বিদেশি কাউকে সুবিধা দিতে গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংসের দিকে নিচ্ছে সরকার

রাজনীতি ডেস্ক: বিদেশি কাউকে সুবিধা দিতে রফতানি আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস গার্মেন্টস শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে সরকার এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘মালিক-শ্রমিকদেরকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি গার্মেন্ট শিল্প এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে তা মালিকদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে সরকারের ব্যর্থতা গত কয়েকদিন ধরে ফুটে উঠেছে। বিদেশি কাউকে সুবিধা দিতে এর পেছনে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করছে বলেই দেশের জনগণ বিশ্বাস করে। অতীতেও আপনারা দেখেছেন-স্বাধীনতার পর কীভাবে আওয়ামী লীগ পাট শিল্পকে ধ্বংস করেছে। বড় বড় পাটের গুদাম ও মিল-কলকারখানা কিভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল তা জনগণ এখনও ভুলে যায়নি। এটা কাদের স্বার্থে করা হয়েছিল সেটাও জনগণ জানে। এখন ভুয়া ভোটের সরকার গার্মেন্টস শিল্পকে নিয়ে বিপজ্জনক খেলায় মেতেছে। বর্তমান ভুয়া ভোটের সরকার এই শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ার যে পাঁয়তারা করছে তার পরিণাম শুভ হবে না। যারা অর্থনীতির চালিকা শক্তি তাদের ধ্বংস করে অর্থনীতির বিকাশ সম্ভব নয়।’

মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন দমাতে হত্যা, লাঠিচার্জে ক্ষত-বিক্ষত করা ও ব্যাপক গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে কোনো সমাধান আসবে না। অবিলম্বে দেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস এই গার্মেন্টস শিল্পকে রক্ষা করতে সব পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মানতে হবে এবং আলোচনার ভিত্তিতে উদ্ভুত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। শুধুমাত্র অলীক তৃতীয় পক্ষ বা অন্যের হাত আছে এসব বলে সংকটের সমাধান হবে না।’

চালের দাম বৃদ্ধির কড়া সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বর্তমান অবৈধ সরকার চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। গত কয়েকদিনেও চালের দাম ফের বেড়েছে কয়েক দফায়। প্রতি কেজি চালের দাম গত এক সপ্তাহে বেড়েছে ৬ থেকে ৮ টাকা। সরকারদলীয় সিন্ডিকেটের লোকেরাই কারসাজি করে এই দাম বৃদ্ধি করেছে। দশ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ানোর কথা বলে একসময় ভোট চাইলেও বর্তমানে মোটা চালের দামও পঞ্চাশ টাকার নীচে নয়। অন্যান্য চাল ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত পরশু দিন খাদ্যমন্ত্রী বলেছেন-ইজ্জত রক্ষার্থে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখুন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা মন্ত্রীর ইজ্জত রেখেছেন চালের দাম আরও বৃদ্ধি করে। জনগণের ভোটে এমপি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হলে ইজ্জত ঠিকই থাকতো। সিন্ডিকেটের লোকেরা ভোট ডাকাতির নির্বাচনে সহযোগিতা করে এখন ফায়দা নিতেই চালের দাম বৃদ্ধি করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়ার ক্ষমতা খাদ্যমন্ত্রীর আছে কি না সেটিই বড় প্রশ্ন।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে ভোট ডাকাতির এরকম নির্বাচন সম্ভব ছিল না বলে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় বন্দি করার মূল কারণই ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বেগম খালেদা জিয়াকে বাইরে রেখে ভোট ডাকাতির এরকম নির্বাচন সম্ভব ছিল না। বেগম জিয়া বাংলাদেশের জনগণের মাঝে উচ্চারিত একজন জনপ্রিয় নেত্রীর নাম। তিনি জীবনে কখনও নির্বাচনে পরাজিত হননি। পাঁচটি ও সবশেষে তিনটি আসনে তিনি বাংলাদেশের যে প্রান্ত থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন সেখানেই তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। এই জনপ্রিয়তাই তাঁর জন্য কাল হয়েছে। তাঁর এই জনপ্রিয়তা কোনভাবেই সহ্য করতে পারেনি আওয়ামী লীগ প্রধান ও দেশী-বিদেশী চক্রান্তকারীরা।’

রিজভী বলেন, ‘বেগম জিয়া সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক। তাই তিনি কোনভাবেই সংশ্লিষ্ট নন এমন সব অভিযোগ ও মামলায় সুপরিকল্পিতভাবে তাঁকে সাজা দিয়ে বন্দি করে রেখেছে সরকার। বেগম জিয়াকে বন্দি করার অর্থ গণতন্ত্রকে বন্দি করা। এদেশে যে দৃঢ়, অকপট, সত্যবাদী ও প্রতিবাদী তাঁর জায়গা হয় কারাগারে। বেগম জিয়ার মামলায় জামিন নিয়ে টালবাহানা করছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মহাভোট ডাকাতির পর গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে শিকল পরানো হয়েছে। গণতন্ত্র ও জনগণের সাথে বরাবরই প্রতারণা করার দল আওয়ামী লীগ। যারা এখন নিজেদেরকে সরকার বলে দাবি করছে তারা অবৈধ ও ভোট সন্ত্রাসী। বিরোধী দলগুলোর ওপর সর্বপ্রকার রাষ্ট্রীয় নৃশংস সন্ত্রাস চালিয়ে এবং সবধরনের নোংরা কৌশল অবলম্বন করে জনগণের ভোটাধিকার ছিনতাই করেছে। মানুষের বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস নেয়ার জন্য গণতন্ত্রের মুক্ত বাতাস প্রবাহিত করতে হবে। এজন্য দেশের জনগণের ঐক্য ও সংহতি অপরিহার্য। আর জনগণের ঐক্যের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার মধ্য দিয়েই গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত হবে।’ সূত্র: ব্রেকিংনিউজ/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি