মীর কাদিমের গরুর চাহিদা এত বেশি কেন

বিডি সংবাদ টুয়েন্টিফোর ডটকম : একমাসও বাকি নেই কুরবানির ঈদ আসতে। আর এই ঈদে যারা গরু কোরবানি দেন তাদের অনেকের কাছেই মীর কাদিমের গরুর গুরুত্ব অনেক বেশি। তবে এদিক দিয়ে এগিয়ে পুরান ঢাকার বাসিন্দারা।

রসনাবিলাসে আর কিছু থাকুক বা না থাকুক, কোরবানির ঈদে মীর কাদিমের সাদা গরুর মাংস থাকা চাই খাবার টেবিলে। এটা পুরান ঢাকার অনেকের কাছে রেওয়াজ।

পুরনো ঢাকাবাসীর কাছে এ জাতের গাভী কিনতে টাকা নয়, পাওয়াটাই মূখ্য হয়ে দাঁড়ায়। কারো ক্ষেত্রে কোরবানিতে এ গাভী চাই-ই। এ ছাড়া তাদের কোরবানিই যেন অপূর্ণ থেকে যায়।

মীর কাদিমের গরুর প্রধান ক্রেতা পুরান ঢাকার বিত্তশালীরা। ৯৫ ভাগের ক্রেতা পুরান ঢাকার বাসিন্দারা। বাকি ৫ ভাগ কেনেন অন্যান্য এলাকার মানুষ।

প্রশ্ন উঠতেই পারে এই গরুর চাহিদা এত বেশি কেন? উত্তরটাও বেশ সহজ। আর সেটা হলো এই গরুর মাংস খুবই সুস্বাদু।

মীর কাদিমের গরু কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে সেগুলো হলো- মুন্সিগঞ্জের মীর কাদিমের গরুর গায়ের রঙ ধবধবে সাদা, শিং খাড়া খাড়া। চোখ কাজল কালো। তুলতুলে শরীর। দেখতে আকর্ষণীয় লাগে।

খামারিরা এই গরু লালন-পালন করে থাকেন অনেকটা সন্তানের মতো। রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ঝঞ্ঝা ও মশা-মাছি থেকে এই গরু রক্ষায় খামারিরা অত্যন্ত যত করে থাকেন। শরীরে লাগতে দেন না গরম-ঠাণ্ডা। গম, চাল, খৈল, ভুসিসহ অন্যান্য খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রে খুব সাবধান থাকেন খামারিরা। গরুর খাদ্যদ্রব্য পুষ্টিকর হওয়া চাইই চাই।

সব হাটে কিন্তু মীর কাদিমের গরু পাওয়া যায় না। ঢাকার রহমতগঞ্জ হাটেই উঠে এই গরু। বিগত ৫০ বছর ধরে মীর কাদিমের গরু ওঠে পুরনো ঢাকার রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ হাটে। রহমতগঞ্জের পশু হাটে বিশেষত্বই হচ্ছে মীর কাদিমের গাভী।

গনি মিয়ার হাট বলে পরিচিত রহমতগঞ্জ মাঠ। সেখানে গরুর কদর যেমন, দামও বেশি। ৮০ হাজার থেকে ৮ লাখ টাকায় মেলে মীর কাদিমের সাদা গরু।

ব্রেকিংনিউজ/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: জাতীয়