক সুবিধা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ওলিউজ্জামান জানান, সরকারী নিয়ম অনুযায়ে এক পরিবারের মাত্র একজন ব্যক্তি একটি মাত্র সুবিধার আওতায় থাকবে। কেউ একাধিক সুবিধা পাওয়ার নিয়ম নাই। আর তা যদি পেয়ে থাকে তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।#

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ