ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দেশি গরুই পছন্দ ক্রেতাদের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: ঈদের বাকি আর মাত্র দুদিন। পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ক্রেতারা তাদের সাধ্য মতো পশুর হাট থেকে পশু কিনছে। হাটগুলোতে সরেজমিনে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে গরু, মহিষ ও ছাগল। এক-একটির দাম ভিন্ন ভিন্ন। দামে বনাবনি হলেই নিজ পছন্দের পশুটি কিনছেন ক্রেতারা। এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রত্যেক পশুর হাটের চিত্র।

এই পশুর বেচা-কেনা সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে। দামে বনলেই পশুটির রশি ধরে খুশি মনে চলে বাড়ির দিকে। আবার কারো কারো পশু পছন্দ হলেও দামে বনছে না তাই দীর্ঘসময় পর্যন্ত বাজারে ঘুরাঘুরি করে থাকেন। এদিকে বিক্রেতারা আক্ষেপের সঙ্গে জানান, সারা বছর কষ্ট করে ঈদকে সামনে পশু লালন-পালন করেও সঠিক দাম পাচ্ছে না। এর কারণ শুধু ভারতীয় চোরাই গরু অবৈধভাবে আসায়।

ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন, আর সেই সাথে বেড়েই চলছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাটে উপচে পড়া ভিড়। ঈদকে সামনে রেখে জেলায় ১০১টি পশুর হাটে প্রতিদিনই বিক্রি হচ্ছে কোরবানিযোগ্য পশু। যারমধ্যে সদর উপজেলায় পশুর হাটের সংখ্যা ১২টি, আশুগঞ্জ উপজেলায় ৮টি, নাসিরনগর উপজেলায় ৭টি, সরাইল উপজেলায় ৬টি, নবীনগর উপজেলায় ১৩টি, আখাউড়া উপজেলায় ৫টি, কসবা উপজেলায় ১৫টি, বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ২৫টি, বিজয়নগর উপজেলায় ১০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী হাট রয়েছে। তাছাড়ও প্রতিটি উপজেলায় বিচ্ছিন্নভাবে আরো বেশ কয়েকটি পশুর হাট রয়েছে। সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় প্রায় ২ শতাধিক কোরবানির পশুর হাট রয়েছে।

সবগুলো হাটে বিভিন্ন সময়ে চলছে বেচাকেনা। গত বৃহস্পতিবার শহরতলীর কালিসীমা ও সুহিলপুর বাজারে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে কোরবানির পশু বেচাকেনা। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এ বছর তুলনামূলকভাবে দাম কম। সরাইলে শাহবাজপুর গ্রাম থেকে গরু নিয়ে আসা আক্তার হোসেন বলেন, প্রতিবছর পরিশ্রম করে গরু লালন-পালন করি। কিন্তু প্রত্যেক ঈদেই ভারতীয় চোরাই গরুর যন্ত্রণায় ন্যায্য দাম থেকে আমরা প্রতারিত হই। এসব অবৈধ গরু যদি না আসত তাহলে আমারা ন্যায্য দামও পেতাম এবং খুশিও হতাম।

সদর উপজেলার নাটাই গ্রামের বিক্রেতা আবদুল কালাম বলেন, আমি প্রত্যেক বারই ১০-১২ টি গরু হাটে উঠাই। এখন পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৫টি। আশা করছি, দিন যতই যাবে, ততই বাড়বে বেচাকেনা। এখন পর্যন্ত দাম কিছুটা ভালো পেলেও আশঙ্কা রয়েছে সামনের দিনগুলোতে।

শহরের হালদারপাড়া থেকে আসা আব্দুস সালামের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ইচ্ছা আছে দেশি গরু কেনার। দামা-দামি চলছে, যদি দামে পেয়ে যায় কিনে ফেলব। ভারত থেকে আসার গরুর প্রতি আস্থা পাচ্ছি না। তাদের স্বাস্থ্যেও অনেক অবনতি থাকতে পারে। এ সব বিষয় চিন্তা করেই মোটমোটি সকলইে দেশীয় গরুর প্রতি আকর্ষণ দেখাচ্ছে। দেখা যায় একটি দেশি গরুর দামা-দামি করতে অনেক লোকজন দাঁড়িয়ে দাম বলতে থাকে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাপস কান্তি দত্ত বলেন, জেলার কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে ১ লাখ ৫ হাজার ৯৬০টি পশু মজুদ রয়েছে। কিন্তু আমরা চিন্তায় আছি যতটুকু মজুদ রয়েছে তার চেয়ে বেশি গরু এখন বাজারজাত হয়েছে। যে কারণে এ বছর জেলায় কোরবানির পশু সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রত্যেকটি হাটের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ টিমের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। হাটে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয় সেজন্য হাটে দায়িত্বরত পুলিশ সব-সময় প্রস্তুত থাকবে। এছাড়াও অজ্ঞানপার্টি, গরু চুরি অথবা জাল টাকা শনাক্ত করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: চট্টগ্রাম,সারাদেশ