শেরপুরে ১২ জুয়াড়ী আটকের পর দফারফা না হওয়ায় মামলা

বগুড়া প্রতিনিধি :
বগুড়ার শেরপুরে জুয়া খেলার আস্তানায় অভিযান চালিয়ে আসবাবপত্র তছনত, অর্ধ লক্ষাধিক টাকা তছরুপ করে ১২জন জুয়াড়িকে গ্রেফতার থানা পুলিশ। এদিকে জুয়াড়ি জুয়েলের স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ তার ব্যাবহৃত পার্টস থেকে নগদ টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এসআই আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।
গত ২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে শেরপুর থানা পুলিশের এসআই আতিকুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের সাধুবাড়ী এলাকার জুয়েল রানার বাড়ি থেকে জুয়াড়িদের গ্রেফতার করে। এদিকে পরদিন বুধবার দুপুরে জুয়াড়ি আটকের খবর সংগ্রহ করতে গেলে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের কটাক্ষ আচরণ করে এসআই আতিকুর রহমান।
সরেজমিনে জানা যায়, শেরপুর উপজেলার শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের সাধুবাড়ী পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে জুয়েল রানা বাড়ীতে জুয়ার আস্তানার খবর পেয়ে গত ২৮ জানুয়ারী মঙ্গলবার রাত অনুমান দেড়টার দিকে অভিযান চালায়। এসময় থানা পুলিশের এসআই আতিকুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে নগদ টাকা, জুয়ার সামগ্রী সহ ১২জন জুয়াড়ীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে আস্তানায় অভিযান চলাকালে থানা পুলিশের এসআই আতিকুর রহমানসহ জুয়াড়ী জুয়েলের বাড়ী-ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে এবং তার স্ত্রী মিনতী খাতুনকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে ওই এসআই আতিকুর রহমানের সঙ্গীয় ফোর্সরা তাদের ঘরের আসবাবপত্র তছনছের কালে মিনতীর ব্যবহৃত পার্টস থেকে নগদ সাড়ে ৭ হাজার টাকা, ওয়ার ড্রবে থাকা কাপড়ের নিছ থেকে ৩ হাজার ৮’শ টাকা, জুয়াড়ী মহরের কাছে থানা ১৭ হাজার, রফিকুল ইসলামের কাছে ৭ হাজার টাকাসহ প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা ছিনিয়ে নেয়। এমনকি পুলিশী অভিযানে রক্ষা পায়নি টয়লেটের রাখা ব্যবহৃত ন্যাকড়াগুলোও বলে জানিয়েছেন ওই বাড়ীর মহিলা সদস্যারা। তাস খেলার অপরাধে টাকা আদায়ে জুয়াড়ীদের আটকের তাদের শরীরের পর ঘটনাস্থলেই লাঠি দিয়ে ৮/১০বার করে প্রহার করে পুলিশ অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের অভিযানে গ্রেফতারকৃত জুয়াড়ীরা হলো, শেরপুর উপজেলার শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের সাধুবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে জুয়েল রানা(৩২), শেরুয়া রহমতপুরের মহিদুল ইসলামের ছেলে মহর আলী(৩৪), শহীদুল ইসলামের ছেলে সানোয়ার হোসেন(৩২), ধড়মোকাম গ্রামের আজিজুল বেপারীর ছেলে মোখলেছুর রহমান(৪৫), মৃত মহের আলীর ছেলে তফিজ উদ্দিন(৪৫), মৃত আজগর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম(৪৪), আব্দুস আজিজের ছেলে রফিকুল ইসলাম(৪০), ভান্ডারকাফুড়া গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে আশরাফুল(৫০), হামছায়াপুর গ্রামের মৃত জবদুল মন্ডলের ছেলে বেলাল মন্ডল(৫২), গোপালপুর গ্রামের মৃত মাজেম ফকিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন(৪০), রনবীরবালা ঘাটপার গ্রামের মো. আব্দুর রেজ্জাক হোসেনের ছেলে তুহিন (৪২), মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে আলহাজ হোসেন(৪৮)। এদিকে গ্রেফতারের পর থানায় নিয়ে এসে জুয়াড়ীদের সাথে দফারফা করতেও এস আই আতিকুর রহমান জুয়াড়িদের মধ্যে একেকজনকে ডেকে বাড়ী থেকে টাকা নিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়ে থানার মধ্যেই মারপিট শুরু করে বলে আটককৃত জুয়াড়ীরা নাম প্রকাশ না শর্তে জানান। জুয়াড়িদের কথা ও কাজে বনিবনা না হওয়ায় পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা দিয়ে চালান দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
অবশ্য পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে নগদ ৩ হাজার ৭’শ টাকা, বিভিন্ন ধরণের ডন কার্ড(তাস)সহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা নিয়ে মামলা দিলেও ঘটনাস্থল থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা আদায় এবং মারপিটের কথা অস্বীকার করেন ওই অভিযানকারী পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক আতিকুর রহমান।
এ ঘটনায় পরদিন বুধবার দুপুরে পুলিশ জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে ১৮৬৭ সালের জুয়া আইনের ৪/৬ ধারায় মামলা দায়ের করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে থানা পুলিশ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার চলমান দায়িত্বরত কর্মকর্তা (এসআই) এবাদ আলী মোল্লা জানান, আটক জুয়াড়ী পরিবার থেকে যেসব অভিযোগ উপস্থাপন করেছে, তাহা আদৌ সত্য নয়।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, শেরপুর সার্কেল গাজিউর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে জুয়া সামগ্রী উদ্ধার ও আটক ছাড়া পুলিশের আর কোন কাজ নেই। তবে জুয়াড়ীদের মারপিট, অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ পরিবারের সদস্যদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজের প্রমাণ মেলে তাহলে ওই অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রিন্ট করুন

বিভাগ: রাজশাহী,সারাদেশ