ফারাক্কার প্রভাব: বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপরে পদ্মার পানি

পাবনা প্রতিনিধি: নিজেদের রক্ষা করতে ভারত ফারাক্কার গেট খুলে দেয়ায় পদ্মার পানি এখনও বাড়ছে। নদীটির পাবনার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মায় পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

ইতোমধ্যে রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ীর বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। ডুবে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল। বসত বাড়িতে পানি ওঠায় অনেকে গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে উঁচুস্থানে ঠাঁই নিয়েছেন।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম জহুরুল হক জানান, বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মায় পানি বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানির উচ্চতা রয়েছে ১৪ দশমিক ৩৩ সেন্টিমিটার। বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার।

এ কারণে পাবনার ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা অঞ্চলে নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়ে বন্যায় রূপ নিয়েছে। তলিয়ে গেছে চরে আবাদকৃত শতশত বিঘার ফসল। ফারাক্কার কুপ্রভাবে যেমন শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায় পদ্মাসহ শাখা নদীগুলো, তেমনি এই সময় হঠাৎ করে বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় প্রবল গতিতে পদ্মায় পানি বাড়ছে। স্রোতের তোড়ে ঈশ্বরদী উপজেলার নদী তীরবর্তী বেশ কিছু এলাকার এক হাজার হেক্টর জমির সবজি-ফসল ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ঈশ্বরদীর সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের শত পরিবার ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

পাবনা পাউবোর হাইড্রোলজি বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম জহুরুল হক জানান, গত ৭ দিনে পানির উচ্চতা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। পদ্মার বিপদসীমা নির্ধারণ আছে ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। সেখানে বৃহস্পতিবার (৩রা অক্টোবর) সকালে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ছিল ১৪ দশমিক ৩৩ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার বেশি। পানি পানি বৃদ্ধি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অনেক বছর ধরে আষাঢ়-ভাদ্র মাসে বন্যা না হওয়ায় তারা অনেকটা নিশ্চিন্তে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে ২৫ সেপ্টেম্বর এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে খেত তলিয়ে যেতে থাকে। গত ছয় দিনে পানি ঘরের আঙিনায়ও ঢুকে পড়েছে। বাড়ির ভেতরে ও আঙিনায় পানি প্রবেশ করায় পোকামাকড় ও সাপের উপদ্রব বেড়েছে।

পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আগে থেকেই জেলা প্রশাসন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নদীরপাড় এলাকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যখন যেভাবে প্রয়োজন জেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিক সেভাবে ব্যবস্থা নেবে।

শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা পয়েন্টে পানি না থাকায় বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ে না। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নদ-নদীগুলো। পদ্মার বুকে চরের পর চর পড়ে চলেছে। গত অর্ধশতাব্দীতে বাংলাদেশের অন্তত ৬শ’ নদ-নদী প্রকৃতি থেকে হারিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে শুকনো মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো অনেকটা মরুভূমিতে পরিণত হয়। আবার ভারত বর্ষা মৌসুমে নিজেদের রক্ষা করতে ফারাক্কার সব গেট খুলে দিলে ফুঁসে তোলে বাংলাদেশের নদীগুলো। হঠাৎ করে পানি বেড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাংলাদেশের মানুষের বাড়িঘর, ফসলসহ সবকিছু।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ