নির্বাচিত খবর

প্লাজমা থেরাপি কি? কীভাবে কাজ করে?

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বাংলাদেশে নতুন করোনা চিকিৎসার পদ্ধতির নাম প্লাজমা থেরাপি। দুইদিন আগে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে প্লাজমা থেরাপি। গত শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্লাজমা দিয়েছেন কোভিড–১৯ থেকে সেরে ওঠা দুই চিকিৎসক। এর মাধ্যমে ঢাকা মেডিকেলে প্লাজমা থেরাপির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়। প্রথম দফায় ৪৫ জন মুমূর্ষু রোগীকে প্লাজমা দেওয়া হবে পরীক্ষামূলকভাবে।

আসুন জেনে নিই- প্লাজমা থেরাপি কি? কীভাবে কাজ করবে-

প্লাজমা পদার্থের তথাকথিত চতুর্থ অবস্থা (কঠিন, তরল ও বায়বীয় এর পর)। এক কথায়- রক্তের তরল, হালকা হলুদাভ অংশকে প্লাজমা বা রক্তরস বলা হয়। তিন ধরনের কণিকা ছাড়া রক্তের বাকি অংশই প্লাজমা বা রক্তরস। মেরুদণ্ডী প্রাণীর শরীরে রক্তের প্রায় ৫৫ শতাংশ রক্তরস থাকে।

প্লাজমা হচ্ছে আয়নিত গ্যাস যেখানে মুক্ত ইলেকট্রন এবং ধনাত্মক আয়ন এর সংখ্যা প্রায় সমান। আন্তঃনাক্ষত্রিক স্থানে, গ্যাস ক্ষরণ টিউব-এ, নক্ষত্র’র(এমনকি সূর্যের) বাতাবরণে এবং পরীক্ষামূলক তাপ-নিউক্লীয় বিক্রিয় ক(ঞযবৎসড়হঁপষবধৎ ৎবধপঃড়ৎ)-এ প্লাজমা দেখতে পাওয়া যায়। বৈদ্যুতিকভাবে প্রশম থাকা সত্ত্বেও প্লাজমা সহজেই বিদ্যুৎ পরিবহন করে। এদের থাকে অত্যুচ্চ তাপমাত্রা।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই ভাইরাস মোকাবিলা করে টিকে থাকতে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাসকে আক্রমণ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির প্লাজমা বা রক্তরসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডিই অন্য রোগীদের সুস্থ করার কাজে ব্যবহার করা হয়।

গবেষকরা বলছেন, ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে করোনাজয়ীদের রক্তে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। সে কারণেই সুস্থ হওয়া ব্যক্তি থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্লাজমা থেরাপি দেয়া হলে তার শরীরের ৯৯ শতাংশ ভাইরাসই মারা যায়।

কীভাবে দেয়া হবে প্লাজমা থেরাপি
চিকিৎসকরা আশা করছেন একজন সুস্থ রোগীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা প্লাজমা দুই থেকে তিনজন অসুস্থ রোগীকে দেয়া সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মহিউদ্দিন আহমেদ খান (এম এ খান) বলেন, ‘আপাতত কয়েকদিন আমরা শুধু প্লাজমা সংগ্রহ করবো। এসব প্লাজমায় কতটা অ্যান্টিবডি রয়েছে সেটা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সেটা একটা বিশেষ রিএজেন্ট ব্যবহার করে করতে হয়, সেগুলো স্পেন থেকে আনানো হয়েছে।’

‘এরপরে কোন ধরণের রোগীকে সেই প্লাজমা দেয়া হবে, সেটা বাছাই করতে হবে। শুরুতে আমরা গুরুতর অসুস্থ বা মুমূর্ষু রোগীদের দিতে চাই, বিশেষ করে যাদের শ্বাসকষ্ট রয়েছে, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেছে।’

তিনি বরেন, ‘এভাবে ৪৫ জন রোগীর শরীরে এই প্লাজমা প্রয়োগের পর আমরা কার্যকারিতা দেখবো। কতটা কাজ করছে, কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা, জ্বর কমলো কিনা, নিউমোনিয়ার কি অবস্থা ইত্যাদি। পাশাপাশি অপর ৪৫ রোগী বাছাই করে নিয়ে তাদের উন্নতির বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি দেখা যায়, প্লাজমা থেরাপিতে ভালো কাজ হচ্ছে, তখন এটা বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ করা শুরু হবে।’

এম এ খান বলেন, ‘এমন না যে, শতভাগ রোগীর ক্ষেত্রে এটা কাজ করবে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের তো কোন কার্যকর চিকিৎসার উপায় নেই। ফলে এই পদ্ধতির প্রয়োগ করে দেখতে অসুবিধা নেই। বিশ্বের অনেক দেশেই প্লাজমা থেরাপির ওপর নির্ভর করা হচ্ছে। আইসিইউতে নেয়ার আগে এই থেরাপির প্রয়োগ করা গেলে ভালো ফলাফল আসতে পারে।’

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: স্বাস্থ্য