বগুড়ায় রোগী হয়রানি ও চুরির অভিযোগ মেডিল্যাব ক্লিনিকের বিরুদ্ধে

বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর শহরে সেবামুলক পেশার নিমিত্তে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বগুড়া শেরপুরে বেসরকারি মেডিল্যাব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করাসহ রাতের আধাঁরে ভর্তিকৃত রোগীর স্বজনদের মালামাল ও টাকা চুরির অভিযোগ তুলেছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনেরা
রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু করেন তারা। লোভনীয় অফার আর হয়রানি। চলে টানা হেঁচড়াও। অসহায় রোগী আর তাদের অভিভাবকরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের ফাঁদে আটকা পড়েন। হাসপাতালে ভর্তি করার পর শুরু হয় অন্যরকম হালচাল। তবে সেবামূলক পেশা যদি প্রতারণা হয় তাহলে সাধারণ রোগীরা কোথায় পাবে তাদের কাঙ্খিত সেবা এমনই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতনমহলে!
সরেজমিনে ৫ ফেব্রæয়ারি বুধবার দুপুরে ওই ক্লিনিকে গিয়ে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার শিমুলদাইড় গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে সাকিল(১৫) কে অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগের অপারেশনের জন্য গত ২৪ জানুয়ারি ভর্তি করা হয় শেরপুরের মেডিল্যাব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। মাত্র ৪ হাজার টাকায় রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবে- এমন প্রলোভন দেখিয়ে রোগীক মেডিল্যাব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভতির্র ব্যবস্থা করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ।
এদিকে ওই রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে পূর্বের চুক্তি ভঙ্গ করে পুনরায় ৮ হাজার টাকা না দিলে অপারেশন হবেনা মর্মে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানালেও চিকিৎসার স্বার্থে রাজী হলে অস্ত্রপচার সম্পন্ন করে। এদিকে ওই রোগী ভর্তির ১০ দিনেও সুস্থ না করে অতিরিক্ত বিল আদায়ের জন্য রোগীকে ছাড়পত্র দিলেও টাকা পরিশোধ না করায় জিম্মি করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া ওই রোগীর সাথে চুক্তির টাকা ব্যতিত অতিরিক্ত বিল বাবদ সার্জন ফি ৮ হাজার, অজ্ঞান ডাক্তার ফি ৩হাজার, ডিউটি ডাক্তার ফি ৪ হাজার, মেডিসিন ৬হাজার ৫’শ, সার্ভিস চার্জ ৩হাজার ২’শ টাকা মিলে ২৪ হাজার ৭’শ টাকা বিল ভাউচার হিসেবে দাবী করে। এতে রোগীর স্বজনেরা দিতে রাজী না হওয়ায় ওই রোগীকে ক্লিনিক থেকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছেনা অভিযোগ করে রোগীর মা ও নানী। তাছাড়া ওই রোগীর সাথে তাদের স্বজনেরা ক্লিনিকের কেবিনে রাত্রী যাপন করাকালে দুটো মোবাইল সেট, নগদ ৭ হাজার টাকা ও জ্যাকেট চুরি হয়েছে বলেও ওই রোগীর স্বজনেরা জানায়। এমন চুরির অভিযোগ করেছে অন্যান্য বেডে ভর্তিকৃত রোগীর স্বজনরাও। এদিকে ওই রোগী সাকিলকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের নামে জিম্মি করে রাখায় ঘটনায় স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশের এসআই সাচ্চু গত ৩ ফেব্রæয়ারি সোমবার বিকালে ওই ক্লিনিকের পরিচালক আবু সাঈদকে আটক করে থানায় নিলেও পরবর্তীতে মিমাংসার স্বার্থে ছেড়ে দেয়।
এ ব্যাপারে মেডিল্যাব ক্লিনিকের পরিচালক আবু সাঈদ বলেন, রোগীর স্বজনদের মালামাল ও ইতিপূর্বের চুরির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও ওই রোগীকে চুক্তির বাইরে কোন অতিরিক্ত অর্থ দাবী করা হয়নি। তাছাড়া রোগীকে ছেড়ে দেয়া ও অতিরিক্ত বিল নিয়ে থানায় একটি মিমাংসা বৈঠক রয়েছে এবং উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের ক্লিনিক এসোসিয়েশনের নেতাদের সাথে যোগাযোগ করার কথাও বলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা ক্লিনিক ওনার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, ক্লিনিক চালাতে গেলে ভাল ব্যবহার জরুরী। তবে ওই ক্লিনিকের পরিচালক রোগীকে যে বিল দিয়েছে তা মাত্রারিক্ত নয়।
এ ব্যাপারে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ বলেন, ক্লিনিক গুলোর অনিয়মের খবর পেলেই অভিযান চালানো হবে। তবে ওই ক্লিনিকের কোন অনিয়মের তথ্য আমার কাছে আসেনি।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ