শিরোনাম

রোমান্টিক ঋতু বর্ষা ও যক্ষের বিরহী হৃদয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক : সংস্কৃত কবি কালিদাস তাঁর অমর কাব্য ‘মেঘদূত’-এ রামগিরি পর্বতে নির্বাসিত অভিশপ্ত প্রেমিক যক্ষের প্রেমিকা বিরহের করুণ আর্তি শিল্পের ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলেছেন। কালিদাসের সেই কাব্য বিশ্ব সাহিত্যে বিরল সংযোজন। রামগিরি পর্বতে বসে আষাঢ়ের প্রথম দিবসে নববর্ষার মেঘ দেখে তারই মাধ্যমে অলকাপুরীর রম্যপ্রাসাদে তার বিরহী প্রিয়ার উদ্দেশ্যে বার্তা প্রেরণ করবেন বলে মনস্থির করেন প্রেমিক যক্ষ।

বিরহের আতিশয্যে তিনি জড় ও জীবের ভেদাভেদজ্ঞান লুপ্ত হন। তিনি মেঘকে জানাতে থাকেন, কোন কোন নগর, নদী ও পর্বত পেরিয়ে তাকে অলকায় পৌঁছতে হবে। এরপর যক্ষ কুবেরপুরী অলকা ও তাঁর বিরহী প্রিয়ার রূপলাবণ্য বর্ণনা করেছেন মেঘের নিকট। অবশেষে মেঘকে অনুরোধ করেছেন, প্রিয়তমার নিকট তার খবর পৌঁছে দিতে।

নববরিষায় কালিদাস কল্পিত যক্ষের মতোই আমাদের মানব হৃদয়ে নাড়া পড়ে। বৃষ্টির ছন্দে মন যেন কেনম আনমনা হয়ে উঠে। কোথায় যেন কার খোঁজে বেরিয়ে পড়তে চায় গন্তব্যহীন পথে। বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি প্রেমিকার হৃদয়কে করে তুলে আকুল। প্রেমিকের তনু-মনে আনে নবতর কামনা।

তাইতো কবিগুরু বলেছেন- “আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে জানি নে, জানি নে কিছুতে কেন যে মন লাগে না”। আসলেই তো। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ যেন হৃদয়ে অন্তর্যামিনীর গান শোনায়। প্রকৃতি ঠিক এমন এক রহস্যের ব্যূহ- যেখানে মানুষ সমর্পিত হয় নিজের অজান্তেই।

বর্ষার দিনে কর্মক্লান্তিহীন দুচোখে ভেসে উঠে শৈশবের নানা স্মৃতি। মন ছুটে যায় দূরে, আরও বহু দূরে। সোনার সেই দিনগুলো যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে ফিরে আসে। মনুষ্য হৃদয় তখন ব্যাকুল হয়ে উঠে প্রকৃতির ডাকে, জীবনের গূঢ়তর টানে।

এই বর্ষায় গ্রামের বধূরাও মাতেন রহস্য-কথা আর কেচ্ছা-কাহিনিতে। ঘরে ঘরে চাল আর শিমের বিচি ভাজা হয়। গ্রামেগঞ্জে রাতজুড়ে চলে কীর্তন আর পালাগান। বাড়ির ঝিয়েরা সুই-সুঁতো নিয়ে গল্পে গল্পে মেতে উঠেন নকশীকাঁথা সেলাইয়ে। ছোটদের মধ্যে ধুম পড়ে সাপ-লুডু আর পুতুল খেলার।

সব মিলে মন কেমন করা এই বর্ষা ঋতু মানুষের জীবনে নতুন এক রোমান্টিক আবহ নিয়ে আসে। তাই হয়তো হৃদয় ছোঁয়া বৃষ্টিকে যুগে যুগে রোমান্টিক ভাব-ভাবনা আর প্রেমিক মনের আর্তি-বেদনার সঙ্গে কল্পনা করেন কবি-শিল্পীরা-ভাবুকেরা।

ব্রেকিংনিউজ/

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: লাইফস্টাইল