‘বঙ্গবন্ধু হত্যার হুকুমদাতা‌দেরও বিচার হ‌বে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী‌দের বিচার হ‌য়ে‌ছে এখন হত্যার হুকুমদাতা‌দের বিচার হ‌বে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, এমপি।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লা‌বের মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে যারা গুলি করে হত্যা করেছে আমরা তাদের বিচার করেছি। কিন্তু যারা হুকুম দিয়ে হত্যা করেছে তাদের বিচার হয় নাই।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘বিমানবন্দরে মাঝে মাঝে সোনা চোরাচালান ধরা পড়ে। করা ধরা পড়ে? পড়াশোনা না করারাই শুধুমাত্র ধরা পড়ে। দুবাই থেকে ঢাকায় যাদের নামে পাঠায় তারা কি কোনদিন ধরা পড়ছে, ধরা পড়ে নাই। যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যা হুকুম দি‌য়ে‌ছে তাদের বিচার হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পাকিস্তানি দূতাবাস, আমেরিকান দূতাবাস সারারাত খোলা ছিল। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনি। খুনি না হলে, আত্মস্বীকৃত খুনি যারা ছিল তাদের বিদেশে পাঠিয়ে বড় বড় পদে পদায়ন করতেন না। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের যা‌তে বিচার না হয় এর জন্য ‘ইনডেমনিটি’ অধ্যাদেশ জারি করে বিচারের রাস্তা বন্ধ করেছিলেন। খুনি বলেই জিয়ার মন্ত্রিসভায় শাহ আজিজসহ ৭১ যারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিল তাদেরকে নিয়েই মন্ত্রিসভা গঠন করেছিল। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু যে সংবিধান দিয়ে গিয়েছিলেন, সে সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দ বাদ দিয়েছে। আবার সেই পাকিস্তানি কায়দায় ধর্মীয় রাজনীতি চালু করে। পাকিস্তানি পাসপোর্টধারী গোলাম আযমকে বাংলাদেশে এনে নাগরিকত্ব দেয়। জামাত ইসলামের অনুমতি দেয়। এত পরিস্কার বোঝা যায় সে বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আমাদের সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ঈদ বোনাস ছাড়াও, বিজয় দিবসের বোনাস ও স্বাধীনতা দিবসের বোনাস পাবেন। এছাড়াও চিকিৎসার জন্য সকল সরকারি হাসপাতালে মুক্তিযুদ্ধাদের শতভাগ ব্যয় ভার বহন করা হবে। সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের কবর একই ডিজাইনের হবে। অন্য ধর্মালম্বী মুক্তিযোদ্ধাদের সৎকারের কি ডিজাইন হবে তাও আমরা বলেছি।’

‌তি‌নি ব‌লেন, ‘বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। যেসব স্থানে আমরা হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি সেসব স্থানে স্মৃতিফলক তৈরি করা হবে। যত জায়গায় বদ্ধভূমি আছে সেসব জায়গায় অন্য নকশায় স্মৃতিফলক হবে। ঢাকা শহর থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যেক সড়কের নামকরণ করা হবে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে। এছাড়াও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি ঘর তৈরি করার জন্য ১৫ লক্ষ টাকা সরকার থেকে অনুমোদন দেয়া হবে। ইতোমধ্যে তা মন্ত্রণালয় থেকে পাশ হয়ে গেছে। এছাড়াও ১৬ ই ডিসেম্বরের আগে মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং আইডি কার্ড দেয়া হবে। তাদের আইডি কার্ডে লেখা থাকবে তারা কি কি সুবিধা পাবেন।’

মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন সভাপতি গাজী মো. দেলোয়ার হোসেন সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিএম কামরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশন সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবলু প্রমুখ।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি