পুলিশের হেফাজতে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক চোরের রহস্যজনক মৃত্যু

পুঠিয়া- রাজশাহী, প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়া থায়ায় আটকের পর পুলিশের হেফাজতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ দিন পর এক ভ্যান চোরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তারেকের নানা আব্দুস ছাত্তার জানান, আমার নাতি ঘটনার দিনে ঝলমলিয়া বাজারে যায়। পরবর্তীতে সেখানে চোর সন্দেহে তাকে এলাকাবসী আটক করে চর থাপ্পর মারে। পরে সেখানকার মেম্বর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে গিয়ে মারধর করে রাতে থানায় জমা দেয়। পরের দিন থানা পুলিশ তারেককে হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে ভর্তির ২১ দিন পর গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে মারাযায়। এই হত্যার রহস্যের সঠিক বিচার চাই।

জিউপাড়া ইউনিয়নের মেম্বর জয়নাল জানান, গত সেপ্টম্বর মাসের ২৪ তারিখ রোজ সোমবার বিকেল ৫ টার দিকে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলার ঝলমলিয়া বাজার থেকে ভ্যান চোর নাটোর জেলার কাফুরিয়া গুচ্চুগ্রামের মহিদুল ইসলামের ছেলে তারেক (২২) কে এলাকাবাসী আটক করে। সে সময় এসআই তারাজুল আমাকে ফোন করে ডাকে। সে সময় প্রায় ঘন্টা খানিক পর আমি সেখানে উপস্থিত হই। সে সময় এসআই তারাজুল আমাকে বলে চুরির ঘটনায় কোন বাদী নাই। তাই আপনি নিয়ে গিয়ে একটি মিমাংসা করে দেন। তারপর আমি তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেই চোরের পরিবারকে খবার দিই। সে সময় তার মা ও ভাই ইউনিয়ন পরিষদে আসে।

মেম্বর তার পরিবারকে বলে যে কয়টা ভ্যান চুরি করেছে তার দাম দিলে তাকে ছেড়ে দেবে। সে সময় তার মা বলে আমরা গরীব মানুষ টাকা পয়সা দিতে পারবো না। পরে রাতে সেই চোরকে সাথে নিয়ে ভ্যানে করে থানায় নিয়ে গিয়ে জমা দিয়ে আসি। পরের দিন আমাদেরকে থানায় ডাকা হয়। সে সময় পুলিশ জানায় সে নেসা খোর নেশা খেতে না পেরে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জিউপাড়া ইউনিয়নের চৌকিদার ওসমান আলী জানান, ঘটনার দিন ঝলমলিয়া বাজার থেকে একটি ভ্যান চোরকে এলাকাবাসী আটক করে। পরবর্তীতে ইউপি সদস্য জয়নাল তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে। তারপর আমাকে খবর দেওয়া হয়। পরে আমি ইউনিয়ন পরিষদে আসি। সে সময় মেলা মানুষের উপস্থিতি ছিল। পরে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে সেই চোরকে সাথে নিয়ে ভ্যানে করে থানায় নিয়ে গিয়ে জমা দিয়ে আসি।

থানার এস আই মাজাহার আলী জানান, আমি শিলমাড়িয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ আমাকে এই মামলার তদন্তকারী অফিসার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
থানার অফিসার ইনচার্জ শাকিল উদ্দিন আহমদ জানান, গণপিটুনির পর তাকে থানায় এনে জমা দিয়ে যায়। পরবর্তীতে সে অসুস্থ্য হয়ে পরলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর সোমবার দুপুরে সে মারা যায়। এ বিষয়ে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ