ফসলে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি পুঠিয়ায় কৃষি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি : সরকারী নিয়ম নীতিকে অমান্য করে রাজশাহীর পুঠিয়ায় কৃষি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে এলাকার কৃষকদের পেঁপে, বেগুন ও পাটেরসহ বিভিন্ন ফসলে পোকার আক্রমনে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, কৃষি অফিসার সহ কর্মকর্তারা বেশিরভাগই থাকেন উপজেলা সদরের বাহিরে। এছাড়া সপ্তহের বৃহস্পতিবার কৃষি কর্মকর্তাদের সাপ্তাহিক মিটিং এর পরই সকল উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা তাদের যার যার গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ফলে বৃহস্পতিবার তারা মিটিংয়ের কারণে তাদের নিজ কর্মস্থলে যান না। মিটিং শেষে বিকেলে যার যার বাড়িতে চলে যান। শুক্রবার, শনিবার বাসায় থেকে রবিবার সকালে অফিস টাইমের পরে এসে উপস্থিত হন। ফলে সপ্তহের একদিন মিটিং ও দুইদিন বাসায় এই তিন দিন কর্মস্থলে যান না। আর রবি, সোম, মঙ্গল ও বুধ এই চার দিন তারা কর্ম এলাকায় গিয়ে শুধু সারের ডিলারদের সাথে দেখা করে চা খেয়ে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা পদ ১৯ টি এর মধ্যে ২ জনের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া এই মাসে আরও একটি শূন্য হবে। এরমধ্যে পৌর সভায় ১ জন ও উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নে ১৬ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছে। একটি ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডে একজন করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার তাদের কর্মরত ওয়ার্ডে কৃষকদের প্রশিক্ষন, পরামর্শ, প্রদর্শনী, প্রতিটি ব্লকে ১২ টি করে গ্র“প তৈরি করা সহ বিভিন্ন কাজ করে থাকেন।
কর্মরত উপজেলায় না থেকে কৃষি অফিসার মনজুর রহমান তিনি তারা বাড়ি নাটোর থেকে অফিসে যাওয়া আসা করেন। এছাড়া কয়েকজন বিএস সরকারী কোয়াটারে থাকলেও, কয়েক জন তাদের বাড়ি থেকে এবং কয়েকজন থাকেন শহরে।
উপজেলার ভালুকগাছী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড ফুলবাড়ি, ২ নং ওয়ার্ড নন্দনপুর ও ৩ নং ওয়ার্ড তেলিপাড়া এলাকায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (বিএস) মনিরুল ইসলাম প্রায় ২ বছর থেকে কর্মরত আছেন। মনিরুলের গ্রামের বাড়ি একই জেলার বাঘা উপজেলায়। তিনি প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়ি চলে যান শুক্রবার ও শনিবার রাত থেকে রবিবার সকালে উপজেলায় আসেন বলে জানা গেছে।
উপজেলার ভালুকগাছী ইউনিয়নের নন্দনপুর নতুনপাড়া গ্রামের ফরহাদ আলী জানান, আমি কান্তার বিলে ২ বিঘা জমিতে পেঁপের আবাদ করেছি। বর্তমানে পেঁপে ছোট থাকতেই পোকার আক্রমনে সাদা হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পেঁপের আটা পরছে। তাই একজন কৃষক ভাইয়ের সাথে পরামর্শে পাউডার ব্যবহার করছি। আর আমরা কোন কৃষি কর্মকর্তাকে চিনি না। তারাতো আমাদের মাঠেই আসেনা। তাহলে চিনবো কি করে।
একই ইউনিয়নের কান্তার বিলে গিয়ে কৈইপুকুরিয়া গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া জানান, আমরা কৃষি কর্মকর্তাকে চিনিনা। আমরা গরিব মানুষ আমাদেরকে তারা চেনবে কেন। তারা চিনবে মোটা মানুষদের। আমাদের ফসলে পেকা, মাকরের আক্রমন হলে কোন কৃষি কর্মকর্তাকে পাইনা। সার ও কিটনাশকের দোকানে গিয়ে ঔষুধ নিয়ে আসি।
নন্দনপুর নতুনপাড়া গ্রামের শাহাদ আলী জানান, আমার কান্তার বিলে জমি রয়েছে। সেই জমিতে চাষাবাদ করি। এই এলাকার কোন কৃষি কর্মকর্তাকে আমরা চিনিনা। আমাদের ফসলের সমস্য হলে ঔষুধের দোকানে গিয়ে পরামর্শ করে ঔষুধ নিয়ে আসি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মনজুর রহমান জানান, উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তার জন্য কোন কোয়াটার বরাদ্দ নাই। তাই নিয়ম থাকলেও আমি বাড়ি থেকে এসে অফিস করি। আর শুক্র ও শনি দুই দিন সরকারী ছুটি তাই তারা তাদের বাড়ি যেতেই পাড়ে। তবে কৃষকের সমস্য হলে ফোনে যোগাযোগ করবে।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ