নির্বাচিত খবর

রাজশাহী আ.লীগে অনৈক্য, ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম: রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর। এর মধ্য দিয়ে এসেছে নতুন নেতৃত্ব। কিন্তু তাদের যাত্রার শুরুতেই বেজে উঠেছে অনৈক্যের সুর। বিশেষ করে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন পক্রিয়ায় সম্মেলনে ঘোষিত চার নেতার মধ্যেই অনৈক্য দেখা দিয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগ যখন নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে বিভক্ত, তখন ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা চালাচ্ছে বিএনপি। দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা ছুটছেন তৃণমূলে। ইতিমধ্যে সব উপজেলায় নতুন নেতৃত্ব এসেছে। শিগগিরই জেলার সম্মেলন হবে। যেসব ভুল-ত্রুটি আছে, সেগুলো শুধরে তরুণ প্রজন্মকে সামনে রেখে বিএনপি সংগঠিত হচ্ছে।

গত ৮ ডিসেম্বরের সম্মেলনে সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বাদ পড়েন। তবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফারুকের অনুসারীরা। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক কমিটির একটি বড় অংশ তার বিরোধী ছিলেন। ফলে এই নতুন কমিটি নেওয়ার পর থেকেই জেলা আওয়ামী লীগে বিভেদ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পুর্নাঙ্গ কমিটির তালিকা নিয়ে সম্মেলনে ঘোষিত চার নেতার মধ্যেই অনৈক্য দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের জেলা কমিটিতে জায়গা দেয়া নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লা বলেন, এসব অভিমান সাময়িক। শিগগিরই সবাই মিলে আওয়ামী লীগকে আরও গতিশীল করা হবে। দলের ভিতরে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা যাতে নোংরামি না হয়, সেজন্য আমরা কাজ করছি। কিছুদিন আগেই সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি। এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। যে কারণে তৃণমূলের কোন্দল মেটাতে উদ্যোগী হতে পারছি না। তবে তৃণমূলের সমস্যা সাময়িক বলেই আমি মনে করি।

মেরাজ উদ্দিন মোল্লা আরও বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তৃণমূলের অনেক নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই সহযোগিতা করতে চেয়েছেন। দীর্ঘদিন দল ক্ষমতায় থাকলে নেতা-কর্মীদের চাহিদা ও প্রত্যাশা বেড়ে যায়। দলের অবস্থান আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর যে উন্নয়ন করেছেন, আগের কোনো সরকার সেটি করতে পারেনি। আমাদের ভরসা শেখ হাসিনা উপর। মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে। আগামীতেও রাখবে।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা সম্মেলন না করতে পারায় অনেকে সমালোচনা করছেন। কিন্তু ইতিমধ্যে সেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা কমিটিগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে- সম্মেলনের প্রস্তুতির। কেন্দ্রের নির্দেশনা পেলেই সম্মেলন শুরু হয়ে যাবে।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর দুর্গ হারিয়েছে বিএনপি। রাজশাহীর সব আসনেই এখন আধিপত্য আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট সঙ্গীদের। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ৪টি আসন পায় বিএনপি। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ৬টি আসনেই বিজয়ী ছিলেন বিএনপির প্রার্থীরা। অতীত রেকর্ড বলছে, ১৯৯১ থেকে ২০০১ জেলার প্রতিটি আসনে শক্ত অবস্থানে ছিল বিএনপি। কিন্তু নেতায় নেতায় দ্বন্দ্বে দুর্গে ফেরা হয়নি বিএনপির। তবে আবারও দুর্গ উদ্ধারে তৃণমূল থেকে কাজ শুরু করেছে বিএনপি।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ বলেন, ‘বিএনপির অবস্থান আগে যেমন ছিল, এখনো তেমনি আছে। রাজশাহীর সব আসনে ফেয়ার (স্বচ্ছ) ভোট হলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। পুলিশ ব্যবহার করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের দমিয়ে রাখা হয়েছে। সেই হারানো সাহস ফেরাতে কাজ করছি।’

জেলা আহবায়ক বলেন, জেলার নয়টি উপজেলায় ২০ হাজার নেতার নামে শতাধিক মামলা। এসব মামলায় প্রতিদিনই দল বেঁধে নেতা-কর্মীদের আদালতে হাজিরা দিতে আসতে হয়। মামলায় হাজিরা দিতে দিতে অনেকে ক্লান্ত। সে কারণে তারা আন্দোলনে নামার সাহস হারিয়ে ফেলেছে। তারপরেও তারা লড়ছে গণতন্ত্রের জন্য।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ বলেন, মানুষ কথা বলতে পারে না। কথায় কথায় পুলিশ মামলা দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভা সমাবেশ সব করতে পারে। আমরা একটা মিছিলও করতে পারি না পুলিশি বাধায়।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজনীতি,রাজশাহী