নির্বাচিত খবর

বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি, স্লোগানে স্লোগানে অবরুদ্ধ শাহবাগ

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম : ক্লাস শেষে ক্যাম্পাস থেকে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার পথে রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ঢাবি ক্যাম্পাস। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীর। বিক্ষোভ থেকে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়া হচ্ছে। স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছে গোটা শাহবাগ এলাকা।ব্রেকিংনিউজ

সোমবার (৬ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় এক প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। শিক্ষার্থীদের অবস্থান, অবরোধ ও বিক্ষোভের মুখে শাহবাগ হয়ে কাঁটাবন, বাংলা মোটর, মৎস ভবনের সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

বিক্ষোভকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্যের ব্যানারে জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড শোভা পাচ্ছে।

গতকাল রবিবার ক্লাস শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর শেওড়ায় বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাসে উঠেন ওই শিক্ষার্থী। উদ্দেশ্য ছিল একসঙ্গে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভুল করে শেওড়ার আগে কুর্মিটোলায় বাস থেকে নেমে যান ওই ছাত্রী। এরপর ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ অজ্ঞাত পরিচয় কয়েজন তার মুখ চেপে ধরেন। তৎক্ষণাত সে অচেতন হয়ে পড়লে অদূরেই ঝোঁপের ভেতর নির্জন স্থানে তাকে তুলে নিয়ে পালাক্রমে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করে। চেতনা ফেরার পর আবারও তার ওপর চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন।

রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর ওই ছাত্রী দেখতে পায় একটি নির্জন স্থানে পড়ে আছে সে। এর পর সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে বান্ধবীর বাসায় যায় এবং বান্ধবীকে পুরো ঘটনা জানায়। খবর পেয়ে সহপাঠীরা প্রথমে তাকে ক্যাম্পাসে পরে হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত সাড়ে ১২টার পর ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন তিনি।

শিক্ষার্থী ধর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলো রাতেই ক্যাম্পাকে বিক্ষোভ মিছিল করে। ভোর ৪টার দিকে ঢাবির দর্শন বিভাগের ছাত্র ও শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. সিফাতুল ইসলাম সিফাত রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনে বসে।

সোমবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে টিএসসি চত্বরে বিক্ষুদ্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঢল নামে। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরও বিক্ষোভে সামিল হয়ে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

দুপুর ১২টার আগেই সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। একইসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। দুপুর ১২টায় মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। মিছিলে মিছিলে আর স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

এর পর সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মী ও বামধারার ছাত্র সংগঠনগুলোর গড়ে তোলা সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র ঐক্যের ব্যানারে শত শত শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন।

বিক্ষোভে একাত্মতা প্রকাশ করতে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রয়েছেন ভিপি নুরুল হক নুর, ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নেতা ফারুক হাসান, ছাত্রফ্রন্ট নেতা সালমান আহমেদসহ বাম ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

বিক্ষুদ্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, ফ্যাস্টুনে শোভা পাচ্ছে- নো মার্সি টু রেপিস্ট (ধর্ষকের ক্ষমা নয়), ‘প্রতিবাদের মিছিল আর কত দীর্ঘ হবে?’, ‘আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘হু ইজ নেকস্ট? (এর পর কে)?’, ‘তনু তানিয়া নুসরাত, এবার কে?’, ‘ধর্ষকের ফাঁসি চাই’- এসব স্লোগান।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: শিক্ষাঙ্গান