মোরেলগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের পদায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট অফিস: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, গত ১৬.০৯.২০১৮ ইং তারিখ বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অশোক কুমার সমাদ্দার ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং তারিখ মো: আব্দুল ওয়াহেদ উপসচিব স্বাক্ষরিত ৩৮.০০.০০০০.০০৮.১২.০৬৮.১৮.৭৩৯ ন্ং স্মারকের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা সরকারি প্রাথমিকি বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষকগণকে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব দিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শূন্য পদে পদায়ন করা হয়েছে।

কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রানায়য়ের উক্ত স্মারকের প্রজ্ঞাপনে জানা গেছে, চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত পদে পদায়নের ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষকগণকে একই উপজেলা সবচেয়ে নিকট বর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করতে হবে। ইহার কোন ব্যত্যয় গটানো যাইবেনা। যদি কোন প্রকার ব্যত্যয় গটে বা কোন অবিযোগ উঠলে পদায়নকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ১৯৮৫ অনুযায়ী শস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অশোক কুমার সোমাদ্দার উক্ত আদেশের কোন কর্নপাত না করে বিভিন্ন উপায়ে উৎকোচ গ্রহন করে ই”্ছা মতো পদায়ন করেন। প্রতিটি শিক্ষককে তাদের পছন্দ মতো বিদ্যালয় না দিয়ে ৫ থেকে ৭ কিলো মিটার দুরবর্তী বিদ্যালয়ে পদায়ন দিয়েছেন। যা নিয়ে শিক্ষিকাদের পদে পদে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, ৫৭নং ক্রমিকের ফারজানা রহমান ১১৪নং বারইখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহাকারি শিক্ষিকা চলতি দায়িত্বে তার পছন্দের বিদ্যালয়ে না দিয়ে ৭ থেকে ৮ কিলো মিটার দূরবর্তী ১৭৪নং দক্ষিন শাহাজানিয়র স: প্রা: বিদ্যালয়ে দিয়েছে। কিন্তু তার আবেদনে পছন্দের বিদ্যালয় ছিল ২৪৮নং রুপচাদ স: প্রা: বি:, ২৬৮নং মধ্য বারইখালী স: প্রা: বি: এবং ১০০ নং জামিরতলা স: প্রা: বি:। অথচ সেখানে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময় অন্য শিক্ষিকাকে পদায়ন দিয়েছে। চাকুরীর ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শ^ার্থে একাধিক শিক্ষক/শিক্ষিকা জানান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সে তার নিকটতম আত্মিয় স্বজন ও অফিস সহাকরিদের মাধ্যমে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা না করে ওই সব বিদ্যালয়ে নিজ ইচ্ছা মতো শিক্ষকদেরকে পদায়ন দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জেলা শিক্ষা অফিসার অনিয়মের মধ্য দিয়ে পদায় দিয়েছেন। আমার কাছে ভূক্তভোগী শিক্ষকরা এসে ছিল আমি এ ব্যাপারে উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তারা এ ব্যবাপরে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে কোন ব্যাপারে কথা বলে এ যাবৎ কোন সমাধান পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশোক কুমার সমাদ্দার বলেন ফারজানা রহমান যে একটি রাজনৈতিক পরিবারের লোক তা আমি জানতাম না, তবে আমি অফিসার হিসেবে ওকে বলেছি সে ওই বিদ্যালয়ে যোাগদান করুক পরে আমি দেখরো।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: খুলনা,সারাদেশ