পুঠিয়ায় রোপা আমন মৌসুমে প্রদর্শনীর কৃষকদের সার কম দেওয়ার অভিযোগ

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহী পুঠিয়ায় রোপা আমন মৌসুমে প্রদর্শনী ভূক্ত কৃষকদের সরকারী বরাদ্দকৃত সার কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মনজুর রহমান একই কর্মস্থলে ৫ বছরের অধিক সময় থেকে কর্মরত থাকায় তিনি বিভিন্ন মৌসুমে প্রদর্শনী ভূক্ত কৃষকদের সরকারী বরাদ্দকৃত সার কম দিয়ে নিজের আখের গুছানোর অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মনজুর রহমান জানান, সরকারী বিধি রাজস্ব খাতে, বিজ ৮ কেজি, ইউরিয়া ৩৫ কেজি, পটাশ-এমওপি ১৩ কেজি, জিংক ১ কেজি, ফসপেট-টিএসপি ১০ কেজি, জিপ সার ১০ কেজি, ড্রাম ১ টা, ধান পরিচর্যা খরচ ১৫ শত টাকা এবং ট্রেনিং বাবদ ৫ শত টাকা। চাষী পর্যায়, বিজ ১০ কেজি, পটাশ-এমওপি ২৫ কেজি, ডিএফপি ৩০ কেজি, জিংক ১ কেজি, বস্তা ৬ টা। বীজ উৎপাদন এনএটিপি পর্যায়ে বিজ ৫ কেজি, ইউরিয়া ৩৫ কেজি, পটাশ-এমওপি ১০ কেজি, জিংক ১ কেজি, ফসপেট-টিএসপি ২০ কেজি, জিপ সার ১০ কেজি, বোরন ১ কেজি, ড্রাম ২ টা এবং ট্রেনিং খরচ ৪ শত ৫০ টাকা। ফলন পার্থক্য এনএটিপি পর্যায়ে বিজ ৭ কেজি, ইউরিয়া ২৫ কেজি, পটাশ-এমওপি ১০ কেজি, জিংক ১ কেজি, ফসপেট-টিএসপি ১৫ কেজি, জিপ সার ১০ কেজি, বোরন ১ কেজি, ড্রাম ২ টা এবং ট্রেনিং খরচ ৪ শত ৫০ টাকা প্রদর্শনী কৃষকরা পাবেন।
পুঠিয়া ব্লকের রাজস্ব খাতের কৃষক আহম্মদ মোস্তফা জানান, ৫০ কেজির একটি বস্তায় ইউরিয়া ২০ কেজি সহ এক বস্তা সার দিয়েছে। কৃষি অফিসারের তথ্য মোতাবেক তাকে ১৫ কেজি সার কম দেওয়া হয়েছে।
ভালুকগাছী ইউনিয়নের সিংড়া ব্লকের ধান চাষী বাচ্চু জানান, কৃষি অফিস আমাকে সিলিপ দেয়। সেই সিলিপ জমা দিয়ে পুঠিয়া আহম্মদ আলীর ডিলার থেকে পটাশ-এমওপি সার ১৫ কেজি সহ কয়েক রকম প্রদান করেছে। কৃষি অফিসারের তথ্য মোতাবেক তাকে ১০ কেজি সার কম দেওয়া হয়েছে।
বেলপুকুরিয়া ভাংড়া ব্লকের কৃষক আব্দুল্লা জানান, কৃষি অফিস থেকে আমাকে ইউরিয়া সার ২০ কেজি সহ কয়েক রকম দিয়েছে। কৃষি অফিসারের তথ্য মোতাবেক তাকে ১৫ কেজি সার কম দেওয়া হয়েছে।
বেলপুকুরিয়া ভাংড়া ব্লকের এরশাদ আলী জানান, কৃষি অফিস থেকে একটি বস্তায় সার দিয়েছে। কিন্তু কি পরিমাণ দিয়েছে তা বলতে পারবো না।
ভালুকগাছী ইউনিয়নের তিতুমির জানান, পটাশ-এমওপি সার ২০ কেজি সহ কয়েক রকম সার প্রদান করে। কৃষি অফিসারের তথ্য মোতাবেক তাকে ৫ কেজি সার কম দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, তিনি দীর্ঘ ৫ বছরের অধিক সময় ধরে একই স্থানে থেকে তিনি বিভিন্ন প্রদর্শনীতে কম সার দেওয়া, প্রশিক্ষণের টাকা কম দেওয়া এবং প্রশিক্ষণের সময় কমা নাস্তা, দুপুরের খাবার দেয়। আর বিকেলের নাস্তা দেয় না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মনজুর রহমান জানান, আমরা কোন কৃষককে সার কম দেয়নি। আমরা কৃষকদের ডেকে এনে অফিস থেকে সার দিয়েছি। কোন কৃষককে সার কম দেওয়া হয়েছে তার নাম বলেন তাকে অফিসে ডেকে এনে প্রমাণ করে দিবো সার কম দেয়নি।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ