বিএনপি’র ‘দানববন্ধন’ অশুভ ইঙ্গিত : হাছান

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপির নেতা ‘গয়েশ্বর বাবু বলেছেন, তাদের মানববন্ধন না, ‘দানববন্ধন’ করতে হবে। বিএনপি’র একথা অশুভ কোনো কিছুরই ইঙ্গিত। কারণ বিএনপি অতীতে বিভিন্ন সময় দানবীয় রূপ ধারণ করেছে, যা আমরা দেখেছি।’

বৃহস্পতিবার ( ১২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সমসাময়িক বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে বিএনপি নেতাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান মন্ত্রী।

ড. হাছান বলেন, ‘২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ সালে এমনকি ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগেও তাদের কার্যালয়ের সামনেও আমরা বিএনপিকর্মীদের দানবীয় রূপ ধারণ করতে দেখেছি। তারা বিভিন্ন সময় মানুষের ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেছে, সরকারি সম্পত্তি এমনকি পবিত্র কোরআন শরিফও পুড়িয়েছে। তারা শতশত মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, হাজার হাজার মানুষকে আগুনে ঝলসে দিয়েছে, বাসে, ট্রেনে এমনকি লঞ্চে আগুন দিয়েছে। অর্থাৎ তারা দানবীয় রূপই ধারণ করেছিল। গয়েশ্বর বাব’র ‘দানববন্ধন’ করার কথা সেই অশুভ দানবীয় ইঙ্গিত।’

‘তবে বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকে অতীতের মতো দানবীয় রূপ ধারণ করতে দেবে না’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা এই সমস্ত অপকর্ম করেছিলেন বিধায় জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা ২০১৪ সালে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সুতরাং তাদেরকে অনুরোধ জানাবো, ভবিষ্যতে দানবীয় রূপ ধারণ করার পরিকল্পনা না করে বরং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির পথে হাঁটার জন্য এবং সেটিই তাদের জন্যেই শুভ হবে।’

‘বিএনপি একটা লিমিটেড কোম্পানী’ মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের মুখপাত্র বলেন, ‘আসলে বিএনপিটাই হচ্ছে একটা লিমিটেড কোম্পানী। আর সেখানকার নেতারা সবগুলি হচ্ছে ভাড়াটে রাজনীতিবিদ। বিএনপিতো রাজনীতিটাকে ব্রত হিসেবে নেয় না। ওরা রাজনীতিটাকে ‘লস এন্ড প্রফিট’ হিসেবে দেখে, যেমন লিমিটেড কোম্পানীর লস এন্ড প্রফিটের ব্যালেন্স শিট থাকে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির বেশির ভাগ নেতাই হচ্ছে ভাড়া খাটা রাজনীতিবিদ। মওদুদ আহমেদ সাহেব এক সময় আওয়ামী লীগ করেছেন, তারপর আবার বিএনপি করেছেন, বিএনপিকে তালাক দিয়ে চলে গেছেন, আবার তিনি জাতীয় পার্টিতে গেছেন, আবার বিএনপিতে এসেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব এক সময় বামপন্থী রাজনীতি করতেন। তারপর তিনি আবার বিএনপি হয়েছেন। রিজভী আহমেদ সাহেব ছাত্রজীবনে অন্য ধারার রাজনীতি করেছেন। এভাবে যদি সবার নাম বলি, আমি সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই, তারা সবাই ভাড়াখাটা রাজনীতিবিদ।’

বিএনপি শক্তিসঞ্চয় করছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ চায়, বিএনপি, জাতীয় পার্টি সবাই শক্তিশালী দল হিসেবে দেশে টিকে থাকুক। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল থাকুক, সেটাই আমরা চাই। কিন্তু বিএনপিকে তো অন্য কেউ ধ্বংস করার প্রয়োজন নেই, বিএনপি নিজেরাই বিভিন্ন সময় আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যেমন ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে আত্মহননের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আর ২০১৮ সালে নির্বাচনে গিয়েও গেল না- এটিও আরেকটা আত্মহননের মতো সিদ্ধান্ত। সুতরাং বিএনপি নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস করে দিচ্ছে, অন্যদের কারো প্রয়োজন নাই।’

ছাত্রলীগ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই ছাত্রলীগের বিষয়গুলি দেখবেন। তিনিই তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। ছাত্রলীগের ব্যাপারে ঢালাওভাবে যেভাবে অভিযোগ করা হয় সেগুলো সত্য নয়। এদের মধ্যে কিছু অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে, তারা নানা সময় নানা ঘটনা ঘটায়, কিন্তু দায়ী হয় ছাত্রলীগ। সবসময় যে সমস্ত খবর প্রচারিত হয় সবগুলি সঠিক নয়।’

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি