পুঠিয়ায় ডিলারদের গোডাউনে নিম্নমানের ইউরিয়া সারে ভর্তি

পুঠিয়া-রাজশাহী, প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর পুঠিয়ায় বিসিআইসি’র ডিলারদের গোডাউনে ইউরিয়া সারে কালো ময়লা ও দলা ধারা নিম্নমানের বস্তায় ভর্তি হয়ে আছে। এছাড়া কৃষি অফিসের তদারকি ও মনিটরিং না থাকায় উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে মুদিখানা, হার্ডওয়ার, সেন্ডেলের সহ বিভিন্ন দোকানে সার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দোকান গুলোতে সার বিক্রয় মূল্য তালিকা ঝুলানো থাকে না। আর থাকলেও উল্টানো থাকে। কিন্তু কৃষি অফিস কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে ৮টি বিসিআইসি’র ডিলার রয়েছে। এসব ডিলারদের দোকান/গোডাউনে ইউরিয়া সারের বস্তায় কালচে ও ফোলা দেখা যায়। তার মধ্যে থেকে ময়লা ও কালো এবং দলা ধরা সার বের হচ্ছে।

উপজেলার কৃষকরা জানান, আমরা ইউরিয়া সার ক্রেয় করতে গেলে ডিলাররা প্রথমে ময়লা ও কালো এবং দলা ধরা সার আমাদেরকে দিচ্ছে। আমরা যদি ভাল বস্তা থেকে সার চাই তা দিচ্ছেনা। তাই নির উপায় হয়ে ময়লা ও কালো এবং দলা ধরা সার ক্রয় করছি। কিন্তু জানিনা এই সার ধানের জমিতে ব্যবহার করলে উপকার হবে না ক্ষতি হবে। আবার অনেক কৃষকরা সেই সার ক্রয় করে নিয়ে গিয়ে ধানের ক্ষেতে না দিয়ে পুকুরে ফেলে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া দোকান গুলোতে সারের কোন মূল্য তালিকা ঝুলানো হবে। অথচ সরকারী নিয়মকে তোয়াক্কনা করে। মূল্য তালিকা না ঝুলিয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছে। এছাড়া কিছু ডিলারসহ বিভিন্ন হাট বাজারে মুদিখানা, হার্ডওয়ার, সেন্ডেলের সহ বিভিন্ন দোকানে সার বিক্রি করছে।

উপজেলায় কৃষি অফিসের মনিটরিং না থাকায় ডিলার ও সাব ডিলারদের সাথে গোপন চুক্তি থাকার সুযোগে এক শ্রেণীর অসাধু ডিলার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সারের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কৃষকদের কাছে চড়া মূল্যে সার বিক্রি করছেন। অপরদিকে ইউরিয়া সারে কালো ময়লা ও দলা ধারা নিম্নমানের সার বিক্রি করছে ডিলাররা। বিক্রেতাদের নিকট কৃষকরা সার কিনতে গেলে প্রথমে কালো ময়লা ও দলা ধারা নিম্নমানের সার দিচ্ছে। আর না হলে বিক্রি করছে না। এছাড়া বিভিন্ন এলাকা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বস্তা প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার বেলপুকুর ইউনিয়নের ধাধাস বিসিআইসি ডিলার মান্নান এর গোডাউনে গিয়ে শত শত ইউরিয়া বস্তা কালো নোংড়া ধরা বস্তা দেখা যায়। সেখানে কৃষকরা অভিযোগ করেন আমাদের কাছে খুচরা সার বিক্রয় করে না। আর খুরচা বিক্রেতার দোকানে গেলে কালো ময়লা ও দলা ধারা নিম্নমানের ইউরিয়া সার দিচ্ছে। ভাল সার দিচ্ছে।
গোডাউনে থাকা কর্মচারী জানান, এই নষ্ট সার আমরা কৃষকদের কাছে বিক্রি করিনা। মাছ চাষীদের কাছে বিক্রি করি।

বিসিআইসি ডিলার মান্নান জানান, আমরা খুচরা বিক্রয় করিনা। পার্শ্বে খুচরা দোকান আছে তারা খুচরা সার বিক্রি করে। নিম্ন মানের সার এটা বাফা থেকে যে সার সরবরাহ করেছে তা আমরা বিক্রি করছি।

পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনজুর রহমান জানান, কালো ময়লা ও দলা ধারা নিম্নমানের ইউরিয়া সারের বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই। এই সারের বিষয়ে বাফা কর্তৃপক্ষ জানে। আর আমাদের উপজেলায় কোনো সারের সংকট নেই। তবে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে গ্রাম পর্যায়ে কিছু দোকানী আছে তারা কৃষকদের কাছে বাকিতে সার বিক্রি করে। তাই তারা সারের দাম সামান্য কিছু বেশি নিতে পারে তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্তা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে রাজশাহীর বাফা’র ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া জানান, ইউরিয়া সার কালো ময়লা এবং দলা ধরা সারে গোডাউন থেকে প্রতিটি ডিলারকে এর সার দিয়েছে। কিন্তু এই সারে ফসলের কোন ক্ষতি হয়না।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ