ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে…

লাইফস্টাইল ডেস্ক : প্রেম-ভালোবাসাকে বলা হয় পবিত্র সম্পর্ক। স্বর্গীয় দান। ভালোবেসে কতটা পেলেন তার হিসাব কি কখনও কষেছেন। খাটি প্রেমিক কখনও সেই হিসাব কষে না। বরং দুটি মানুষের সম্পর্ক আরও গাড়তর হয় পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মানে। এবার তবে সেই হিসাবটি একবার কষে দেখুন- আপনি আপনার মনের মানুষকে কতটুকু বিশ্বাস করেন। কিন্তু আপনাদের সম্পর্কটাকে আপনি কতটা সম্মান করেন।

‘প্রেম কতটা পেলাম—সেটাই একমাত্র বিবেচ্য নয়। তার চেয়েও বড় কথা, আমি কতটা ভালোবাসলাম।’ ইংরেজ কবি জর্জ এলিয়টের এই বিখ্যাত উক্তিটি বোধহয় প্রতিটি প্রেমিকযুগলের জন্য চিরস্মরণীয়। সত্যিই তো, যদি শ্রদ্ধাবোধ না থাকে তবে প্রেমের কি মূল্য থাকে?

অনেকেই দেখা যায় কৈশোরেই প্রেমে পড়ে যায়। কিন্তু পারিবারিক কিংবা সামাজিক নানা প্রতিকূলতার মাঝে সেই প্রেম অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। তবে কখনও কখনও যে সফল পরিণয় হয় না তা নয়। সেই সংখ্যাটা অনেক কম।

ভালোবাসার অনুভূতি, অনুরণনটা আয়নার মতো স্বচ্ছ। আপনার মনটাকেও তাই স্বচ্ছ রাখতে হবে। প্রিয়জনকে যতটা সম্ভব সময় দিন। তার সঙ্গে সব কথা শেয়ার করুন। যতটা সম্ভব গোপনীয়তা পরিহার করুন। সুযোগ পেলেই তার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। অন্যের সামনে তাকে বেশি বেশি মূল্যায়ন করুন। তার গুণগুলো অন্যের কাছে তার সামনে প্রকাশ করুন। সর্বোপরি তার দুর্বলতাগুলোকেও নিজের মতো করে ঢেকে রাখুন।

উদার মানসিকতার মানুষ তার ভালোবাসার মানুষের কোনো সমস্যাকেই সমস্যা মনে করেন না। কারণ দোষ-গুণ মিলেই একজন মানুষ। তবে আধুনিকতার নামে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ছোঁয়ায় আমাদের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই গা ভাসিয়েছেন। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ভালো দিকগুলোকে গ্রহণ করে মন্দ দিকগুলোকে যদি আমরা বর্জন করি তাহলে আমাদের তরুণ প্রজন্ম ভালোবাসতে পারবে মানুষকে। নারীকে সম্মান করতে শিখবে। এর ফলে মেয়েরা নিরাপদভাবে গ্রাম-শহরে চলাফেরা করতে পারবে। ভালোবাসার নামে সমাজে যে বিব্রতকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয় তা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

বিয়ের আগে প্রেমে পড়লে আমাদের সমাজে এর কাঙ্ক্ষিত পরিণতি হলো বিয়ে পর্যন্ত টেনে নেওয়া। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া খুবই জরুরি। বিয়ের আগে বা পরে যেই সম্পর্ক হোক না কেন, বিশ্বাসে চিড় যেন কিছুতেই না ধরে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তবে অতি আবেগী হওয়া চলবে না। আকাঙ্ক্ষার মাত্রাও যেন সীমা ছাড়িয়ে না যায়। ভালো মানুষের সঙ্গে সঙ্গ করতে হবে। যেন ঘরের মানুষটির মধ্যে বিশ্বাস থাকে, তার স্বামী কিংবা স্ত্রী কোনও বাজে লোকের সঙ্গে মিশে না।

তবে অসম প্রেম, বয়সের বিস্তর ফারাক, সামাজিক ব্যবধানগুলো বিবাহিত জীবনে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। এসব ব্যাপারেও সজাগ থাকতে হবে।

সন্দেহ হলো মনের বিষ। কানকথায় কান দেয়া চলবে না। সঙ্গীর মীমাংসিত অতীত কোনো জটিলতা নিয়ে জীবন যাপনের ধারাবাহিকতাকে তিক্ত ও বিষময় যেন না করে। আপনার প্রিয় মানুষটির সঙ্গেই আপনি ঘর করছেন। কিন্তু তাকে কোনও দিনও এক কলম চিঠি লিখেননি। এবার সেই অভ্যেস করুন। চিঠিতে আপনি আপনার মনের গহীন কথাগুলো প্রিয়জনকে জানান। দেখবেন- ইতিবাচক সাড়া পাবেন।

জীবন পথের সাথীকে চিনে নিতে বন্ধু হওয়ার চেয়ে ভালো উপায় আর কি হতে পারে। তাই বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পরস্পর বন্ধু হয়ে উঠা। রোমান্টিক কোনও মুহূর্তে ভালোবাসার মানুষটির কানে কানে বলুন- “ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো– তোমার মনের মন্দিরে। আমার পরানে যে গান বাজিছে তাহার তালটি শিখো– তোমার চরণমঞ্জীরে”।

সর্বোপরি, প্রেম-ভালোবাসায় আস্থা, বিশ্বাস, সম্মান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার চেয়ে বড় কিছু নেই।

ব্রেকিংনিউজ/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: লাইফস্টাইল