রাখাইন রাজ্যের সমস্যাটি আন্তর্জাতিক আদালত তোলার বিষয় নয়: সু চি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিজ দেশের সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও গণধর্ষণসহ নানা নির্যাতন ও নিধনযজ্ঞের বিচারে জবাব দিচ্ছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি।

নেদারল্যান্ডের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) শুনানির দ্বিতীয় দিনে মিয়ানমারের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরছেন বিশ্বশান্তিতে নোবেল বিজয়ী সু চি।

প্রথম দিনে মামলার বাদী দেশ গাম্বিয়ার বিভিন্ন অভিযোগের জবাবে অং সান সু চির দাবি, ‘রাখাইন রাজ্যের সমস্যাটি আন্তর্জাতিক আদালতে আনার মতো বিষয় নয়। মিয়ানমার যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে তা গাম্বিয়ার উপলব্ধি করা উচিত।’ব্রেকিংনিউজ

গাম্বিয়ার সমালোচনা করে যুক্তি তুলে ধরে সু চি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বিদ্রোহীরা নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা করেছে। তারা সাধারণ জনগণের ওপরও হামলা চালিয়েছে। সেসব কথা গতকাল কোনো বক্তা উল্লেখ করেননি।’

দেশটির স্টেট কাউন্সিলরের দাবি, ‘২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বিদ্রোহীরা তিনটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা করেছিলো, সামরিক বাহিনী সেসব হামলার তদন্ত করেছে। সেনাবাহিনীর যেসব সদস্য অপরাধ করেছে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

গণহত্যা একটি অপরাধ। গণহত্যা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার প্রথম সারিতে রয়েছে বলে আদালতকে জানান সু চি।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় নেদারল্যান্ডের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও গণধর্ষণসহ নানা নির্যাতন ও নিধনযজ্ঞের বিচার শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে গাম্বিয়া ও জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্টরা যুক্তি তুলে ধরেন।

শুনানি চলাকালে গাম্বিয়ার পক্ষে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হয়েছে বলেই বিভিন্ন সময় গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। মিয়ানমারে এখনো গণহত্যা চলছে। যদিও তারা তা অস্বীকার করবে। তারা হয়তো যুক্তি দেখাবে। অথচ তারা রাষ্ট্রীয়ভাবে রোহিঙ্গাদের নিশ্চিহ্ন করার জন্যে কাজ করছে।’

রোহিঙ্গাদের রক্ষা করা প্রয়োজন। এখনো তারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রতিদিনই সেখানে ঝুঁকি বাড়ছে বলেও দাবি করে দেশটি।

‘আদালতের প্রতি আস্থা রয়েছে বলেই গাম্বিয়া আদালতে এসেছে। গাম্বিয়া চায় আদালত মিয়ানমারকে গণহত্যা বন্ধ করতে বাধ্য করুক। মিয়ানমার যেনো আর কখনো গণহত্যা চালাতে না পারে। আদালত হচ্ছে গণহত্যা প্রতিরোধের একমাত্র অভিভাবক।’

উল্লেখ্য, শুনানির শেষ দিনে (১২ ডিসেম্বর) পাল্টাপাল্টি যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করবে গাম্বিয়া ও মিয়ানমার। ওইদিন বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় দেড় ঘণ্টা বলার সুযোগ পাবে গাম্বিয়া এবং বিরতির পর রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে দেড় ঘণ্টা বলবে মিয়ানমার।

গণহত্যার মামলার শুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষে অংশ নিতে নেদারল্যান্ডসে অবস্থান করছেন দেশটির অং সান সু চি। আর গাম্বিয়ার পক্ষে মামলায় অংশ নিচ্ছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: আন্তর্জাতিক