রৌমারীতে ৩৫ হাজার মানুষের একটি ব্রীজের দীর্ঘদিনের দাবী

রৌমারী প্রতিনিধি: রৌমারী উপজেলার প্রত্যন্ত লে কাশিয়াবাড়ি খালের উপর একটি ব্রীজের জন্য এলাকাবাসি দীর্ঘদিন থেকে দাবী করে আসলেও কোন উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন। ব্রীজ নির্মাণের দাবীতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করে আসছে এলাকার ৩৫হাজার মানুষ। এনিয়ে একাধীকবার জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে সংবাদও প্রকাশ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলার যাদুরচর ইউনিয়নের বড়াইবাড়ী, ঝাউবাড়ী, পুর্ববারবান্দা, চুলিয়ারচর, বারবান্দা,বাওয়াইর গ্রাম, বকবান্দা, খেওয়ারচর, পুর্বদুবলাবাড়ী, ইজলামারী, চরইজলামারী, পাটাধোয়াপাড়া, চরকলাবাড়ী, কলাবাড়ী, দুবলাবাড়ী, পুরাতন যাদুরচর ও নয়ারগ্রামসহ ১৬টি গ্রামের প্রায় ৩৫হাজার মানুষ একটি ব্রীজের অভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন কাশিয়াবাড়ী দীর্ঘদিনের ভাঙ্গাটি নিয়ে। রৌমারী উপজেলার সাথে যাদুরচর ইউনিয়নের যোগাযোগের মাধ্যম ঐ গ্রামগুলি। এ সড়কদিয়ে প্রতিদিন স্কুল,কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থী ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে থাকে। কাশিয়াবাড়ী খালের উপর পাকাঁ ব্রীজ না থাকায় যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ওই ১৬ গ্রামের জনসাধারণ।

গ্রামবাসী নিজেদের প্রয়োজনে স্বেচ্ছায় বছরে কয়েকবার ওই খালের উপর বাঁশের সেতু তৈরী করেন। একবার তৈরী করলে ১ মাসের বেশী টিকে থাকে না বাঁশের সাকোঁটি। এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী কাশিয়াবাড়ী রাস্তা সংলগ্ন খালের উপর একটি পাকাঁ ব্রীজ নির্মাণের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী খালের উপর গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমে ১২০ ফুট বাশেঁর সেতু নির্মাণ করেন। ঝুকিপূর্ণ বাশেঁর সাকোঁ দিয়ে রিক্সাভ্যান বা পন্যবাহি যান চলাচল করতে হয়। এতে মুহুর্তে বড় ধরনের দূর্ঘটনার শিকার হতে পারে পথচারীরা। এ বিষয়ে ডেপুটি কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহার আলী জানান, গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন একটি পাকা ব্রীজের। প্রায় বছরেই উপজেলা প্রকৌশলীর লোকজন মাপামাপি করে নিয়ে যায়। কিন্তু ব্রীজ নির্মান হয় না। যখন মাপামাপি করে নিয়ে যায় তখন এলাকার মানুষের বুক ভরা আশা জাগে হয়তো আগামী বছরে আমরা পাকা সেতু পাইতেছি।

বাশেঁর সাকোঁটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ওই খালের পাশ দিয়ে অন্যের ফসলি জমির আইল দিয়ে কোন রকমে চলাচল করছে গ্রামবাসী। এতে এলাকার মানুষের কৃষি উৎপাদিত বিভিন্ন ফসল হাট বাজারে নেওয়া দুষ্কোর হয়ে পড়েছে। এ এলাকায় অধিক ফসল উৎপাদন হলেও যাতায়াত সমস্যায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পন্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বি ত হচ্ছেন।
যাদুরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, কাশিয়াবাড়ী খালের উপর আমি প্রকল্প দিয়ে বাঁশের সাকোঁ দেওয়ার সহযোগীতা করেছিলাম। ঐ খালের উপর পাকাঁ সেতু না থাকায় ১৬টি গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের বিভিন্ন পন্য নিয়ে হাট বাজারে আনা নেওয়াসহ চলাচলের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবী কাশিয়াবাড়ী খালের উপর দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মান করে এলাকার জনসাধারন,শিক্ষার্থীসহ সকল পেশাজীবি মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারবে।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রংপুর,সারাদেশ