বিএনপিকে দেশবাসী ধিক্কার জানায়: নাসিম

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম: বিএনপিকে দেশের জনগণ ধিক্কার জানায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী নিয়ে একটিও অনুষ্ঠান না করায় দলটিকে ধিক্কার জানায় বাংলাদেশের জনগণ।’

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর আজিমপুরস্থ এতিমখানায় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপ-কমিটির আয়োজিত ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী’ উপলক্ষে অসহায়, এতিম, দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে খাদ্য, বস্তু, ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘যে মহামানব সৃষ্টি না হলে বাংলাদেশে কেউ চিনত না তাকে শ্রদ্ধা জানাতে কুণ্ঠিত? বিএনপি-জামায়াতের তাকে শ্রদ্ধা জানাতে কুণ্ঠিত হবে কোনো? ভারত দল নির্বিশেষে সকলেই মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা করে। কোন একটা লোক পাবেন না যে তারা মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা করে না। কিন্তু বিএনপি এমন একটা পর্যায়ে চলে গিয়েছে শোক দিবসে ভুয়া জন্মদিন পালন করেছে খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের জনগণ তাদের ধিক্কার জানায়। এতো বড় বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকীতে বিএনপি একটি অনুষ্ঠান করতে পারলো না। আমরা বলতে চাই বিএনপি কি করল, না করল, তা আমরা দেখতে চাই না, বলতে চাই না।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখনও ছোট মনের পরিচয় দিয়ে রাজনীতি করে। বঙ্গবন্ধুর জন্ম গ্রহণ না করলে কোনো দিনও আমরা স্বাধীন হতে পারতাম না। আমরা কেউ স্বাধীনতা ভাবে চলতে পারতাম না। এই মহামানব দুনিয়ার শ্রদ্ধায় মহিমান্বিত হয়েছেন। তাঁর সাহস দূরদর্শিতা, পারদর্শিতা কারণে বাংলাদেশের জন্য সবকিছুতে সফল হয়েছে। আজ সেই মহামানবের উৎসব পালিত হচ্ছে। কিন্তু দুঃখ লাগে একটি দল আছে, দেশে একটি গোষ্ঠী আছে কোনদিনও তারা বঙ্গবন্ধুকে মানতে চায় না। কিন্তু যে মহামানব সৃষ্টি না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। সেই নেতাকে শ্রদ্ধা জানাতে এতো কুণ্ঠিত কেন? বিএনপি-জামায়াত গোষ্ঠীর বিরোধিতা দেখে আমি কুণ্ঠিত হয়েছে যাই, আমি বিস্মিত হয়ে যাই।’

নাসিম বলেন, ‘কোটি কোটি জনগণের বাঙালি হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু ছিল এবং থাকবে। বাঙালির হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু হাজার বছর থাকবেন, চিরদিন থাকবে। আজ বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা নিজের ভালো-মন্দ দেখেন না, জনগণের জন্যই তিনি সকল কিছু করে থাকেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বিশাল আয়োজনে ছিলো, জনগণের কথা মাথায় রেখে তা সংক্ষিপ্ত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করবে সেই কথা মাথায় রেখেই, করোনা ভাইরাসের কারণে অনুষ্ঠান করেনি। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা নিজেই সিদ্ধান্ত এই দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ছোট পরিসরে চলবে। কোনও নেতা, কোনও প্রধানমন্ত্রী এতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না যেটা শেখ হাসিনা নিয়েছেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, ‘করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অতীতেও ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। ভাইরাসের মতো এতো প্রার্দুভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে। এতো আজ সারা দুনিয়া আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কে আমরা প্রতিরোধ করতে পারছি এবং পারবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বারাই সব কিছু সম্ভব হয়েছে।’

করোনা মোকাবেলা সরকার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করছে জানিয়ে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার এই করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছে। মানুষকেও আরও সচেতন হতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে। যারা করোনা ভাইরাস নিয়ে রাজনীতি করে, তাদেরকে বলতে চাই চিরদিনই আপনারা ভুল রাজনীতি করছেন।ভুলের পথে আছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা করনা প্রতিরোধ সফল হব।’

ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এ কে এম রহমত উল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় করেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী। বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদ আফজাল হোসেন, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কার্যনিবাহী সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, প্রকৌশলী মো. মোজাফফর হোসেনসহ অনেকে।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি