বাংলাদেশকে ‘বাজারের জায়গা’ বানিয়েছে স্বার্থ গোছাচ্ছে ভারত!

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বাংলাদেশকে একটা বাজারের জায়গা বানিয়ে নিজেদের স্বার্থ গুছিয়ে নিচ্ছে, তাই এ বিষয় কিন্তু আমাদের চিন্তা ভাবনা করতে হ‌বে বলে জানিয়েছে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি।

শনিবার (৫ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটির সাগর-রুনি মিলানায়তনে ইউনেস্কোর ৪৩তম সভার সুপারিশ বাস্তবায়ন কর, সুন্দরবনের পাশে রামপালসহ সকল শিল্পনির্মান প্রক্রিয়া বন্ধ কর ও সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা সম্পন্ন করার দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনে করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, ‘মানবাধিকারকর্মী হিসেবে আমি নিজের দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এটা সবচেয়ে সস্তা শ্রমের দেশ। যেনতেনভাবে মানুষকে তাদের জায়গা জমি থেকে উচ্ছেদ করে এই ধরনের প্রকল্প গুলি তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের এই বিষয়ে দায়িত্ব আছে নাড়াচাড়া দেওয়ার।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সরকার তার ভুল অবস্থান থেকে সরে এসে রামপাল প্রকল্প বাতিল করুক। বনবিরোধী সব স্থাপনা উৎখাত করে প্রকৃতিক চরিত্রকে সংরক্ষণ করে বিজ্ঞান সম্মত প্রক্রিয়ায় কয়লার বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা হোক।’

সংগঠনটি জানায়, ‘সম্প্রতি জানা গেছে, রামপাল প্রকল্প নির্মাতা ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি তাদের নিজ দেশে সব কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থগিত করেছে। ইকনমিক টাইমস পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনটিপিসি আগামী পাঁচ বছর কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে না। কারণ তারা কার্বন তৈরির দায় কমাতে চায়। বরং এনটিপিসি গুজরাটে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সৌর শক্তি পার্ক তৈরি করতে ২৫ হাজার কোটি রুপি খরচ করছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠান প্রবল গণ আপত্তির মুখে বাংলাদেশে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে পিছপা হচ্ছে না। এটা তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আচরণ।’

তিনি বলেন, ইউনেস্কোর ৪৩তম সভায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দুরবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মূলত, সুন্দরবন নিরাপদ ও ভালো রাখার ব্যাপারে আমাদের সফলতা নিয়ে ইউনেস্কর ৪১তম সভায় কিছু নেতিবাচক সঠিক পর্যবেক্ষণ ছিল। বাংলাদেশের যেসব বিষয়ে দায়িত্ব ছিল বা করণীয় ছিল তা গত জুনে ৪৩তম সভায় প্রতিবেদন আকারে দাখিল করে। কিন্তু ওই সভায় কমিটি সন্তুষ্ঠ হয়েছে বলে মনে হয়নি। কারণ ২০১৭ সালের কাজগুলো সম্পন্ন করতে তাগদা দেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনেস্কোর পর্যবেক্ষণ দল সরেজমিনে দেখতে সুন্দরবনে আসবে। আর বাংলাদেশকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কৃত কাজের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। আগামী বছর এই সময় প্রতিবেদন মূল্যায়ন করবে। সেই সভায় সরকারের কাজে কমিটি সন্তুষ্ঠু না হলে আগামী বছরই সুন্দরবন আবারো বিপদাপন্ন ঐতিহ্য তালিকায় চলে যেতে পারে। যা দেশ ও জনগণের জন্য অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, দু:খজনক, লজ্জার ও অপমানের একটি বিষয় হবে।

সংগঠনের পক্ষে তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে সুন্দরবন ধ্বংস রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে হবে, বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল জুড়ে পরিকল্পিত সকল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল করে বিকল্প জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে, সুন্দরবনের বাফার জোন করুন ও বোনের নিকটবর্তী সকল কল-কারখানা এবং এলপিজি কারখানা বন্ধ করতে হবে, লাল ক্যাটাগরি শিল্পকে কলমের খোঁচায় সবুজ কর্ণের অবৈজ্ঞানিক অসৎ ও বেআইনি কাজ বন্ধ করতে হবে, ইউনেস্কোর সকল দিকনির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলাদেশের কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা কার্য সীমা নির্ধারণ করে এই সমীক্ষার সকল স্তরের নৈতিক ও বৈজ্ঞানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি’র সদস্য সচিব ও বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন, কমিটি’র সদস্য রুহীন হোসেন প্রিন্স ও শরীফ জামিল প্রমূখ।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: জাতীয়