মাশরাফির কারণে বিশ্বকাপে পিছিয়ে গেছে বাংলাদেশ: সাকিব

স্পোর্টস ডেস্ক: ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে দেড় মাসেরও আগে। কিন্তু এমন একটা দল নিয়েও এবার বিশ্বকাপে কেন বাংলাদেশ ভালো ফল করতে পারলো না তা নিয়ে এখনও বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। ক্রিকেটবোদ্ধা থেকে শুরু করে সাধারণ টাইগারভক্তদের মুখেও এক আক্ষেপ- এমন একটি দল আর সহজে পাবে না বাংলাদেশ। তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে গড়া এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলটি সত্যিই অনেক নামিদামি দলের চেয়েও এগিয়েই ছিল।

অন্তত সেরা চারে থাকার মিশন নিয়ে বিশ্বকাপে গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে ৮ নম্বরে থেকে। এক বুক হতাশা আর প্রতীক্ষার পথকে আরও দীর্ঘায়িত করেই দেশে ফিরতে হয়েছে লাল-সবুজ বাহিনীকে। এই ব্যর্থতার কারণ কী? এ নিয়ে অনেকে অনেক মত দিতে পারেন। তবে স্পষ্টভাষী সাকিব জানিয়েছেন, অধিনায়ক মাশরাফির পারফরম্যান্সের কারণে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পিছিয়ে গেছে।

সাকিব বলেন, ‘এবার বিশ্বকাপে অনেক দূর যাওয়া সম্ভব- এ বিশ্বাসটা আমার শুরু থেকেই ছিল। কিন্তু একটা দলে যখন অধিনায়ক পারফর্ম করে না তখন সেটা গোটা দলের ওপর প্রভাব ফেলে। আমার মনে হয়, এবার বিশ্বকাপে মাশরাফি ভাইয়ের ক্ষেত্রেও তেমনটিই হয়েছে।’

বিশ্বকাপে ব্যাটে-বলে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে আসা দেশসেরা এই অলরাউন্ডার আরও বলেন, ‘সবার সাহায্য পেলে দলগতভাবে ভালো খেলতে পারলে এবার হয়তো বিশ্বকাপে আমরা সেমিফাইনালেও চলে যেতে পারতাম। তবে অনেক কারণে অনেক সময় সবকিছু ঠিকঠাক হয় না। কোনও খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স ভালো না হলে সে দলের চেয়ে নিজেকে নিয়ে বেশি ভাবতে শুরু করে। অধিনায়কের ক্ষেত্রে হলে সেটা তখন দলের জন্য সমস্যা হয়ে যায়।’

“এবারের বিশ্বকাপে আমার মনে হয়, মাশরাফি ভাইয়ের ক্ষেত্রেও এটাই ঘটেছে। যেহেতু অধিনায়ক পারফর্ম করছিল না, এটা একটা বড় সমস্যা। তার জন্যও, দলের জন্যও। অধিনায়ককে পারফর্ম করতে হবে, এর কোনও বিকল্প নেই। ওই জায়গাটাতে আমরা অনেক বেশি পিছিয়ে গেছি। তারপরও অসম্ভব ছিল না। বিশ্বকাপে আমরা খুবই ভালো শুরুটা করেছিলাম। ধারাবাহিকভাবে সেটা ধরে রাখতে পারিনি”- যোগ করেন সাকিব।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন মাশরাফি। ৮ ম্যাচে নিয়েছেন মাত্র ১ উইকেট। আর সাকিব ছিলেন ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে। ব্যাট হাতে ৬০৬ রানের সঙ্গে বল হাতে নিয়েছেন ১১ উইকেট।

‘মাহমুদউল্লাকে একাদশ থেকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন সাকিব’- গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে সাকিব বলেন, ‘আসলে লুকোনোর কিছু নেই। যিনি বিষয়টি বলেছেন কিংবা নিউজ করেছেন তিনি কাজটি ঠিক করেন।’

অপর এক প্রসঙ্গে টেস্ট ও টি-২০ অধিনায়ক বলেন, ‘বিশ্বকাপের সময় সাইফুদ্দিনকে নিয়ে খবর ছাপা হলো- সে নাকি বড় দলের সঙ্গে ভয়ে খেলতে চায় না। দলের সবাই জানে, কে এই নিউজ করিয়েছে। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে- এসব কি একটা দলের জন্য ভালো? সাইফুদ্দিন কি খেলেনি? বড় দলের বিপক্ষে কি সে পারফর্ম করেনি? আসলে এ ধরনের বিষয়গুলো একটা দলকে মানসিকভাবে কোথায় নিয়ে যায় তা বুঝতে হবে।’

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: খেলাধুলা