ভয় শব্দটি আমার অভিধানে নেই: প্রধানমন্ত্রী

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম : ‘ভয় শব্দটি আমার অভিধানে নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে বিরোধী দলের বিষয়টি কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভয় পেলে আমি এই অভিযানে নামতাম না। অপরাধী কোন দলের তা বিষয় না। অপরাধী অপরাধীই। কোন দল কি বলল সেটা বিবেচ্য না। যারা বলছেন তারাই তো দুর্নীতির খনি। বিএনপির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে দলের চেয়ারম্যান দুর্নীতির দায়ে কারাগারে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও দুর্নীতির দায়ে পলাতক। যে দলে এতো দুর্নীতিবাজ রয়েছে তারা আবার কি বলবে। তারা কোন সাহসে কথা বলে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব কথা শুনলে রাষ্ট্র চালাবো কখন। ভয় শব্দটা আমার অভিধানে নেই। আমি যখন এ দেশে পা দিয়েছি তখন আমি ভেবেছি আমার পরিবারের হত্যাকারীরা এ দেশের ভালো ভালো যায়গায় আছে। আমাকে যে কোনো সময় হত্যা করতে পারে। আর সব ভেবেই আমি এ পর্যন্ত এসেছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশের মানুষ উন্নয়নের ছোঁয়া পাচ্ছেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এ অভিযান করে আইওয়াশ করা হচ্ছে, আসলে বিষয়টা কি এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইওয়াশের ব্যবসা বিএনপি ভালো জানে। যারা অপরাধী আমরা তাকেই ধরছি। এটা আইওয়াশ হয় কেমন করে। জিয়াউর রহমানের সময় এসব হতো। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর তারা অত্যাচার করতো। এরশাদ সাহেব আরো একধাপ এগিয়ে ছিলেন। আমরা আসার পর দুর্নীতি কমছে।

তিনি বলেন, সকল জনগণ আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। আমরা দেশ চালাতে এসেছি। আমরা কাউকে ধরে কারো থেকে কমিশন আদায় করি না।

যারা দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে ধরা পড়েছে তাদের বিরুদ্ধে কি কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে কিনা এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধীরা যাতে দ্রুত শাস্তি পায় তার জন্য আমরা কাজ করছি।

ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে আপনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রাজনীতিবিদরাই শুধু দুর্নীতিবাজ না। অন্যান্য সেক্টরে যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেই অপরাধ করবে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পেঁয়াজের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে যে সমস্যা হচ্ছে তা সমায়িক। দ্রুতই পেঁয়াজ চলে আসবে। পেঁয়াজ ছাড়াও রান্না করা যায়। তবে আশা করি দ্রুতই দাম কমে আসবে।

কলকাতায় খেলা দেখতে গেলে তিস্তা নিয়ে কোনো সুখবর পাওয়া যাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেটকে নদীতে নিয়ে গেলেন কেন? সেখানে আমি খেলা দেখতে যাচ্ছি। আমাকে সৌরভ গাঙ্গুলি দাওয়াত দিয়েছে আমি একজন বাঙালির দায়িত্বে যাচ্ছি। সেখানে আমি খেলা দেখতে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে আমি তিস্তা নিয়ে কথা বলে পরিবেশ ঘোলা করব কেন?

আইসিসি’র নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে যাচ্ছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এ বিষেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিসিবি সাকিবের পাশে আছে, তাকে সব ধরনের সহযোগিতা দিবে। ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর সাকিব সেটাকে গুরুত্ব দেয়নি। তার জানানো উচিৎ ছিল বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, সাকিব ভুল করেছে সেটা সে বুঝতে পেরেছেন। তবে আইসিসি ব্যবস্থা নিলে আমাদের বেশি কিছু কারার থাকে না।

ক্রিকেটারদের সাথে বোর্ডের সাথে গ্যাপ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেট প্লেয়ারদের ধর্মঘট দরকার ছিলো না। তাদের দাবি থাকলে তারা এটা বোর্ডকে জানাতে পারতো। আমার জীবনে আমি শুনিনি খেলোয়াড়রা ধর্মঘট করে। ওই সমস্যাটা মিটমাট হয়ে গেছে। আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের যেভাবে সহোযোগিতা করি খুব কম দেশ এভাবে সহোযোগিতা করে।

এ সময় তিনি বলেন, খেলার সাথে ক্যাসিনোর কোনো সম্পর্ক নেই। যারা জড়িত তাদের ধরা হয়েছে। আগে কোনো সংবাদে দেখিনি দেশে ক্যাসিনো খেলা হয়। কোথাও কোনো নিউজ পাইনি আমি। আপনারা (সাংবাদিকরা) এত খবর রাখেন কিন্তু ক্যাসিনো নিয়ে কোনো কিছু লিখেননি কেন। আপনারা জাতিকে কি জবাব দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বেসরকারি চ্যানেল প্রায় ৩৪ টা চালু আছে। কোনো সংবাদ মাধ্যমে কখনো ক্যাসিনোর সংবাদ দেখিনি। দেশে ক্যাসিনোর মতো একটা ঘটনা ঘটে গেলো কেউ জানে না! এটা কোনো কথা হলো। তাই বলি কে কখন ধরা পড়ে তাতো বলা যায় না। খেলার সাথে ক্যাসিনোর কোনো সম্পর্ক নেই।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: জাতীয়,ঢাকা