মধ্যবর্তী নির্বাচন মঙ্গলবার: ঝুলছে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আগামী ৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। অনেকেই বলছেন, আমেরিকার ইতিহাসে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন।

কেননা এই নির্বাচনে শুধু যে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাত বদল হতে পারে তাই নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালের পরবর্তী বছরগুলোর চরিত্রও নির্ধারিত হতে পারে।

এ পর্যন্ত হওয়া জনমত জরিপ বলছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পেছনে ফেলে জয় পাবে ডেমোক্রেটরা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার প্রায় দুই বছরের মাথায় মধ্যবর্তী নির্বাচনি উত্তাপ যুক্তরাষ্ট্রে। মার্কিন সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ছাড়াও রাজ্য ও টেরিটরির গভর্নর ও প্রশাসনিক প্রধান পদে লড়ছেন প্রার্থীরা।

তবে কে পাবে জয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে? এমন প্রশ্নে রয়টার্স ও ইপসসের জরিপ বলছে, এখন পর্যন্ত ভোটার সমর্থনের দিক থেকে রিপাবলিকানদের তুলনায় ৫ পয়েন্টে এগিয়ে ডেমোক্রেটসরা। আর নারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের তুলনায় ৮ পয়েন্ট এবং পুরুষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে ২ পয়েন্টে এগিয়ে ডেমোক্রেটরা।

ডেমোক্রেট নেতাদের বাড়িতে প্যাকেজ বোমা, পিটসবার্গ হামলা, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিল বিষয়গুলো ট্রাম্প কিভাবে সামাল দিচ্ছেন তার উপরই নির্বাচনের ফল অনেকাংশে নির্ভর করছে। এসব ঘটনার জন্যই এখনো জরিপে এগিয়ে ডেমোক্রেটরা।

২০১৬ তে ট্রাম্পের জন্য রিপাবলিকান ঘাঁটি নিশ্চিতই ছিলো। শুধু ট্র্যাডিশনাল ভোটারদের মন জয় করতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের আশ্বাসকে হাতিয়ার বানিয়েছিলেন তিনি। তবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেই হিসাব পাল্টেছে।

রাজনীতি বিশ্লেষণ বিষয়ক সাইট ফাইভ থারটি এইট বলছে, ডেমোক্রেটদের জয়ের সম্ভাবনা ৮৫ ভাগের বেশি। আর রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১৪ ভাগ। আর সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার হার ৭৮ ভাগ আর ডেমোক্রেটদের এ হার মাত্র ২১ ভাগ।

ধারণা করা হচ্ছে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যাবে। প্রতিনিধি পরিষদ যদি ডেমোক্রেটদের হাতে যায়, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প মহাবিপদে পড়বেন। তার পারিবারিক ব্যবসা, আয়কর বিবরণী, রাশিয়ার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ-এসব নিয়ে ব্যাপক তদন্তের মুখে পড়বেন তিনি।

ট্রাম্প যদি সিনেটে তার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন, তাহলে সেই চাপ কিছুটা কম পড়বে। তবে এবারের নির্বাচনে সিনেটও রিপাবলিকানদের হাত থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

আর যদি কোনো কারণে উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানরা জিতে যান, তাহলে ট্রাম্পের দমন-পীড়ন আরও ভয়াবহ রূপ নিয়ে নেমে আসবে। সুতরাং এই মধ্যবর্তী নির্বাচন যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: আন্তর্জাতিক